নির্ধারিত দরে সীমাবদ্ধ নেই চট্টগ্রামের চামড়া বাজার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নির্ধারিত দরে সীমাবদ্ধ নেই চট্টগ্রামের চামড়া বাজার

কোরবানির দিন গত মঙ্গলবার থেকেই চট্টগ্রামের আড়ৎগুলোতে চামড়া সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা ও শহর থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছেন মাঠ পর্যায়ের মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। প্রথম দুই দিনে প্রায় চার লাখ কাঁচা চামড়া আড়তে ঢুকেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম চামড়া আড়ৎদার সমবায় সমিতি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। তবে চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন নির্ধারিত দরে চট্টগ্রামে চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সমিতির সদস্যরা।

Leather

রাস্তায় কাঁচা চামড়া নিয়ে বসেছেন মৌসুমী চামড়া সংগ্রহকারীরা। সংগৃহীত ছবি

আড়ৎদার সূত্রে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা নিজেদের খেয়াল-খুশিমত দরে চামড়া সংগ্রহ করছেন। ফলে তাদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করতে নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে আড়ৎদারদের। এতে চামড়া প্রক্রিয়াজাত খরচও অনেক বেড়ে যাচ্ছে। আর বিপাকে পড়ছেন চট্টগ্রামের চামড়া আড়ৎদাররা।

প্রতি বছর ঈদুল আযহায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, চৌমুহনী, কর্ণফুলী বাজার, দেওয়ানহাট, আতুরার ডিপো এলাকায় মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের বাজার বসে। কোরবানির দিন থেকে শুরু হওয়া এ বাজার পরবর্তী কয়েকদিন সরগরম থাকে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার মৌসুমী চামড়া সংগ্রহকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচা চামড়া কেনার ক্ষেত্রে কোনো পূর্ব নির্দেশনা মানেননি তারা। নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে বেশি চামড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ করেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

চামড়ার স্থানীয় আড়ৎদাররা অভিযোগ করেন, চামড়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত না থাকা এবং অভিজ্ঞতার অভাবে মাঠ পর্যায় থেকে বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ করছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন আড়ৎদাররা।

কোরবানি ঈদের আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল দেশের চামড়া ব্যবসায়ীদের তিন সংগঠন ফিনিশড লেদার লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টারস এসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ), বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন (বিটিএ) ও বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএইচএসএম)।

চট্টগ্রামের আড়ৎদাররা জানান, ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০ টাকা। প্রক্রিয়াজাত চামড়া কেনার জন্য এই দর নির্ধারণ হয়েছিল। তারা আরও জানান, প্রতি বর্গফুট চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ৭-৮ টাকা ব্যয় হয়। এ হিসাবে, কাঁচা চামড়া প্রতি বর্গফুট ২৬-২৮ টাকায় কেনার পরামর্শ দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ের মৌসুমী চামড়া সংগ্রহকারীরা প্রতি বর্গফুট চামড়ার জন্য ৪০ টাকার বেশি ব্যয় করেছেন।

আড়ৎদার ও স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা ২৪ থেকে ৩৩ বর্গফুটের কাঁচা চামড়ার জন্য প্রতি বর্গফুটে ৫০ টাকার বেশি এবং ১৫-১৮ বর্গফুটের কাঁচা চামড়ার জন্য প্রতি বর্গফুটে ৪০ টাকার বেশি ব্যয় করছেন।

আগ্রাবাদ এলাকার মৌসুমী চামড়া সংগ্রহকারী আফজালুর রহমান জানান, এবার গরুর ছোট আকারের ২২ পিস কাঁচা চামড়া কিনেছি। এর প্রতিটির জন্য ১০০০ টাকার বেশি করে দিতে হয়েছে। অর্থাৎ এসব চামড়া সংগ্রহ করতে আমাকে ২২ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। এগুলো বিক্রির জন্য কয়েকজন আড়ৎদারের সঙ্গে কথা বলে উপযুক্ত দর না পাওয়ায় এখনও বিক্রি করিনি।

কয়েকজন আড়ৎদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর চট্টগ্রামের আড়ৎগুলোতে বেশি কাঁচা চামড়া জমা হয়েছে। কাঁচা চামড়া আড়তে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নগরীর আতুরার ডিপো এলাকা ছাড়াও শতাধিক স্থায়ী আড়তে চামড়া সংরক্ষণের কাজ চলছে। এছাড়া কয়েকজন মৌসুমী আড়ৎদারও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চামড়া সংগ্রহ করছেন।

চট্টগ্রাম আড়ৎদার সমবায় সমিতির উপদেষ্টা মোসলেম উদ্দিন অর্থসূচককে জানান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কাঁচা চামড়া ইতোমধ্যে আড়তে এসেছে। আগামী কয়েকদিনে আরও চামড়া আসবে। ইতোমধ্যে প্রায় চার লাখ পশুর চামড়া স্থায়ী আড়তগুলোতে জমা পড়েছে। কয়েকজন মৌসুমী ব্যবসায়ী শুধু লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করছেন। ওই চামড়াগুলোও স্থায়ী আড়ৎদারদের কাছে আসবে।

তিনি জানান, আরও দুই দিন কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হবে। এরপর লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত চামড়া ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করা হবে। বর্তমানে চট্টগ্রামে কোনো ট্যানারি চালু না থাকায় ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে প্রক্রিয়াজাত চামড়া বিক্রি করবেন চামড়ার আড়ৎদাররা।

এনাম সওদাগর নামের একজন আড়ৎদার জানান, কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহের সময় দরের সীমাবদ্ধতা মানছেন না মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। ফলে মাঠ পর্যায়ের সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে বেশি দামে চামড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন আড়ৎদার।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ