রূপালী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪৮%
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রূপালী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪৮%

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। যতই দিন যাচ্ছে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ততই বাড়ছে। কিন্তু এর বিপরীতে প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি (Provisioning) রাখতে পারছে না ব্যাংকটি। ফলে ব্যাংকটির প্রভিশনিং ঘাটতিও বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিক শেষে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৬০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৯৮ কোটি ৪ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ১১ শতাংশ। সেই হিসাবে সর্বশেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৭৬২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বা ৪৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৪২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

দ্রুত গতিতে বেড়ে যাওয়া খেলাপি ঋণের কারণে ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতেও ব্যর্থ হচ্ছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটির এই খেলাপি ঋণের বিপরীতে ১ হাজার ৭৮৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা প্রভিশন রাখার কথা। কিন্তু ব্যাংকটি ১ হাজার ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা প্রভিশন রাখতে পেরেছে। সেই হিসাবে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘটতি রয়েছে ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

নিয়মানুযায়ী ব্যাংকের অশ্রেণিকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে ৫ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিম্নমান বা সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হয় ২০ শতাংশ, আর সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ এবং মন্দ বা কু-ঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ। ব্যাংকের আমানতকারীদের সম্পদের সুরক্ষা দিতে আইন অনুযায়ী প্রভিশনিং করা বাধ্যতামূলক। যেসব ব্যাংক প্রভিশন রাখতে ব্যর্থ, ওই সব ব্যাংকের আমানতকারীদের জমাকৃত আমানত অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রূপালী ব্যাংকে এই ঝুঁকি বাড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান প্রধান অর্থসূচককে বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা বর্তমান ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এই লক্ষ্যে কাজ করছি। এটা যত দ্রুত আমরা কমিয়ে আনতে পারবো ততই ব্যাংকের অবস্থান ভালো হবে।

তিনি বলেন, আমরা ব্যাংকের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে তথ্য প্রযুক্তিকে বেশ গুরুত্ব দিয়েছি। এই বিভাগের চ্যালেঞ্জ ও রিস্ক কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আবার নতুন ঋণ প্রবাহ কিভাবে বাড়ানো যায়; খারাপ ঋণ আদায় করে কিভাবে মানসম্মত ঋণ প্রদান করা যায় সেটাই বিবেচনায় রেখেছি। তবে সময় দিতে হবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু রূপালী ব্যাংক নয়; সরকারি সব ব্যাংকের একই অবস্থা। তিনি বলেন, রূপালী ব্যাংকের একটু ঝামেলা আছে। আগে যারা ছিলেন তাদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। এখন নতুন ম্যানেজমেন্টের পুরান ঋণ রিকাভার করতে হবে। নতুন ঋণ প্রদানে সতর্ক থাকতে হবে।পুরানদের ঋণ দিলে এমনও হয় ঋণ নিয়ে তারা ইচ্ছা করে বিনিয়োগ করে না। তাই নতুন উদ্যোক্তা, মাঝারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সতর্কতার সাথে ঋণ দিতে হবে। বিশেষ করে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

এমন অবস্থার কারণে ধারাবাহিকভাবে কমছে রূপালী ব্যাংকের নিট মুনাফা। ২০১২ সালে ব্যাংকটির কর পরবর্তী নিট মুনাফা ছিল ১২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। তবে ২০১৫ সালে তা কমে নেমে আসে ২৩ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। আর ২০১৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ সমাপ্ত হিসাব বছরে ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি আয় করেছিলো ৯৮ পয়সা। চলতি বছরের অর্ধবার্ষিকীতে ইপিএস কমে হয় ৪০ পয়সা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ