বিনিয়োগ সম্ভাবনা খুঁজতে আসছেন বার্মিজ ব্যবসায়ীরা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বিনিয়োগ সম্ভাবনা খুঁজতে আসছেন বার্মিজ ব্যবসায়ীরা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল ৬দিনের সফরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার আসছে আজ। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, দুই দেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতেই প্রতিনিধি দলটি আসছে।

আজ বিকেলে নৌপথে প্রতিনিধি দলটি টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে কক্সবাজার আসবে বলে  নিশ্চিত করেছেন চেম্বার সভাপতি।

১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্য চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান তিন অং উও। flag

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি জানান, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য সম্ভাবনা প্রচুর। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দুই বার মিয়ানমার সফর করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীও সফর করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন কোনো অগ্রগতি নেই মিয়ানমারের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যে। তবে এবার এই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি জানান, বার্মার বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মুলত মৎস্য, চিংড়ি, টিম্বার, সিমেন্ট, স্টিল, ইলেক্ট্রনিক্স, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী দিক নিয়ে আলোচনা হবে।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা জানান, মিয়ানমারের উদার অর্থনৈতিক নীতিও বাংলাদেশের সাথে আমদানি-রপ্তানিতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। বাংলাদেশ লাগোয়া রাখাইন এবং অন্যান্য রাজ্যগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি সহজ করা হলে উভয় দেশের জনসাধারণ উপকৃত হবেন।

মিয়ানমারের ঐসব রাজ্যে বিভিন্ন জিনিস বিশেষত রড, সিমেন্ট, ঢেউটিনসহ নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে আসতে হয় সুদূর ইয়াঙ্গুন হয়ে। তাতে প্রচুর খরচ। অথচ এসব সামগ্রী বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যেতে খরচ পড়বে কম। সেখানে রপ্তানি হতে পারে আমাদের অন্যতম কৃষিজ পণ্য আলু।

খাতুনগঞ্জ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ সগির আহমদ জানান, বাংলাদেশে উৎপাদিত ঔষধের বাজার সম্প্রসারিত হতে পারে মিয়ানমারে।

অপরদিকে, চাল, ডাল, মসলাসহ আরও বিভিন্ন পণ্য সেখান থেকে সহজে আমদানি করা গেলে এখানকার ভোক্তারা উপকৃত হবেন।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার জন্য প্রয়োজন নৌ প্রটোকল সই করা। সেটা হলে ১০০০ টনের মত পরিবহন ক্ষমতার ছোট ছোট নৌযান দুই দেশে চলাচল করতে পারবে।

রাখাইন রাজ্যসহ আশে-পাশে কৃষি উপযোগী প্রচুর ভূমি পড়ে আছে অনাবাদী। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সেখানে কৃষি খামার গড়ে তুলতে পারেন।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি এস এম নুরুল হক জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপত্তি তৈরি করে আছে রোহিঙ্গা সমস্যা। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আলাপ আলোচনা হতে পারে। এতে করে দুই দেশের সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

রাখাইন রাজ্যের বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দলটি আজ চিটাগাং চেম্বারে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সাথে সভা করবেন। পরবর্তী দুই দিনে তাদের চট্টগ্রাম বন্দর এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরন অঞ্চল ( ইপিজেড) পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।

এর আগে, আগামী সোমবার প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজারে চেম্বারের সাথে বৈঠক করবে এবং রামু বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন করবে। সেখানে তারা রাখাইন পল্লীতেও যাবেন।

বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দলটির সফরে থাকবেন ইয়াঙ্গুনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কন্সুলেটের প্রধান মো. শাহ আলম খোকন। ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী দলটি টেকনাফ দিয়ে নৌ পথে দেশে ফিরবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ