১১০০ কোটি টাকায় সংস্কার হবে চট্টগ্রামের বৈদ্যুতিক লাইন
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

১১০০ কোটি টাকায় সংস্কার হবে চট্টগ্রামের বৈদ্যুতিক লাইন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রায় দীর্ঘ তিন দশক আগের জরাজীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন সংস্কারের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। নগরীর লোডশেডিং দূর করার লক্ষ্যে ১২৮৩ মেগাওয়াট ধারণক্ষমতার নতুন সঞ্চালন লাইন স্থাপন এবং পুরনো লাইন সংস্কার করা হবে। এ লক্ষ্যে ১১০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে পিডিবি।

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় সাড়ে চার হাজার ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এর জন্য ৩৩ কেভিএ এর ১ হাজার ২৯৩ কিলোমিটার, ১১ কেভিএ এর ৩ হাজার ৪১ কিলোমিটার এবং ১১ দশমিক শূন্য ৪ কেভিএ এর ৩ হাজার ৭১৯ কিলোমিটার বিতরণ ও সঞ্চালন লাইন রয়েছে। কিন্তু গত তিন দশক ধরে সংস্কার না করায় বিতরণ লাইনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। লাইনের ত্রুটির কারণে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ বাড়ছে। বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকলেও পুরাতন সঞ্চালন লাইনের কারণে লোডশেডিং কমানো যাচ্ছে না। পুরাতন লাইন সংস্কার এবং নতুন লাইন স্থাপন হলে বিদ্যুতের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে নগরবাসী।

power

ফাইল ছবি

২০২৫ সালের চাহিদা বিবেচনায় চট্টগ্রাম জোনে (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা) বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে চিটাগং জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নামে ১১০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১৪টি নতুন সাবস্টেশন (৩৩/১১ কেভিএ) নির্মাণ; ৮টি সাবস্টেশনের পূর্নবাসন ও ক্ষমতা বৃদ্ধি। নতুন ১৪টি সাব স্টেশনের মধ্যে নগরীতেই নির্মাণ করা হবে ১২টি। এছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় ২৫০ কেভিএ এর দেড় হাজার বিদ্যুৎ বিতরণ ট্রান্সফরমার বসানো হবে। ১ হাজার ১৪৭ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন স্থাপন করা হবে। ৮০ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সন্দ্বীপকে জাতীয় গ্রিডের আওতায় আনা হবে। ৩৩ কেভিএ ২৬৭ কিলোমিটার এবং ১১ কেভিএ ৩০০ কিলোমিটার পুরনো লাইনের সংস্কার করা হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় কল্পলোক আবাসিক এলাকা, অনন্যা আবাসিক এলাকা, মইজ্জ্যারটেক, রহমতগঞ্জ, মনসুরাবাদ, অক্সিজেন, কালুরঘাট, এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি, আনন্দবাজার, কাট্টলী, মাদামবিবিরহাট, বান্দরবান এবং রামুতে ১৪টি সাব স্টেশন বসানো হবে। এছাড়া ফৌজদারহাট সাবস্টেশন, বাড়বকুণ্ড, বারআউলিয়া এবং কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ের ফিশা হারবার সাব স্টেশন পুনর্বাসন করা হবে। একইসঙ্গে বাকলিয়া, খুলশী, হাটহাজারী এবং চকরিয়া সাব স্টেশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

চিটাগং জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের ডেপুটি প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন অর্থসূচককে জানান, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে সন্দ্বীপ। এছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় দেড় হাজার নতুন ২৫০ কেভিএ এর ট্রান্সফরমার বসানো হবে। ২০১৮ সালের জুন মাসে এর কাজ শেষে পিডিবির গ্রাহক প্রায় ৫ লাখ বাড়বে।

তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১১৫০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইনের সংস্কার হবে। বিতরণ ব্যবস্থায় সংযুক্ত হবে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।

পিডিবির সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার জানান, ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন এক পর্যায়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার বৃদ্ধির পরও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জনগণ এর সুফল পায়নি। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে লোডশেডিং কমে যাবে। বিতরণ ব্যবস্থার আমূল উন্নতি হবে। একইসঙ্গে গ্রাহকরা অভাবনীয় সুফল পাবে।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ