আত্নবিশ্বাস বাড়বে যেভাবে...
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আত্নবিশ্বাস বাড়বে যেভাবে…

সাফল্য নামের সুখ পাখিটাকে ধরতে গেলে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। শুধু ধৈর্য আর শ্রমের মাধ্যমে জীবনে অভিষ্ট্য লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এর জন্য দরকার হয় নিজের আত্নবিশ্বাসও। আবার অনেক সময় কেবল নিজের আত্নবিশ্বাসের জোরেই যে কোনো কাজে সফল হওয়া সম্ভব হয়। অন্যথায় জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। কাজেই ধৈর্য ও শ্রমের পাশাপাশি নিজের আত্নবিশ্বাসও সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ।i can

তাই অর্থসূচকের পক্ষ থেকে এবারের আয়োজন আত্নবিশ্বাস বাড়ানোর ১০ উপায়:

১. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন:

কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমেই আপনার দিন শুরু করুন। খুব ছোটখাটো বিষয়েও আপনি আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন (যেমন এটা হতে পারে ছোট কোনো উপহার, কিংবা কারো প্রশংসা )। আপনি যদি দিনের শুরুতেই এসব বিষয় আপনার দৃষ্টিভঙ্গীতে প্রবেশ করাতে পারেন, তাহলে তা নিঃসন্দেহে আপনার সারা দিনের কার্যক্রমে ভালো প্রভাব ফেলবে। সেই সাথে আপনার মনে হবে, দিনটি আপনার ভালই যাবে। বাস্তবেও তাই ঘটে থাকে।

২. উত্থান-পতনের জন্য প্রস্তুত থাকুন:

কাজে ব্যর্থতাই আমাদের আত্নবিশ্বাস নষ্ট করার জন্য দায়ী। সেক্ষেত্রে হাল ছেড়ে দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। আবারও নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করুন। কারণ একটি কাজে যখন আমরা ব্যর্থ হয় তখন একটু চিন্তা করলেই আমরা আমাদের ব্যর্থতার কারণগুলো খুব ভালভাবে ধরতে পারি। আর ব্যর্থতাগুলো থেকেই আমরা আমাদের জীবনকে ভালভাবে বোঝার শিক্ষা নিতে পারি। জীবনে যত বেশি উত্থান-পতন ঘটবে, মনে রাখবেন, আপনার লক্ষ্য ততই নিকটে। আর এতে করে আপনার আত্মবিশ্বাস আবারও নতুন করে গড়ে উঠবে।

৩. পরামর্শদাতার সন্ধান করুন:

যে কোনো কাজেই সফল হতে চাইলে অবশ্যই একজনকে আদর্শ মানতে হয়। কারণ নিজে নিজে সব ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন পরামর্শদাতাই আপনাকে সঠিক পথের সন্ধান দিবে। তাই আগেই একজন পরামর্শদাতার খোঁজ করুন। কারণ পরামর্শদাতার পরামর্শই আপনার আত্নবিশ্বাসকে বাড়াতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।

৪. আদর্শ সঙ্গী বাছাই করুন:

জীবনে চলার পথে অনেক মানুষের সাথেই মিশতে হয়। সেক্ষেত্রে আদর্শ সঙ্গী বাছাই করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কারণ কিছু লোকের নেতিবাচক কথাবার্তা আপনার আত্নবিশ্বাসকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই আগে থেকেই সাবধান হোন। যেসব মানুষ আপনাকে উৎসাহ দেয় এবং উচ্চ স্থানে যেতে উৎসাহিত করে তাদের সঙ্গে সবসময় চলাফেরা করুন। তাতে বরং আপনার আত্নবিশ্বাসের ঘাটতি হবে না।

৫. প্রতিদিন অন্তত একবার নিজের গণ্ডীর বাইরে যান:

প্রতিদিন অন্তত একবার নিজের গণ্ডীর বাইরে বের হলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। কারণ জ্ঞাণের পরিধি যত বেশি সমৃদ্ধ হবে আপনার আত্নবিশ্বাসই নিজে থেকে ততটাই বেড়ে যাবে। তাই ঘরে বসে না থেকে আপনার প্রয়োজনের তাকিদেই প্রতিদিন অন্তত একবার বাড়ির বাইরে যান।

৬. সমালোচনা মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করুন:

আপনি শুধু সামনের দিকে এগোতে থাকলে বিরোধী পক্ষ আপনাকে প্রশ্ন, সমালোচনা, সন্দেহ করবে। সেক্ষেত্রে চিন্তার কোনো কারণ নেই। পিছে লোকে কিছু বলে-এই নীতিতে কান না দিয়ে এগিয়ে চলুন। তাতে আপনার আত্নবিশ্বাস আরও বাড়বে। সবসময় মনে রাখবেন, আপনি ভাল কিছু করছেন বলেই লোকেরা আপনাকে নিয়ে এত কিছু বলাবলি করছে। তাই পিছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলুন, সফলতা আসবেই।

৭. সামান্য গড়মিল থাকলেও এগিয়ে চলুন:

কোনো কাজ করতে গেলে সব যোগ্যতাই যে আপনার মাঝে থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বরং নিজের দক্ষতা আর আত্নবিশ্বাসের জোরেই যে কোনো কাজে সফলতা লাভ করা যায়। কাজেই আপনার কোনো যোগ্যতা কম থাকলেও আত্নবিশ্বাসের জোরেই এগিয়ে যান। দেখবেন, সফলতা আপনার হাতে এসে ধরা দিবেই।

৮. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও অনুশীলন করুন:

পর্যাপ্ত ঘুম, অনুশীলন ও পর্যাপ্ত পুষ্টিসম্পন্ন খাবার আপনার মুড ভালো করবে। একইসাথে আপনার কর্মক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসকেও বাড়িয়ে তুলবে। আবার প্রতি সপ্তাহে তিনবার মাত্র ২০ মিনিটের শারীরিক অনুশীলন আপনাকে শুধু বিষণ্ণতা থেকেই মুক্তি দিবে না, বরং অ্যালঝেইমার্সের মতো রোগ থেকে দূরে রাখবে।

৯. বড় করে শ্বাস নিন:

বড় করে শ্বাস নিলে আপনার রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে অক্সিজেন প্রবেশ করে। এতে আপনার মস্তিষ্কের চেতনা বৃদ্ধি পায়। ফলে যে কোনো কাজ করতে গেলে এতে করে আপনার আত্নবিশ্বাস বেড়ে যাবে। এমনকি কোনো শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতেও বড় করে শ্বাস নেওয়া এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ।

১০. কাজের আগেই প্রস্তুতি নিন:

প্রত্যেক পরিস্থিতিতেই আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বেড়ে যায়। আবার অনেকবার অনুশীলন করা, রেকর্ড করা ও শুনলেও আত্নবিশ্বাস বেড়ে যায়। তাই যে কোনো কাজেই আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন তাহলে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি আপনি মোকাবেলা করতে পারবেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ