আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ৪০১ দিনের দৌড়!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ৪০১ দিনের দৌড়!

রবার্ট জেমেকিসের পরিচালনায় ‘ফরেস্ট গাম্প (১৯৯৪)’ চলচ্চিত্রটি যারা দেখেছেন তারা জানেন মূল চরিত্র ফরেস্ট গাম্প (টম হ্যাংকস) হঠাৎ নিজেকে একা বোধ করতে শুরু করেন। নিজের একাকীত্ব কাটাতে কোনো উপায় না পেয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। টানা ৩ বছর ২ মাস ১৪ দিন দৌড়ানোর পর তার মুখ থেকে প্রথম কথা বের হয় ‘আমি ক্লান্ত, বাড়ি যাবো।’

আর ইংল্যান্ডের বেন স্মিথ ১ বছর ধরে দৌড়াচ্ছেন নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে। সেই সাথে একটি মহৎ উদ্দেশ্যও আছে তার, দাতব্য তহবিল সংগ্রহ। প্রতিদিন ২৬ মাইল ৩৮৫ গজের একটা ম্যারাথন দৌড়। স্কুলে পড়াকালীন অবস্থায় একবার সহপাঠীদের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী স্মিথ।  ফলে নিজের উপর আত্মবিশ্বাসটা অনেকখানিই হারিয়ে গিয়েছিলো তার। হতাশায় একবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন ১৮ বছর বয়সে। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। কিন্তু মনে মনে শপথ করেন যদি কোনোদিন সুযোগ আসে তাহলে হয়রানির শিকার হয়ে আত্মবিশ্বাস খুইয়ে ফেলা হতভাগ্য লোকদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবেন। তাই নিজের ব্যতিক্রম কিছু করতে দৌড়ের মতো পথ খুঁজে নেন তিনি।

আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর লক্ষ্যে দৌড়ে ১০ হাজার ৫০৬ দশমিক ২ মাইল পাড়ি দিয়েছেন বেন স্মিথ।

আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর লক্ষ্যে দৌড়ে ১০ হাজার ৫০৬ দশমিক ২ মাইল পাড়ি দিয়েছেন বেন স্মিথ।

গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে মোট ৪০১ দিনের ম্যারাথন দৌড় শুরু করেন স্মিথ। প্রথম ২৮৪ দিন কোন বিরতি ছাড়াই লক্ষ্যপূরণ করতে পেরেছেন । তবে এর পর হার্নিয়ার কারণে ১০ দিনের একটি বিরতি পড়ে যায়। তবে সুস্থ হয়ে আবার দৌড় শুরু করেন। যে কয়দিন দৌড়াতে পারেননি এখন প্রতিদিনের ম্যারাথনের সাথে যোগ করে নিয়েছেন তিনি। হিসেব করে দেখেছেন স্মিথ, তাকে আড়াই মাইল বেশি দৌড়াতে হচ্ছে আরকি !

৪০১ দিনের ম্যারাথনের লক্ষ্যমাত্রায় মোট দৌড়েছেন ১০ হাজার ৫০৬ দশমিক ২ মাইল পথ। যদি কোনো পথ ধরে দৌড়াতেন এই দূরত্ব অতিক্রম করে অনায়াসে  লন্ডন থেকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পৌঁছে যেতে পারতেন। ম্যারাথন দৌড়ের তহবিল সংগ্রহের জায়গায় এ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৬৩ হাজার পাউন্ড (১ কোটি ৬২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রায়) সংগ্রহ করেছেন।

গতকাল বুধবার তার ম্যারাথন শেষ হয়েছে। আর  তার ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে তাঁর শেষ দিনের ম্যারাথন দৌড়ে সঙ্গী হিসেবে যোগ দেন আরও সাড়ে ৩শ মানুষ।

সূত্র: বিবিসি

কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ