বন্দরে এক প্রতিষ্ঠানের ১৭ জালিয়াতি, নজরদারিতে আরও ৩ চালান
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বন্দরে এক প্রতিষ্ঠানের ১৭ জালিয়াতি, নজরদারিতে আরও ৩ চালান

বাইসাইকেল যন্ত্রাংশের ঘোষণায় দেড় মাস আগে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস.এন. ট্রেড লিমিটেডের আমদানি করা পণ্যের আগামপত্র (বিল অফ এন্ট্রি) দাখিলের পরও ৩টি চালানের ছাড় করায়নি ওই প্রতিষ্ঠান। ফলে খালাসের অপেক্ষায় থাকা চালানগুলো নজরদারিতে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর শুল্ক কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ১ বছরে সিঅ্যান্ডএফ এস.এন. ট্রেড লিমিটেডের আনা ১৭টি চালানে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের (তথ্য ভান্ডার) তথ্য মতে, ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরে আগস্ট পর্যন্ত ১১ মাসে শতাধিক চালান খালাস করেছে এস.এন. ট্রেড লিমিটেড। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ১৭টি চালানে রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক কর্মকর্তারা। এসব চালানে ফাঁকিকৃত প্রায় এক কোটি টাকা আদায় ছাড়াও ৩৬ লাখ ৫২ হাজার টাকার জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

Ctg portচট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য মতে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত এক কোটি ২৫ লাখ টাকার তিনটি চালানের পণ্যভর্তি কন্টেইনার পরীক্ষার সময় এস.এন. ট্রেডের সহযোগিতা পায়নি শুল্ক কর্মকর্তারা। ফলে এসব চালানকে বাড়তি নজরদারিতে আনা হয়েছে।

আমদানি নথি সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই মাসের শেষ দিকে এক কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের দুটি চালান আমদানি করে নীলফামাররি জেলার ‘বিউটি সাইকেল স্টোরস’। ভারত থেকে আমদানি করা চালান দুটির বিপরীতে ২৭ জুলাই বিল অফ এন্ট্রি দাখিল করে খালাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এস.এন. ট্রেড লিমিটেড। একই সময়ে ওই অঞ্চলের আরেক প্রতিষ্ঠান ‘রাজু সাইকেল স্টোর’ বাইসাইকেলের ১৫ লাখ টাকার একটি চালান আমদানি করে। ওই পণ্য খালাসের দায়িত্বে রয়েছে এস.এন. ট্রেড লিমিটেড।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য মতে, খালাসের অপেক্ষায় থাকা বাইসাইকেলের তিনটি চালানে ঘোষণা বহির্ভুত পণ্য আমদানির তথ্য পেয়েছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। চালান তিনটি খালাস পর্যায়ে কায়িক পরীক্ষার সময় সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার বিষয়ে গত ২৯ আগস্ট চিঠি দেয় কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট শাখা। কিন্তু চালান তিনটি কায়িক পরীক্ষায় সময় সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। সহযোগিতা না পাওয়ায় গত ৩০ আগস্ট আবারও চিঠি দিয়েছে কাস্টমস। খালাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা না পাওয়া এবং রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকিতে থাকা চালান খালাসে অনাগ্রহ থাকায় কন্টেইনারের পণ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

লিখিত পত্র (নং-৪৫২/এপি/সেকশন-৯,বি/২০১৬-১৭) থেকে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট চালানটি (আগামপত্র নং-৯০৩০৬৪) বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ডে নামানোর কথা থাকলেও তা না মেনে চালানের সব মালামাল ট্রাকে বোঝাই করে সিসিটি-২ গেটের কাছে নিয়ে যায় সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। কায়িক পরীক্ষার জন্য একটি কন্টেইনার আনা হলেও পণ্য চালানটির বাকি ৪টি কন্টেইনার কায়িক পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয়নি। তা নিয়ম পরিপন্থি বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এস.এন. ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

চালানটি ছাড়করণের বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার এ.এফ.এম আবদুল্লাহ খান অর্থসূচককে বলেন, বন্দরে থাকা বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশের চালানগুলো কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই চালানগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান পণ্য খালাস নিতে আসবে। একজন যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে শুল্ক কর্মকর্তারা পণ্য ছাড়করণের পূর্বে কায়িক পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি করবেন। অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ জুন খালাসের দায়িত্বে থাকা এস.এন. ট্রেড লিমিটেডের ফ্রেব্রিকের একটি চালানে (আগামপত্র নং-৬১৫১০৮) রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ফাঁকিকৃত রাজস্ব ছাড়াও এ চালানে ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করে শুল্ক কর্মকর্তারা। একই মাসের শেষের দিকে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানাটির ‘ইনার ডায়েমেটার’ চালানে ( আগামপত্র নং-৬৮০১১৪) জালিয়াতির তথ্য পাওয়ায় ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

চলতি বছরের জুন মাসে এস.এন. ট্রেডের আরও দুইটি চালানে (আগামপত্র-৬১৫৫৯৮ এবং ৭১৭৪৯৬) রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পায় শুল্ক কর্মকর্তারা। এ দুটি চালানে ফাঁকিকৃত রাজস্ব ছাড়াও তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া একই বছরে ওই প্রতিষ্ঠানের আরও ৭টি চালানে রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়। ওসব চালানে ফাঁকিকৃত রাজস্ব ছাড়াও ৬ লাখ ১ হাজার টাকার জরিমানা আদায় করা হয়েছিল। এছাড়া ২০১৫ বছরের শেষ তিন মাসে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটির আরও ছয়টি চালানে রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পায় শুল্ক কর্মকর্তারা। ফাঁকিকৃত রাজস্ব ছাড়াও ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে শুল্ক বিভাগ।

সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স বিধিমালা অনুযায়ী, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি প্রমাণিত হলে জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিল করার বিধান রয়েছে। এক বছরের কম সময়ে একই প্রতিষ্ঠানের ১৭টি জালিয়াতির পরও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ রেজাউল হক বলেন, জালিয়াতি প্রমাণিত হলে জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিল করার বিধান আইনে রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানাটির জালিয়াতির ধরণ বিবেচনা করা হয়। বড় ধরনের জালিয়াতি হলে আইন অনুযায়ী অবশ্যই লাইসেন্স বাতিল করা হবে। বছরের মধ্যে বার বার জালিয়াতির বিষয়টি আগে নোটিশ করা হয়নি। এখন এ বিষয়ে জানতে পেরেছি, খতিয়ে দেখার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ