আসছে কোরবানি ঈদ, রাজধানীতে ফ্রিজ কেনার ধুম
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আসছে কোরবানি ঈদ, রাজধানীতে ফ্রিজ কেনার ধুম

পবিত্র ঈদুল আযহার মাত্র কয়েকদিন বাকি। সময় একেবারেই কম। কোরবানি দেওয়া পশুর মাংস সংরক্ষণ হবে ফ্রিজে। তাইতো পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ফ্রিজের চাহিদা বেড়েছে। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই রাজধানীজুড়ে ফ্রিজ কেনার ধুম পড়েছে।

ফ্রিজের আমদানিকারক, দেশীয় প্রস্তুতকারক এবং বিক্রেতারা জানান, ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে এবার প্রচুর পরিমাণে ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে। দেশে ১০০ লিটার থেকে ৪০০ লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ওজনের ফ্রিজ পাওয়া যায়। তবে ১৫০ থেকে ২০০ লিটার ওজন ধারণক্ষমতার ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। প্রতিবছর এ সময়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ ফ্রিজ বিক্রি হয়।

রাজধানীর বিজয় সরণি, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মার্কেট এবং কারওয়ানবাজারসহ বিভিন্ন স্থানের বিক্রয় কেন্দ্রে ফ্রিজ বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা। তারা জানান, দু-একদিন পর এ ব্যস্ততা আরও বাড়বে। ওয়ালটন, মাইওয়ান, যমুনা, মিনিস্টার, মার্সেলের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি হিটাচি, সিঙ্গার, এলজি, ওয়ার্লপুল, কংকা, অ্যারিস্টন, স্যামসাং, হায়েস, হায়ার, শার্পসহ আমদানি করা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফ্রিজ বেশ বিক্রি হচ্ছে।

Freeze

কোরবানি ঈদ আসার আগে বিশেষ অফার দেয় ফ্রিজের উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফ্রিজ কিনতে বিক্রয় কেন্দ্রে হাজির হচ্ছেন রাজধানীর অনেকেই। ছবি: মহুবার রহমান

বিজয় সরণি এলাকায় দেশের অন্যতম ব্র্যান্ড ওয়ালটনের বিক্রয় কেন্দ্রে দেখা গেছে, ঈদুল আযহা উপলক্ষে অত্যাধুনিক ডিজাইন এবং মানের সব ফ্রিজ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে ফ্রিজ দেখছেন। আর ক্রেতা এবং দর্শনার্থীদের ফ্রিজ সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন বিক্রেতারা।

ওয়ালটনের অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম বলেন, বছরের এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি ফ্রিজ বিক্রি হয়। এবারের কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে সাড়ে ৪ লাখ ফ্রিজ বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। গত এক মাসেই প্রায় আড়াই লাখ ফ্রিজ বিক্রি করেছি। কোরবানি যত ঘনিয়ে আসছে বিক্রি ততোই বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, সর্বনিম্ন ১৩ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৬৯ হাজার টাকায় ওয়ালটনের ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে। সারাদেশে ওয়ালটনের ২৮৪টি প্লাজার পাশাপাশি ৯ হাজারের বেশি বিক্রয় কেন্দ্রে ওয়ালটন ফ্রিজ বিক্রি হয়।

ঈদুল আয়হা উপলক্ষে ফ্রিজে আকর্ষণীয় মূল্যছাড় দিয়েছে মাইওয়ান। এ কোম্পানির গ্লাস ডোর ফ্রিজে ১০ শতাংশ মূল্যছাড়ের পাশাপাশি উপহার হিসেবে রয়েছে একটি রাইসকুকার। এছাড়া ভিসিএম ফ্রিজে ১৭ শতাংশ মূল্যছাড়সহ রাইসকুকার দিচ্ছে কোম্পানিটি।

মাইওয়ানের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল আলীম শিমুল বলেন, ঈদুল আযহা উপলক্ষে ফ্রিজের চাহিদা বেশ বেড়েছে। কোরবানি ঈদ উপলক্ষে ৫০ হাজার ফ্রিজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে ৪০ হাজার ফ্রিজ বিক্রি করেছি।

Freeze2

কোরবানি উপলক্ষে সাধারণ ফ্রিজের তুলনায় ডিপ ফ্রিজের চাহিদা অনেক বেশি। ছবি: মহুবার রহমান

ঈদুল আযহা উপলক্ষে ৩০০ ফ্রিজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে র‌্যাঙ্কসের বিজয় সরণি শো-রুম। এই শো রুমের ইনচার্জ (সিটিপি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ঈদুল আযহা উপলক্ষে ফ্রিজে ৭-২০ শতাংশ মূল্যছাড় দিচ্ছে র‌্যাঙ্কস ইলেকট্রনিক্স। ডিপ ফ্রিজের মধ্যে সর্বনিম্ন ১৮ হাজার টাকা থেকে ৩৬ হাজার টাকার ফ্রিজ রয়েছে এ শো রুমে। এছাড়া সাধারণ ফ্রিজের মধ্যে ২২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৯৬ হাজার টাকা দামের ফ্রিজ রয়েছে।

ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ইলেকট্রনিক্স মার্কেটের বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করলেও ভিন্ন রূপ দেখা গেছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মার্কেটে। কোরবানি উপলক্ষে ফ্রিজসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রি বাড়লেও আশানুরুপ সাড়া পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন এই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এএফসি অনুর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল খেলার কারণে বিক্রি একেবারেই নেই। যেদিন স্টেডিয়ামে খেলা হয় সেদিনই মার্কেট বন্ধ থাকে। মার্কেট খোলার পরও স্বাভাবিক বিক্রি হচ্ছে না।

কেরাণীগঞ্জ থেকে স্টেডিয়াম মার্কেটে ফ্রিজ কিনতে এসেছেন রবিউল ইসলাম। তিনি অর্থসূচককে বলেন, বাসায় একটি ফ্রিজ আছে। তবু কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করতে ডিপ ফ্রিজ প্রয়োজন। পছন্দ হলেও দামও একটি বেশি। দর-দামে মিললে আজকেই কিনে ফেলবো।

দেশীয় ফ্রিজ নির্মাতাদের সংগঠন বাংলাদেশ রেফ্রিজারেটর্স ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, সারা বছর দেশে ১২ লাখ ফ্রিজ বিক্রি হয়। এর প্রায় ৩০ শতাংশই বিক্রি হয় কোরবানির ঈদের আগ মুহূর্তে।

অর্থসূচক/মেহেদী/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ