কৃত্রিম প্রজননে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়ে!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কৃত্রিম প্রজননে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়ে!

কৃত্রিম প্রজননে জন্ম নেওয়া পুত্র সন্তানের উর্বরতা কম থাকে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন ফল পাওয়ার দাবি করেছেন বেলজিয়ামের একদল গবেষক। এর প্রাথমিক কারণ হিসেবে পিতার শুক্রাণু দান করার দিকেই আঙ্গুল তুলছেন তারা। অর্থাৎ পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের মাত্রা তাদের বাবার কাছ থেকেই পেয়ে থাকে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

সাধারণত বন্ধ্যা কিংবা প্রজননে কম সক্ষম পুরুষদের শুক্রাণু নিয়ে আলাদাভাবে ডিম্বাণু নিষিক্ত করার পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশু টেস্ট টিউব বেবি নামে পরিচিত। প্রজননে কম সক্ষম পুরুষদের বীর্য থেকে সক্ষম; কিন্তু দুর্বল ও ধীরগতির শুক্রাণু বাছাইয়ের পর ক্রমান্বয়ে ভ্রুণ তৈরি করে এ শিশুর জন্ম দেওয়া হয়। ১৯৯০ সালের পর থেকে এ পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

কৃত্রিম প্রজনন।

কৃত্রিম প্রজনন।

বেলজিয়ামের ব্রাসেলস বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষক দলের সদস্যরা জানান, কৃত্রিমভাবে জন্ম নেওয়া  ১৮ থেকে ২২ বছরের ৫৪ জন পুরুষের উপর গবেষণা চালানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়া পুরুষের বীর্যের তুলনায় কৃত্রিম পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া পুরুষের বীর্যে স্বাভাবিকের চেয়েও কম শুক্রাণু পাওয়া গেছে। সেগুলো স্বাভাবিক শুক্রাণুর মতোই চটপটে এবং তরলে সাঁতার কাটতে সক্ষম। তবে এ শুক্রাণুর ঘনত্ব স্বাভাবিক শুক্রাণুর ঘনত্বের তিন ভাগের এক ভাগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক শুক্রাণুর ঘনত্বের মাত্রা প্রতি মিলিলিটারে ১ কোটি ৫০ লাখ।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক অন্দ্রে ভন স্তেইরতেঘেম বলেন, জিনগত কারণে পুরুষ বন্ধ্যা হতে পারে। যেহেতু উর্বরতা বিষয়ে লং-হেল্ড তত্ত্বের উপর এটাই প্রথম পরীক্ষা, তাই এই বন্ধ্যাত্বের ব্যাপারে আরও অনেক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারাণা করা হচ্ছে।

এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ স্বাস্থ্য ও পুনরুৎপাদন গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক রিচার্ড শার্প বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষদের বন্ধ্যাত্বকে ব্যাখ্যা করা যায় না। সাধারণত একে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া হয় বলেই ব্যাখ্যা করা হয়। ২০ বছর আগে কৃত্রিমভাবে প্রজনন করানো দম্পতিদের জানানো হয়েছিল, তাদের সন্তানদেরও এরকম সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু তারা সন্তান নিতে মরিয়া ছিল।

তিনি আরও বলেন, সব ক্ষেত্রেই যে একই রকম ফল পাওয়া যাবে তা স্পষ্ট করে বলা ঠিক হবে না।

অন্যদিকে বেলজিয়ামের গবেষকদের গবেষণা থেকে পাওয়া ফলকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের গবেষকরা। তারা বলেন, এমনটা ঘটার কোনো সম্ভাবনা থাকতে পারে না।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার মাত্রা অনেক বেশি। শুধু ২০১৩ সালেই প্রায় ৩৭ হাজার ৫৬৬টি ভ্রুণ তৈরি করা হয়েছে সেখানে; যার অর্ধেকই টেস্ট টিউব বেবি হিসেবে স্থানান্তরিত।

সূত্র: বিবিসি

কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ