চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার উঠানামার রেকর্ড
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার উঠানামার রেকর্ড

কন্টেইনার উঠানামায় এক মাসে নতুন রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। সদ্য শেষ হওয়া আগস্ট মাসে এ বন্দরে দুই লাখ ১৬ হাজার একক কন্টেইনার উঠানামা করেছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ১ লাখ ৯৭ হাজার একক কন্টেইনার উঠানামা হয়েছিল।

বন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২ লাখ ১৬ হাজার কন্টেইনার উঠানামা হয়েছে গত আগস্ট মাসে। এর মধ্যে সিসিটি এবং এনসিটি ইয়ার্ডে কন্টেইনার উঠানামা হয়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছর ২০ লাখ কন্টেইনার উঠানামার মাইলফলক স্পর্শ করেছিল বন্দর। চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ২১ লাখের বেশি কন্টেইনার উঠানামা হয়েছে। কোনো বড় সমস্যা না হলে ২০২০ সালের মধ্যে বছরে ৩০ লাখ কন্টেইনার উঠানামা করা সম্ভব হবে।

Ctg portবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্রমান্বয়ে কন্টেইনার উঠানামা বাড়ায় বন্দরের প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে। একইসঙ্গে দেশে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণও বাড়ছে। এতে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বর্তমানে যে হারে কন্টেইনার উঠানামা করছে তাতে বন্দরের মাস্টারপ্ল্যান শিগগির বাস্তবায়ন হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম. খালিদ ইকবাল বলেন, সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। কন্টেইনার উঠানামা বাড়ার সূচক দেখলেই দেশের আমদানি-রপ্তানি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে দেশের অর্থনীতি অগ্রসর হচ্ছে।

তিনি বলেন, বন্দর নিয়ে আমাদের মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টায় আছি আমরা। বন্দরের জন্য ৩০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই এর বাস্তবরূপ দেখা যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ৩০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান থেকে দেখা যায়, বর্তমানে বন্দরে যে যন্ত্রপাতি আছে তা দিয়ে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পণ্য উঠানামা করা সম্ভব। সম্প্রতি এক হাজার ২০০ কোটি টাকার নতুন যন্ত্রপাতি কেনার সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। নতুন যন্ত্রপাতি দ্রুত কেনা হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শেষ করতে পারবে চট্টগ্রাম বন্দর।

গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা হলে এক লাখ একক কন্টেইনার বাড়তি হ্যান্ডলিং সম্ভব। গত আগস্ট মাসেও এনসিটি পুরোদমে চালু হয়নি; এ বছরের শেষ নাগাদ সব যন্ত্রপাতি সংযোজনের সম্ভাবনাও কম। বন্দরের আধুনিকায়ন করা হলে ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ২৩ লাখ ৬০ হাজার একক কন্টেইনার ছাড়িয়ে যাবে।

কন্টেইনার উঠানামার রেকর্ড সম্পর্কে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, কন্টেইনার উঠানামার রেকর্ডই দেশের অর্থনীতির বর্তমানে অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। আমদানি-রপ্তানি বাড়া দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ সংকেত। এই ধারাকে আরও ধারাবাহিক করতে বন্দরের জন্য শিগগির নতুন যন্ত্রপাতি কিনতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর। তাই বন্দরের কাজকে আরও বেগবান করার জন্য দ্রুত আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন জরুরি।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মাস্টারপ্ল্যানের ২০১৫ সালের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি কন্টেইনার উঠানামা করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর। শিগগির ২০১৬ সালের পূর্বাভাসও ছাড়িয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭ কোটি ১১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৭ মেট্রিক টন পণ্য এবং ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৩৯ টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং হয়। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরের বড় অর্জন ছিল এটি।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ