আতঙ্কের নাম ঈদ বোনাস!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আতঙ্কের নাম ঈদ বোনাস!

সকাল সাড়ে ১০টা। মিরপুরে যেতে পল্টন থেকে নিউ ভিশন পরিবহনের একটি গাড়িতে উঠেছেন সাজেদুল হক। গাড়িতে ভাড়া জনপ্রতি ২৪ টাকা হলেও দিতে হলো ৩০ টাকা করে। ঈদ বোনাস হিসেবে সবার কাছে থেকেই এ বাড়তি টাকা আদায় করছিলেন বাসের কন্ট্রাকটার। এর আগে সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে বাসস্ট্যান্ডে যেতে রিকশাচালককেও দিতে হয়েছিল ১০ টাকা বেশি।

শুধু সাজেদুল নন; এমন বোনাস বিড়ম্বনায় রাজধানীর অনেকেই। ঘর থেকে বের হওয়ার পর ফেরা পর্যন্ত সব কাজেই দিতে হচ্ছে বোনাস। এক টাকার এক গ্লাস পানির জন্যও দিতে হয়েছে এক টাকা বোনাস। আর এ ধরনের বোনাস দিতে দিতে শেষ হতে চলেছে সাজেদুলের মতো অনেকেরই ঈদ বোনাস।20160703055626

সাজেদুল হক বলেন, ‘স্বল্প বেতনে ছোট একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। তাই ঈদ বোনাসও কম। কিন্তু ঘরের বাইরে যেভাবে বোনাস দিতে হচ্ছে তাতে বোনাসের সব টাকাই শেষ হওয়ার পথে। অফিসের পিয়ন, লিফটম্যান, নিরাপত্তাকর্মী, বাসার নিরাপত্তাকর্মী, পত্রিকার হকার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, গৃহকর্মীসহ প্রায় সবাইকেই দিতে হয়েছে ঈদ বোনাস। বোনাস দিতে হয়েছে লন্ড্রি এবং সেলুনেও।‌’

মোবাইলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় একটি রিচার্জ পয়েন্টে যান রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আবু সালেহ সায়াদাত। দোকানদার প্রতি রিচার্জে তার কাছে থেকে ৫ টাকা বেশি নিলেন। ঈদের সময়ে ‘সার্ভিস’ দেওয়ার জন্য ‘বোনাস’ হিসেবে সেখানেও তাকে দিতে হয় এই টাকা।

তিনি বলেন, ‘টাকা রিজার্জ করলাম ৫০ টাকা। কিন্তু দোকানি ৫৫ টাকা রেখে দিয়ে বলল, ভাই ৫ টাকা ঈদ বোনাস।’

রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা প্রশান্ত মিত্র বলেন, ‘৫০ টাকার বিনিময়ে গোটা মাসের বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করেন পরিচ্ছন্নকর্মীরা। বিকেলে এসব ময়লা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া। ঈদ উপলক্ষে এ  মাসে পরিচ্ছন্নকর্মীকে ময়লা বিল দিতে হয়েছে ১০০ টাকা।

প্রায় একই ধরনের বোনাস বিড়াম্বনার বর্ণনা দেন জাকির, তমাল, নজরুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা বলেন, তাদের পরিচিতদেরও একই ধরনের বিড়ম্বনার কথা। রাজধানীর অনেকের কাছেই ঈদ বোনাস এখন আতঙ্কের আরেক নাম।

অর্থসূচক/এমআই

এই বিভাগের আরো সংবাদ