খুলনায় চামড়ার বাজার চড়া; শঙ্কায় আড়ৎদাররা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

খুলনায় চামড়ার বাজার চড়া; শঙ্কায় আড়ৎদাররা

এবার শুধু খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পশু কোরবানি হয়েছে। কোরবানি পর প্রথম দুই দিনে প্রায় ৯ হাজার পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছেন স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী ও আড়ৎদাররা। এর মধ্যে অতিরিক্ত দামে প্রায় ৫০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ করেছে স্থানীয় একটি ট্যানারি কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে দেশের ট্যানারি মালিকদের সংগঠনের নির্ধারিত চামড়ার দর না মেনে অতিরিক্ত দামে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছেন স্থানীয় মৌসুমী চামড়া ব্যবাসায়ীরা। এতে লোকসানের মুখে পড়ার আশংকায় রয়েছেন স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের।

খুলনার ট্যানারি ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা মাঠ পর্যায়ের চামড়া সংগ্রহ করছেন। তবে চামড়া কেনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত দর মানছেন না তারা। ফলে এসব মৌসুমী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চামড়া কিনতে নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে বিপর্যয়ের মুখে পড়ছেন ট্যানারি ব্যবসায়ী এবং স্থায়ী আড়ৎদাররা।

leather

খুলনায় শেখপাড়া চামড়া পট্টির সড়কে চামড়ার স্তুপ।

স্থানীয় কয়েকজন চামড়ার আড়ৎদার জানান, অতিরিক্ত দামে খুলনার প্রায় ৫০ শতাংশ চামড়া ইতোমধ্যে কিনেছে স্থানীয় একটি ট্যানারি কর্তৃপক্ষ। ফলে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের ক্ষেত্রের দেশের ট্যানারি মালিকদের সংগঠন দ্বারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়ার আশংকায় রয়েছেন স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা।

শেখপাড়া চামড়া পট্টির ব্যবসায়ী মামুন লেদার কমপ্লেক্সের মালিক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, খুলনার বিভিন্ন মাদরাসা থেকে অতিরিক্ত মূল্যে চামড়া কিনেছে খুলনার ফুলতলার একটি নতুন ট্যানারি। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রায় সব চামড়ার জন্য অতিরিক্ত মূল্য দিতে বাধ্য হয়েছি।

খুলনার কয়েকজন চামড়া ব্যবসায়ী জানান, শেখপাড়া চামড়া পট্টির ব্যবসায়ী আমান লেদার কমপ্লেক্স প্রায় ৫০০, মুনদাস লেদার প্রায় ৬০০, শফিকুল লেদার প্রায় ৪০০, কার্ত্তিক ঘোষ লেদার প্রায় ৩০০, নূর আমিন প্রায় ৬০০, আইয়ূব আলী কসাই প্রায় ১৪০০, বাহার লেদার প্রায় ৫০০ এবং সেলিম কসাই প্রায় ৪০০ পিস চামড়া সংগ্রহ করেছে। গত কয়েক বছরে খুলনার আড়ৎদাররা প্রায় ২০ হাজার চামড়া সংগ্রহ করলেও এবার তা অনেক কমে গেছে। কিন্তু এবার খুলনায় কোরবানি পশু বিক্রি বাড়লেও এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ করতে পেরেছেন আড়ৎদার ও ট্যানারি মালিকরা। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।

মহানগরীর শেখপাড়ার চামড়া পট্টির পথে-পথে এবং মোড়ে-মোড়ে দেখা যাচ্ছে চামড়ার স্তুপ। রাস্তায় চামড়া জমা করায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী ও এলাকাবাসী। একইসঙ্গে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে পরিবেশ।

খুলনা মহানগরীর পাওয়ার হাউজ মোড় থেকে ময়লাপোতা পর্যন্ত প্রায় সব দোকানের সামনে উন্মুক্ত স্থানে রাখা হয়েছে কোরবানি পশুর চামড়া। এতে পচা রক্ত এবং চামড়ায় মাখানো লবণ পানিও ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তায়। একইসঙ্গে বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে দূষণ হচ্ছে আশপাশের এলাকার পরিবেশ।

খুলনার কয়েকজন চামড়ার আড়ৎদার জানান, জায়গার সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই রাস্তায় কাঁচা চামড়া রাখতে হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত স্থানে রেখেই মাখতে হচ্ছে লবণ। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। একদিকে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের অনভিজ্ঞতার কারণে বেশি দামে চামড়া কিনতে হচ্ছে। আবার খোলা আকাশের নিচে চামড়া রাখায় সেগুলোর চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহারাও বসাতে হয়েছে। ফলে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় অনেক বাড়ছে।

অর্থসূচক/শিউলী/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ