ভিড় বাড়ছে চট্টগ্রামের ব্রোকারেজ হাউজে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভিড় বাড়ছে চট্টগ্রামের ব্রোকারেজ হাউজে

দেশের দুই পুঁজিবাজারের লেনদেন এখন ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েকদিন ধরে লেনদেন ও সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারার কারণে আবারও পুঁজিবাজারে ফিরতে শুরু করেছেন চট্টগ্রামের বিনিয়োগকারীরা। কিছুদিন আগেও অনেকটা খালি পড়ে থাকা নগরীর ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে ভিড় আবারও বাড়ছে। বাজারের ঊর্ধ্বমুখিতায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মনে।

গতকাল মঙ্গলবার এবং আজ বুধবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন সিকিউরিটিজ হাউজের পরিচালক, বিনিয়োগকারী এবং বাজার বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন সিকিউরিটি হাউজের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বেশ বেড়েছে। যারা অনেকদিন পুঁজিবাজারের বাইরে ছিলেন, তারা আবারও বাজারে ফিরে আসার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। পুঁজিবাজারে লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখিতার কারণে আবারও নতুন করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা। এতে সক্রিয় হচ্ছে চট্টগ্রামের পুঁজিবাজার। সমগ্র পুঁজিবাজারের জন্য বেশ ইতিবাচক দিক এটি।

chittagong-stock-exchange

চট্টগ্রামের একটি ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগকারীদের ভিড়।

চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজ বি রিচের প্রধান অপারেশন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার সাদাত মিঠু অর্থসূচককে বলেন, বাজারের বর্তমান অবস্থা চট্টগ্রামের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পুরনো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যারা দীর্ঘদিন বাজারের বাইরে ছিলেন তারা আমাদের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করছেন। বাজারে ফেরার জন্য আমরাও তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি। অনেকেই নতুন বিনিয়োগের কথাও জানিয়েছেন। এটি পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা বয়ে আনবে।

ব্রাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মাদ মঞ্জুরুল আলম বলেন, বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারের অবস্থা বেশ ইতিবাচক। ২০১০ সালের পর যারা পুঁচিবাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তারা আবারও বাজারে ফিরছেন। এভাবে লেনদেন চলতে থাকলে বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা শেয়ার কেনার আগে সব খোঁজ-খবর নিন। অনেকেই শেয়ার কেনেন আর বিক্রি করেন। তারা শেয়ারের ভালো-খারাপ বোঝেন না। এভাবে শেয়ার বাজারের উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করলেই বাজারের উত্থান সম্ভব।

বিনিয়োগকারী মো. মাজারুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি বাজারের টার্ন ওভার বেড়েছে। আইপিওতে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। বেশকিছু দিন ধরে লেনদেন ও সূচক ইতিবাচক। যারা পুঁজিবাজার ছেড়ে দিয়েছেন, তারা ফিরলে বাজার আরও গতিশীল হবে। এছাড়া সিএসই, ডিএসই এবং সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন থেকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হলে পুজিবাজারের শক্ত অবস্থানের তৈরি হবে।

সুমন বড়ুয়া নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ২০১০ সালে অনেক অর্থ হারিয়েছি। সম্প্রতি বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। বাজার এখন যে অবস্থানে আছে, তা অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীরা আবারও বাজারে ফিরবেন। পুঁজিবাজারের পুরনো রূপ ফিরে পেতে আমরা আশাবাদী।

তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলেছেন, চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারের গতি ফেরাতে হলে সিএসই, ডিএসই এবং সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের তদারকি আরও বাড়াতে হবে। বাজার থেকে ছিটকে পড়া বিনিয়োগকারীদের ফেরাতে নতুন পরিকল্পনা নিতে হবে। একইসঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারী সংযুক্তকরণে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তারা জানান, বর্তমান পুঁজিবাজারের অবস্থাকে ধরে রেখে বাজারকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে। বাজার নিম্নমুখী হতে পারে- এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।

এছাড়া সরকারের কাছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) দেওয়া স্বল্প সুদে ৬ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনের প্রস্তাবের বাস্তবায়ন হলে বিনিয়োগকারীরা নতুন উদ্যমে বাজারমুখী হবেন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ