পুঁজিবাজার বদলে দিতে পারে অর্থনীতির চিত্রঃ অর্থসূচক সম্পাদক
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
পুঁজিবাজারের ব্র্যান্ডিংয়ে নভেম্বরে ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো

পুঁজিবাজার বদলে দিতে পারে অর্থনীতির চিত্রঃ অর্থসূচক সম্পাদক

দেশের পুঁজিবাজারকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এর মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতির চিত্র বদলে দেওয়া সম্ভব। শিল্পের সম্প্রসারণ ছাড়াও বড়  বড় সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পুঁজিবাজার থেকে সহজেই অর্থ সংগ্রহ করার সুযোগ আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ক দেশের প্রথম অনলাইন নিউজপোর্টাল অর্থসূচকের সম্পাদক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক জিয়াউর রহমান এ কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ব্যবসাপাতি সারাদিন অনুষ্ঠানে অতিথি আলোচক হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

জিয়াউর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারের বিকাশের জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে হবে। এখানে এই বাজার নিয়ে নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি আছে। অনেকে মনে করেন,  পুঁজিবাজার একটা গেমলিং এর জায়গা। কেউ কেউ মনে করেন, এই যারা শেয়ার কেনাবেচা করেন শুধু তাদেরই লাভবান হওয়ার ব্যাপার। অর্থনীতিতে বোধহয় পুঁজিবাজার কোনো অবদান রাখে না। কিন্তু এর কোনোটাই সত্য নয়। পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পাপরলে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে।

পুঁজিবাজার সম্পর্কে ভুল ধারণা ভাঙ্গানো আর সচেতনতা বাড়াতে অর্থসূচকের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো..বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে রাখা হবে বিভিন্ন বিষয়ের উপর সেমিনার

পুঁজিবাজার সম্পর্কিত ভুল ধারণা ভাঙ্গানো, বাজারের নতুন ব্র্যান্ডিং এবং সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অর্থসূচক বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো ২০১৬ এর আয়োজন করেছে। আগামী নভেম্বর মাসে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে (আইডিইবি ভবন) এই এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে। এতে মার্চেন্ট ব্যাংক, স্টক ব্রোকার, অ্যাসেট ম্যানেজার, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি ফার্ম, লিস্টেড কোম্পানিসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার অংশ নেবে। এছাড়াও এক্সপোতে অনুষ্ঠিত হবে একাধিক সেমিনার ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান।

গত বছর প্রথমবারের মতো ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান তিনি। এটি ব্যাপক সাড়া জাগায়। তিনি বলেন, তারা আশা করছেন এবারের এক্সপোর পরিসর হবে গত বছরের চেয়ে বড়। আরও বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেবে। আরও সমৃদ্ধ সেমিনার হবে, যেখানে দেশের সেরা রিসোর্সপারসনরা অংশ নেবেন। থাকবে নানা প্রকাশনা।

অর্থসূচক সম্পাদক বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপোর মতো আয়োজন পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে তারা মনে করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কিছু ইস্যু নিয়ে পুঁজিবাজারে চরম উদ্বেগ ও অস্থিরতা বিরাজ করছিল। ঠিক ওই সময়ে ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো উদ্বোধন করতে এসে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ ব্যাংককে পুঁজিবাজারবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানান। এতে সাড়াও মেলে। এক্সপোর পরের মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু নীতিমালায় পরিবর্তন আনে। ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের (Subsidiary Company) পরিশোধিত মূলধনকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের হিসাব (Capital Market Exposure) থেকে বাইরে রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিশ্লেষক জিয়াউর রহমান বলেন, সিঙ্গাপুর, হংকং ও মালয়েশিয়া তাদের পুঁজিবাজারকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী অর্থনীতিতে, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশেরও এমন সুযোগ রয়েছে।

পুঁজিবাজার থেকে অর্থ নিয়ে বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ করলে দাতাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। এতে আমাদের মধ্যে আরও বেশী আত্মমর্যাদা বোধ তৈরি হবে। বিশ্বেও আমাদের মর্যাদা বাড়বে

তিনি বলেন, সরকারের উচিত শুধু দাতাদের দিকে তাকিয়ে না থেকে দেশীয় সম্পদের মাধ্যমে বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা। আর এ ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার হতে পারে সবচেয়ে সহায়ক। বিশ্বব্যাংকসহ কোনো দাতা সংস্থার কাছ থেকে সহায়তা না নিয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থে সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে। আর এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে দাতা সহায়তা ছাড়াও আমাদের পক্ষে এমন উন্নয়ন করা সম্ভব। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ নিয়ে বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ করলে দাতাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না, তাদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করে সময় নষ্ট করতে হবে না। এতে আমাদের মধ্যে আরও বেশী আত্মমর্যাদা বোধ তৈরি হবে। বিশ্বে আমাদের মর্যাদা বাড়বে, আরও বেশী সমীহ করবে আমাদের।

তিনি বলেন, বন্ড থেকে টাকা সংগ্রহ করলে যদি সুদ একটু বেশিও দিতে হয়, তাতেও ক্ষতি নেই। কারণ এই বাড়তি অর্থ দেশের জনগণই পাবে, তা দেশের ভেতরেই থাকবে।

অর্থসূচক সম্পাদক বলেন, বড় বড় অবকাঠামোতে অর্থায়নের জন্য শুধু ইক্যুইটি মার্কেটের পাশাপাশি একটি কার্যকর বন্ড মার্কেট গড়ে তুলতে হবে। গত দুই/তিন বছরে কয়েকটি বড় বড় শিল্পোগোষ্ঠি বন্ড ছেড়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে। কিন্তু এসব বন্ড স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয়। তাই বন্ড ক্রেতা চাইলেই মেয়াদের আগে সহজে তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে পারেন না। তাই এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কম। তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারী চাইলে যে কোনো সময় তার বন্ড বিক্রি করে দিয়ে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিতে পারবে। এই নমনীয়তা বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করবে।

তাছাড়া পুঁজিবাজারের বিকাশের জন্যেও কার্যকর বন্ড মার্কেট দরকার। তাতে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের বিকল্প ইনস্ট্রুমেন্ট পাবেন। কোনো কারণে ইক্যুইটি (শেয়ার) মার্কেটে মন্দা দেখা দিলে বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ সেখান থেকে টাকা তুলে নিয়ে বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন। আবার ইক্যুইটি মার্কেটে গতি সঞ্চারের সম্ভাবনা দেখলে বন্ড বেচে ওই টাকা ইক্যুইটি মার্কেটে নিয়ে যেতে পারবেন। তাতে শেয়ারবাজারের টাকা সহজে বাইরে যাবে না। অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহ বাড়বে আমাদের বাজার সম্পর্কে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ