রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে ‘ফাঁকা পকেটে’ পরিণত হবে বাংলাদেশ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে ‘ফাঁকা পকেটে’ পরিণত হবে বাংলাদেশ

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো স্থাপনা সুন্দরবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ‘ফাঁকা পকেটে’ পরিণত হবে বলে জানিয়েছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি (সুরজাক)।

আজ শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘রামপাল বিদ্যুৎ বিষয়ে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন সুরজাক আহ্বায়ক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল।

তিনি বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত সুন্দরবনের কাছে ৭৪২ হেক্টর জমিতে কয়লানির্ভর এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলাভূমির পাশে নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে আন্দোলন চালিয়ে আসছি আমরা।

Sultana Kamal

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির (সুরজাক) আহ্বায়ক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল।

সুরজাক আহ্বায়ক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এ স্থাপনা বাংলাদেশকে ফাঁকা পকেটে পরিণত করবে। এ প্রকল্প বাংলাদেশকে চিরস্থায়ী ক্ষতির দিকে এগিয়ে নেবে। পুরনো প্রযুক্তিনির্ভর এ প্রকল্পরে বাস্তবায়ন হলে সুন্দরবন ও এর আশপাশের জনপদে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

লিখিত বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, রামপাল প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাবিত নাইট্রাস অক্সাইড (নক্স) নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে ৩০ বছরের পুরাতন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো। এই প্ল্যান্টে প্রতিদিন ৪২২ ঘনমিটার ভেজা কয়লার ছাই কয়লা-পুকুরে পাঠানো হবে। এই ছাইয়ে যে পানি ব্যবহার করা হবে, তাতে তৈরি হবে বিষাক্ত কয়লার কাদা।

এতে আরও বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে রামপাল প্রকল্প পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার স্থানের নদীপথ অবশ্যই ড্রেজিং করতে হবে, তাতে ৩৪ মিলিয়ন ঘনমিটার নদীর তলা খনন করা হবে। ওই নদী মাছ, কাঁকড়া ও ডলফিনের আবাসস্থল। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও নদীপথ অবারিত রাখার প্রয়োজন প্রতি বছরই নদীর তলার ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনমিটার মাটি ড্রেজিং করে সরাতে হবে। এছাড়া প্রতি বছরই প্রায় ৪ টন  পলাতক গুঁড়া বাতাস ও পানিতে মিশবে।

সংবাদ সম্মেলেন অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড.এম.এম. আকাশ, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স।

ড.এম.এম. আকাশ বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমরাও চাই। কিন্তু কয়লায় হলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। তাই বিকল্প ব্যবস্থার কথা চিন্তা করা উচিৎ। পরিবেশের ক্ষতি হবে এই বিবেচনায় শ্রীলঙ্কায় এ ধরনের প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। এলএমজি গ্যাস ব্যবহারের কথা চিন্তা করছে তারা। আমাদেরও তেমন কিছু চিন্তা করা উচিৎ। কারণ চাইলেই আরেকটি সুন্দরবন তৈরি করা যাবে না।

অর্থসূচক/আমজাদ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ