দক্ষিণ এশিয়ায় বিয়ের নামে বাড়ছে প্রবাসীদের প্রতারণা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ এশিয়ায় বিয়ের নামে বাড়ছে প্রবাসীদের প্রতারণা

পাঞ্জাবের সুনীতা (ছদ্মনাম)। বিয়ে নিয়ে আর আট-দশটা নারীর মতো তারও স্বপ্ন ছিলো। শত শত অতিথির মাঝে লাল পোশাক পরে কোনো এক রাজকুমারের সাথে গাঁটছড়া বাঁধবেন। তেমনটা হয়েছিলোও। নগদ অর্থ , আসবাবপত্র ও মোটা উপঢৌকনের বিনিময়ে  ইংল্যান্ড প্রবাসী এক ছেলের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়েতে সারাদিন সাধ মিটিয়ে ছবিও তোলেন তারা।

সুনীতা বলেন, ‘সব কিছুই ঠিক ছিলো, বিয়ের পর এক মাসের মতো সে আমার সাথে ছিলো । দিনগুলো যেনো স্বপ্নের মতোই মনে হচ্ছিলো।  এরপর সে ইংল্যান্ড চলে যায়। কথা ছিলো পরেরবার আমাকে নিয়ে যাবে। প্রায় একবছরের মতো হতে চললো,সে ফিরে আসেনি। আমি তাকে বারবার বলেছি কবে আসবে কিন্তু আজকাল করে সময়ক্ষেপন করছে’।_91384312_henna2

এমনকি সুনীতা যখন শ্বশুরবাড়িতে তার না আসার কারণ জিজ্ঞেস করে তারা উলটো তারা সুনীতাকেই দোষারোপ দিয়ে শারিরীক ভাবে নির্যাতন করেছে।

এখন সুনীতার সাথে কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছে। কিছুদিন আগে শুনেছে সে ওখানকার এক নারীকে বিয়ে করেছে। লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই তথ্য উদঘাটন করেছেন।

শুধু ভারতে নয় এরকম ঘটনা ঘটে চলেছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু দেশে।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং এরকম উন্নত দেশগুলিতে বসবাস করা  প্রবাসীরা  মোটা উপঢৌকন নিয়ে বিয়ে করে পরে আর ফিরে আসে না। গড়ে প্রতিটি পরিবার থেকে বিয়ের সময় ছেলে পক্ষকে ৩ হাজার ইউরো নগদ সহ প্রায় ৪ হাজার ইউরো স্বর্ণালংকার দেওয়া হয় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিয়ে করার পরই দুর্ব্যবহার ও ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়। এমনকি বিয়ের পর তারা পারিবারিক বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হওয়ার পাশাপাশি নারীদেরকে ঘরের দাসী হিসেবে ব্যবহার করছে।

আবার কিছু ক্ষেত্রে কিছু নারীদেরকে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য নিজেদের কাছে নিয়ে রাখলেও পরে আবার  কোনো এক ছুটিতে তাদের নিজ দেশে রেখে যান , আবার কখনো পাসপোর্টও নিয়ে যান ।

আবার অনেকেই নিজেদের সাথে ঘটে যাওয়া এই ব্যাপার গুলোকে গোপন রেখে দেন। গবেষকরা শুধু মাত্র ৫৭ জন নারীকে পেয়েছেন যারা তাদের সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা তাদেরকে বলেছেন।

যুক্তরাজ্যের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও রাজনীতি বিজ্ঞানের ডঃ সুন্দারি অনিথা জানান, অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েটির সাথে জোর করে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। অনেকেই এতে না চাইতেও সন্তানের মা হয় ।

‘এই কলংকের গুরুভার অনেক। এটি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপরও গড়ায়। যদি ওই পরিবারে কোনো মেয়ে থাকে তাহলে তার বিয়ে দিতেও সমস্যা হয়। নির্যাতিতা নারীকে সমাজের চোখে নষ্ট হয়ে যাওয়া উপাদানের মতই দেখা  হয়। ‘

এই গবেষণাটির সাথে জড়িত একজন প্রজ্ঞা প্যাটেল জানান, এই ধরণের কার্যকলাপ গুলো ওই ধরণের পুরুষদের কাছে ব্যবসার মতো। আমার মনে হয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর এই ব্যাপারে নজর প্রদান করা উচিত।

কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ