গৃহস্থালি কাজে পুরুষের তুলনায় ৪০% বেশি শ্রম দেয় নারী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

গৃহস্থালি কাজে পুরুষের তুলনায় ৪০% বেশি শ্রম দেয় নারী

গৃহস্থালি কাজে পুরুষদের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি সময় ও শ্রম দেয় নারীরা। তবে তাদের এ শ্রম অর্থনৈতিক মাপমাঠিতে হিসাব করা হয় না।

গৃহস্থালি শ্রম বিষয়ক জরিপের ভিত্তিতে ইউনিসেফ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী শুধু গৃহস্থালি কাজে প্রতিদিন ১৬ কোটি ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় করা হয়। প্রতি ৩ জন মেয়ের মধ্যে ২ জনই গৃহস্থালি কাজে সময় দেয়। পানি ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্যই মেয়েদের অনেক শ্রম ও সময় দিতে হয়। এছাড়া রান্না এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজেও অনেক সময় ও শ্রম দেয় মেয়েরা।

domestic-child-labour

গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত মেয়ে শিশু।

এতে আরও বলা হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের কাজের পরিধিও বাড়তে থাকে। গৃহস্থালির দৃশ্যমান কাজের পাশাপাশি কম দৃশ্যমান কাজেও অনেক সময় ও শ্রম দেন নারীরা। পরিবারের শিশু এবং বৃদ্ধদের দেখাশোনার কাজটাও নারীদেরই করতে হয়।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, পানি ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের কাজে নারীরা ঘরের বাইরে গেলে ইভটিজিংয়ের ঘটনাও ঘটে।

এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী মেয়ে শিশুদের দিনের ৩০ শতাংশ সময় ঘরের টুকিটাকি কাজে ব্যয় করতে হয়। ৯ থেকে ১৪ বছর বসয়ী মেয়েরা দিনের ৫০ শতাংশ সময় গৃহস্থালি কাজে ব্যয় করে। অর্থাৎ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাজের পরিমাণ এবং চাপ বাড়তে থাকে।

ইউনিসেফের পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে, সোমালিয়াতে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েরা সপ্তাহে ২৬ ঘণ্টার বেশি সময় গৃহস্থালি কাজে ব্যয় করে। বুরকিনা ফাসো এবং ইয়েমেনসহ পশ্চিম আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে মেয়ে শিশুদের শ্রম দেওয়ার চিত্রটা অনেকটা একই রকম।

domestic-labour

রান্নার কাজে ব্যস্ত নারী।

ইউনিসেফের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের প্রধান উপদেষ্টা আঞ্জু মালহোত্রা বলেন, সোমালিয়া, বুরকিনা ফাসো, ইয়েমেনের মতো দেশগুলোতে পড়া-লেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মেয়েরা। একইসঙ্গে স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা এবং শৈশবের আনন্দ থেকেও তারা বঞ্চিত। শৈশবকালের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো তাদের কাজের মধ্যে হারিয়ে যায়।

সন্ত্রাসী, বাল্য বিবাহ, মহিলাদের যৌন অঙ্গহানী ও শিক্ষা প্রসঙ্গে ইউনিসেফ তৈরি আরেকটি প্রতিবেদন আগামী ১১ অক্টোবর জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব কন্যা শিশু দিবসে প্রকাশ করা হবে।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ