ইলিশের ক্রেতা নেই; তবু স্বস্তিতে কক্সবাজারের জেলেরা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ইলিশের ক্রেতা নেই; তবু স্বস্তিতে কক্সবাজারের জেলেরা

মাঝ সাগরে গিয়েও মাছের দেখা না পাওয়ায় এক সপ্তাহ আগেও উপকূলের জেলেদের মাঝে দীর্ঘশ্বাস ছিল। এখন চিত্র পাল্টে গেছে। জেলেদের জালে ইলিশসহ অনেক মাছ ধরা পড়ছে। এতে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তবে কোরবানি ঈদের কারণে বাজারে ইলিশের ক্রেতা কম হলেও কোনো অভিযোগ নেই জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের।

কক্সবাজারে মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় বাজারে ইলিশের ক্রেতা না থাকলেও মাছ নষ্ট হচ্ছে না। কারণ প্রতিদিন প্রচুর মাছ দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে স্বস্তিতেই আছে জেলেরা।

কক্সবাজার ফিশারিঘাটে গিয়ে দেখা গেল, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইলিশ মাছ পাঠানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আড়ৎদাররা। একইসঙ্গে মাঝ সাগরে যাওয়ার জন্য বরফের অপেক্ষায় রয়েছে বেশ কয়েকটি মাছ ধরা নৌকা।

fish-boat

মাঝ সাগরে মাছ ধরা নৌকা।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহ আগেও বড় সাইজের প্রতি কেজি ইলিশ দুই হাজার টাকা ধরে এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০-৯০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু গত তিনদিন ধরে কক্সবাজারে প্রতিকেজি ইলিশ ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আর ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকায়।

তারা জানান, গত এক সপ্তাহ আগে থেকে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন মোহনায় রেকর্ড পরিমাণের ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে কক্সবাজার ফিশারিঘাটে এখন চলছে ইলিশ উৎসব। প্রতি ঘাটেই উঠছে টনে টনে ইলিশ; বিক্রি হচ্ছে পানির ধরে। কিন্তু স্থানীয় বাজারে ইলিশের ক্রেতা কম হওয়ায় বরফ দিয়ে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রধান শহরে পাঠানো হচ্ছে ইলিশ।

ফিশারিঘাটের এম. আলী ফিশিং বোটের মাঝি হেলাল উদ্দীন অর্থসূচককে জানান, কক্সবাজারের সাধারণ ক্রেতার তুলনায় অভিজাত হোটেলগুলো বেশি পরিমাণে ইলিশ কিনে। তবে এখনও কোরবানির মাংস শেষ না হওয়ায় স্থানীয় বাজারে ইলিশের ক্রেতা অনেক কম। তবে জেলে এবং মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইলিশ পাঠানো হচ্ছে। ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে।

আরেকটি ফিশিং বোটের মালিক মোজাহার মিয়া জানান, ভাদ্র-আশ্বিনকে বঙ্গোপসাগরের ভরা ইলিশের মৌসুম ধরা হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলদস্যু আতঙ্কের কারণে সাগরে মাছ ধরা ব্যহত হয়। ফলে সংকটে পড়েছিল জেলেরা। কিন্তু গত কয়েকদিনে আতঙ্ক উপেক্ষা করে সাগরে গেছে জেলেরা; আর জালে ধরা পড়ছে ইলিশ। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে।

hilsha-fish

মাছ ধরা নৌকা থেকে ইলিশ নিয়ে ঘাটে প্রবেশ করছেন জেলেরা।

কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক বলেন, জেলেদের জালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ ধরা পড়ায় আমরা সন্তুষ্ট। বঙ্গোপসাগরে ইলিশের আগমনে জেলেরা খুশিতে আত্মহারা।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে কয়েক কোটি টাকার ইলিশ চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনায় পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানে আলম পুতু জানান, জেলায় প্রায় ৫ হাজারের বেশি ফিশিং বোট রয়েছে। এর অধিকাংশই কোরবানি ঈদের আগে বঙ্গোপসাগরে গেছে। ঈদের আগে সাগরে যাওয়া বোটগুলো গত ৩ থেকে ৪ দিনে কূলে ভিড় করছে। প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। মাসের ব্যবধানে ইলিশ ধরা পড়ার পরিমাণ প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। আর বড় আকারের ইলিশও ধরা পড়ছে।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মার্কেটিং অফিসার দেলোয়ার হোসেন অর্থসূচককে জানান, শুধু ফিশারিঘাট থেকে গত দুই দিনে ৩৩ হাজার ৫৬০ কেজি ইলিশ বিভিন্ন শহরে পাঠানো হয়েছে। শুধু ফিশারিঘাট নয়; শহরের আরও ছয়টি ঘাট এবং টেকনাফ, মহেশখালী, উখিয়ার ইনানী ও কুতুবদিয়ার ঘাট থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইলিশ পাঠানো হচ্ছে।

কক্সবাজারের মৎস্য কর্মকর্তা অমিতোষ সেন জানান, ভাদ্রের মাঝামাঝি থেকে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে। উত্তারঞ্চলে বন্যার পর থেকে নদীতেও ইলিশ ধরা পড়ছে। গত কয়েক বছরে মা ইলিশ ও জাটকা নিধনের অভিযান কঠোর করার সুফল মিলছে।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ