‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি মন্ত্রণালয়ের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি মন্ত্রণালয়ের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত’

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ঘোষণা অনুযায়ী ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এ.এম. বদরুদ্দোজা।

আজ রোববার রাজধানীর খাদ্য ভবনে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের (আরসি ফুড) সঙ্গে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

এ.এম. বদরুদ্দোজা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্যবান্ধব এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার পিছু ফিরে তাকানো যাবে না।

তিনি বলেন, এটা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব কর্মসূচি; যা আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। এ কর্মসূচিতে ব্যর্থ হলে আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। সুতরাং ব্যর্থ হওয়ার কোনো প্রশ্ন যেন না আসে- সে ব্যাপারে সবাইবে সজাগ থাকতে হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, সমালোচকরা সব সময় সমালোচনা করবেই। তবে তালিকা, বণ্টন এবং ডিলার প্রণয়নসহ সব কাজ ঠিকভাবে করতে পারলে আর কেউ সমালোচনা করতে পারবে না।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) কর্মকর্তারা তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

10-taka-rice

কেজি প্রতি ১০ টাকা দরে চাল বিক্রি কর্মসূচির আওতায় কার্ড পাওয়া কয়েকজন।

খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) কাজী নুরুল ইসলাম বলেন, আমার এলাকার ২০ শতাংশ হতদরিদ্রদের এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে যথাযথ প্রচারণা চালিয়ে এই কর্মসূচি সফল করতে হবে। এ কর্মসূচিকে ৫ মাস থেকে উন্নীত করে ৮ মাসে রুপান্তরের আহ্বান জানান তিনি।

সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) আনিসুজ্জামান বলেন, এই কর্মসূচির সেবা বৃদ্ধির তালিকা বাড়াতে হবে। ১ কোটি থেকে কমিয়ে ৫০ লাখ পরিবারের তালিকা করায় অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। সুতরাং তালিকা বাড়ানো দরকার।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) আব্দুল কাদির বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন অর্থাৎ শুক্র ও শনিবার এ কর্মসূচির দিন ধার্য করায় যথাযথ তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং এ কর্মসূচির জন্য সময়ের পরিবর্তন করা দরকার।

এছাড়া কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনবলের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন জেলা পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা।

তাদের এসব সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে খাদ্য বিভাগের মহাপরিচালক মো. বদরুল হাসান বলেন, সমস্যা থাকবেই; তবে সেটা আমাদেরকেই সমাধান করতে হবে। খুব শিগগির ৬০-৭০ জন নতুন পরিদর্শক নিয়োগের চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির জন্য সেপ্টম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, মার্চ ও এপ্রিল মাস নির্ধারণ করা হলেও তালিকার কাজ এখনও শেষ হয়নি। ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে।

খাদ্য বিভাগের মহাপরিচালক বলেন, ৩০ কেজি ওজনের বিশেষ বস্তা তৈরি করা হবে। আর সে জন্য ৬৪টি জেলাতেই ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের চিলমারী থানাহাট এ.ইউ. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ