ট্যানারি মালিকের অপেক্ষায় চট্টগ্রামের আড়ৎদাররা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ট্যানারি মালিকের অপেক্ষায় চট্টগ্রামের আড়ৎদাররা

ঈদুল আযহার কোরবানিকে কেন্দ্র করে ৬ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন চট্টগ্রামের আড়ৎদাররা। প্রত্যাশানুযায়ী চামড়া সংগ্রহ করতে না পারলেও ২০০ আড়তে প্রায় ৪ লাখ চামড়া মজুদ করেছেন তারা। তবে নগরীতে কোনো ট্যানারি না থাকায় প্রক্রিয়াজাত চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না চট্টগ্রামের আড়ৎদাররা। ফলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত আড়তে পড়ে আছে চামড়াগুলো। আর ঢাকার ট্যানারি মালিকদের অপেক্ষায় রয়েছেন সেখানকার আড়ৎদাররা।

চট্টগ্রামের আড়ৎদাররা জানান, এবার চট্টগ্রাম শহর এবং এর আশপাশের এলাকা ৬ লাখ কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ প্রক্রিয়াজাত চামড়া মজুদ রেখেছেন নগরীর আতুরার ডিপো এলাকার ২০০ আড়ৎদার। আনুমানিক দুই লাখ পশুর চামড়া কক্সবাজার, মিরসরাই, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, নাজিরহাট, বান্দরবান ও রাঙামাটির আড়তে মজুদ রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তারা আরও জানান, চট্টগ্রাম মহানগরী, পার্শ্ববর্তী জেলা ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এবার প্রায় ৬ লাখ পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে চার লাখ মতো গরু, ৯০ হাজার ছাগল এবং প্রায় ৩৫ হাজার মহিষ।

leather

চট্টগ্রামের আড়তে লবণ মাখানো চামড়া।

আড়ৎদার সমবায় সমিতির উপদেষ্টা মোসলেম উদ্দিন অর্থসূচককে জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গরু, ছাগল ও মহিষ মিলে প্রায় চার লাখ পশুর চামড়া চট্টগ্রামের ২০০ আড়তে মজুদ হয়েছে। এছাড়া নগরীর বাইরের বেশ কিছু আড়ৎদারও এবার চামড়া সংরক্ষণ করেছেন।

তিনি জানান, আমাদের কাছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকার চামড়া থাকলেও আজ সকাল পর্যন্ত চামড়া কিনতে ঢাকার কোনো ট্যানারি মালিক চট্টগ্রামে আসেননি। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ঢাকার ট্যানারি মালিকরা চামড়া কেনার জন্য চট্টগ্রাম আসতে পারেন।

এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে কোনো চামড়া পাচার হয়নি বলে দাবি করেন মোসলেম উদ্দিন।

আড়ৎদাররা জানান, এবার প্রতিটি কাঁচা চামড়ার জন্য মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ৫০০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। ১৪ বর্গফুটের কাঁচা চামড়া ৫০০ টাকায়, ১৫ থেকে ২৬ বর্গফুটের চামড়া ৮০০ থেকে ১০৫০ টাকা এবং ২৮ থেকে ৩৪ বর্গফুটের চামড়া ১২০০ টাকায় কেনা হয়েছে। এ হিসেবে প্রতি বর্গফুট কাঁচা চামড়ার জন্য আমাদের ব্যয় করতে হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। প্রক্রিয়াজাতের পর প্রতি বর্গফুন কমপক্ষে ৬০ টাকায় বিক্রি না করলেও আড়ৎদারদের লোকসান পোহাতে হবে।

মৌসুমী চামড়া সংগ্রহকারীরা চামড়া কেনার ক্ষেত্রে নির্দেশনা না মানায় বাড়তি দামে চামড়া কিনতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন আড়ৎদাররা।

চট্টগ্রামের চামড়া আড়ৎদার সমিতির সভাপতি সেকান্দর মিয়া জানান, চট্টগ্রামের মদিনা ও রিফ ট্যানারি গত বছরও স্থানীয় আড়ৎদারদের কাছ থেকে নগদ টাকায় ৭০ শতাংশ চামড়া কিনে নিত। বাকি চামড়া ঢাকার ট্যানারিতে অর্ধেক নগদে বিক্রি করেছি। আগের বছরগুলোতেও একইভাবে ব্যবসা করতেন এখানকার আড়ৎদাররা। কিন্তু এবার চট্টগ্রামের ট্যানারি দুইটি বন্ধ করে দেওয়ায় সব চামড়া ঢাকার ট্যানারিতে বিক্রি করতে হবে। এক্ষেত্রে নগদ অর্থ পাওয়া যাবে না। ফলে বাকিতে চামড়া বিক্রি করতে হবে বলে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

তিনি আরও জানান, প্রতি বছর শুধু ঈদের সময় চট্টগ্রামে ৭৫ থেকে ৮০ কোটি টাকার চামড়া বেচাকেনা হতো। এবার এখনও হিসাব করা হয়নি। তবে এটা নিশ্চিত চট্টগ্রামের সব ট্যানানি বন্ধ থাকায় নগদে ব্যবসা করতে পারবো না।

সেকান্দর মিয়া বলেন, ঈদের সময় ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করেন। ন্যায্যমূল্য দিতে চান না তারা। অনেক দর কষাকষি করে চামড়া বিক্রি করতে হয়। গত বছর ভালোমানের চামড়া প্রতি বর্গফুট ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু এবার চামড়ার দাম অর্ধেকে নামিয়ে এনেছেন ট্যানারি মালিকরা। অন্যদিকে বাড়তি দামে চামড়া কেনার পর সেগুলো প্রক্রিয়াজাতের জন্য লবণ কিনতেও বাড়তি ব্যয় করতে হয়েছে। শ্রমিকের মজুরিও অনেক বেড়েছে। ভালো দাম না পেলে চামড়ার আড়ৎদাররা এবার পথে বসবেন।

প্রসঙ্গত, কোরবানি ঈদের আগে চামড়া ব্যবসায়ীদের তিন সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাইড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত অর্থাৎ প্রক্রিয়াজাত গরুর চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০ টাকা।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ