ঘরের ভেতর বন চাই? আছে বনসাই
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ঘরের ভেতর বন চাই? আছে বনসাই

‘ইটের উপর ইট, তার ভেতরে কীট’ রবি ঠাকুরের এই বাণীটিই বলে দেয় যে আমরা কতোটুকু নগর ভিত্তিক হয়ে পড়েছি। তাই এ যান্ত্রিক জীবনে শহুরে-ইট-কংক্রিটের  স্থাপনার মধ্যে হঠাৎ এক টুকরো সবুজের উপস্থিতি যেন প্রশান্তির পরশ এনে দেয়। ছোট বাসার অল্প জায়গায় সহজ পদ্ধতিতে যদি নিজের হাতে কিছু গাছ লাগানো যায় তবে প্রাণের স্পন্দনের সাথে আত্মতৃপ্তিও বেড়ে যায়। তাই এজন্য বনসাই নামে পরিচিত শিল্পকর্মটির কদর  প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে যেনো একটু বেশিই। মূল গাছের সব বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রেখে একটি ছোট পাত্রে বৃক্ষজাতীয় গাছের ক্ষুদ্র সংস্করণ গড়ে তোলার কাজকেই বনসাই শিল্প বলে।

‘বনসাই’ শব্দটি চীনা শব্দ ‘পেনজাই’ থেকে উৎপন্ন।

‘বনসাই’ শব্দটি চীনা শব্দ ‘পেনজাই’ থেকে উৎপন্ন।

চীনা শব্দ ‘পেনজাই’ থেকে ‘বনসাই’ শব্দের উৎপত্তি। বহু বছর আগে চীন দেশে এই শিল্পের সূচনা হলেও পরবর্তী সময়ে এটি জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনামসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত হয়। আজকাল শৌখিনতার পাশাপাশি ঘর সাজাতে এবং অন্যান্য ঘরোয়া সাজসজ্জার কাজে বনসাই  ব্যবহার করা হয়।

বনসাই এর উপযুক্ত গাছগুলো

যেখানে বা যেদেশে বনসাই করা হবে সে স্থানের আবহাওয়া উপযোগী হতে হয়। যে সকল গাছের বৃদ্ধি ধীরে ধীরে হয়, বয়স বাড়লে গাছের কাণ্ড ও বাকল মোটা হয় , বছরে একবার পাতা ঝরে।  বাংলাদেশে বনসাই করা যেতে পারে এমন গাছগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নেয়া যেতে পারে।  যেমন, কাঠ জাতীয় উদ্ভিদ বট, দেবদারু, অর্জুন, জারুল ইত্যাদি রাখা যায়।  ফুলের মধ্যে বকুল,কামিনী, শেফালী, বেলী ইত্যাদি ছাড়াও হাসনাহেনা, জবা,স্থলপদ্ম রাখা যায়।  আর ফলজাতীয় গাছের মধ্যে ডালিম,কামরাঙ্গা, আমলকি, জাম্বুরা ইত্যাদি রাখা যায়। তবে তুলসি, নিম ইত্যাদি ঔষধি গাছেরও বনসাই করা যায়।

 বনসাই করা একটি ফুলগাছ।

বনসাই করা একটি ফুলগাছ।

তবে যে গাছটি দিয়ে বনসাই করবেন তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য গুলো ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। যেহেতু বনসাই তৈরী করা একটি দীর্ঘ সময়ের সৃষ্টি কর্ম তাই  কিছুদিন বৃদ্ধির পর গাছটির জন্য উপযুক্ত আকৃতি নির্ধারণ করে গাছটির লতা গুলো পেঁচিয়ে একটি নির্দিষ্ট আকৃতিতে এনে অবাঞ্চিত ডাল-পালা গুলি ছেঁটে দিতে হবে।

বিভিন্ন বনসাই প্রদর্শনী মেলা, কৃষিমেলা, এমনকি বনসাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেও আপনি বনসাই সংগ্রহ করতে পারেন। বর্তমানে বিভিন্ন গাছের বনসাই আজকাল নার্সারিতে  কিনতে পাওয়া যায়। তবে বনসাইয়ের দাম নির্ভর করে গাছের বয়স ও গঠনের উপর। তবে মোটামুটি একটি ভালো মানের বনসাই কিনতে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বাজেট রাখতে হবে।  তবে যে ভাবেই আপনি বনসাই কিনুন না কেন সবার আগে এই শিল্পকর্মটির পরিচর্যার  কৌশল সম্পর্কে জানতে হবে ভালোভাবে।

বনসাইয়ের পরিচর্যা করতে হবে সতর্কতার সাথে।

বনসাইয়ের পরিচর্যা করতে হবে সতর্কতার সাথে।

বনসাইয়ের পরিচর্যা

একটু আন্তরিকতাপূর্ণ দেখাশোনার মাধ্যমে  আপনার বনসাইটি আরও সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারেন। বনসাই পরিচর্যার ব্যাপারে বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি থেকে জানা যায় এই তথ্যগুলো।

১. গাছটিকে নিয়মিত কালো মাটি, বালু, ইটের চূর্ন, সরিষা বা নীলের খোসা দিতে হবে।

২. অতিরিক্ত পানিবদ্ধতা এবং রোদ দুটোই বনসাই এর জন্য ক্ষতিকর।

৩. বনসাই ময়লা ও ধূলাবালি মুক্ত রাখতে পানি দিয়ে পাতা এবং ডাল মুছে দিতে হবে।

৪. টবের মাটিতে পোকামাকড় কিংবা ছত্রাক যাতে না হয় সেজন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শে সঠিক সময় সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।

৫. নির্ধারিত আকৃতি ঠিক করতে নির্ধারিত ডালপালা যত্ন নিয়ে ছাঁটাই করতে হবে।

৬. প্রতি এক বছর অন্তর টবের মাটি পরিবর্তন করতে হবে।

৭. অতিরিক্ত সার বা তরল স্প্রে করা যাবে না।

৮. বনসাই পরিচর্যার জন্য নির্ধারিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।

৯. প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ কিংবা অভিজ্ঞ লোকের সাথে আলাপ-আলোচনা করতে হবে।

বনসাই প্রশিক্ষণ সেন্টার

বনসাই তৈরী করা কিংবা পরিচর্যার জন্য আপনি স্বল্প সময়ের একটি প্রশিক্ষণও নিতে পারেন।  বাংলাদেশে বনসাই সোসাইটি সহ এজন্য ধানমন্ডি ও উত্তরার বিভিন্ন নার্সারিতে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটির ঠিকানা ;

১৪১/৪ আবেদ ঢালী রোড (নিচতলা),

কলাবাগান, ঢাকা।

ফোন : ০১৭১১৩৪৮৮৪৬

তাবাচ্ছুম /মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ