অসন্তোষ ঝুঁকিতে চট্টগ্রামের ১০ গার্মেন্টস!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

অসন্তোষ ঝুঁকিতে চট্টগ্রামের ১০ গার্মেন্টস!

ঈদুল ফিতরের সময় বেতন-ভাতা নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর কোনো শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেনি। তবে নগরীর ১০টি গার্মেন্টস কারখানা ঈদুল আযহায় বেতন-ভাতা নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা। অসন্তোষ এড়াতে ঝুঁকিতে থাকা গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম।

অন্যদিকে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, ঈদুল আযহার বেতন-ভাতা নিয়ে চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ হতে পারে। ঈদুল ফিতরের আগে শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্য মতে ব্যবস্থা গ্রহণ করায় চট্টগ্রামে কোনো অসন্তোষের ঘটনা ঘটেনি।

বিজিএমইএর মতে, চট্টগ্রামের প্রায় ৪৫০ গার্মেন্টস কারখানা নিয়মিত উৎপাদনে রয়েছে। এর মধ্যে অসন্তোষ হতে পারে এমন গার্মেন্টস কারখানার সংখ্যাও খুব বেশি নয়। এবার অসন্তোষের আশঙ্কায় থাকা ৫০ এর বেশি গার্মেন্টসের তালিকা প্রকাশ করেছে শিল্প পুলিশ। প্রকৃতপক্ষে এতো বেশি গার্মেন্টস কারখানা অসন্তোষ ঝুঁকিতে নেই। চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ ১০টি কারখানায় বেতন ভাতা নিয়ে অসন্তোষ হতে পারে। তবে ওই আশঙ্কা দূর করতে নানামুখী প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ।

পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি সংগৃহীত

পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি সংগৃহীত

অন্যদিকে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য মতে, চট্টগ্রামে ৬৪৬টি গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে উৎপাদনে আছে ৬৩০টি। এর মধ্যে আরএমজি এবং নন-আরএমজি ১৪৮টি কারখানা বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষের ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে ঝুঁকিতে থাকা কারখানাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে শিল্প পুলিশ।

সব ধরনের অসন্তোষ ঠেকাতে ১৫ দিন আগে থেকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছে শিল্প পুলিশ। নজরদারির সুবিধার্থে চট্টগ্রাম নগরীর শিল্পঘন ১০টি জোনে বিভক্ত করে প্রতিটি জোনের প্রবলেম ফ্যাক্টরিগুলোর মালিক-কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

এছাড়া ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বোনাস এবং আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেতন-ওভারটাইম পরিশোধের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে মালিকদের। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে মোবাইল টিম মোতায়েনের পাশাপাশি শিল্প পুলিশের উদ্যোগে নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খোলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) থাকা ১৬৮টি কারখানায় প্রায় দুই লাখ শ্রমিক কর্মরত। এছাড়া কর্ণফুলী ইপিজেডের ৫৩টি কারখানায় আরও ৬৫ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। কোরবানি ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষ কমাতে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার পোশাক শ্রমিকের বেতন চলতি মাসের ৮ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করার নিদের্শ দিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।

শিল্প পুলিশের উপ-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ মিয়া জানান, নগরীর যে কারখানাগুলোতে প্রায়ই শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে, সে রকম ১০টি কারখানাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আমরা যে অর্ধ শতাধিক কারখানার তালিকা করেছি সেগুলোতে বেতন-ভাতা নিয় অসন্তোষের আশঙ্কা আছে। তাই ওই সব কারখানায় নজরদারি বাড়িয়েছি।

ঝুঁকির তালিকায় থাকা গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে সব রকমের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের বাংলাদেশ স্পিনার্স অ্যান্ড নিটার্স লিমিটেড (বিএসকেএল) প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান কামরুল ইসলাম মাসুদ অর্থসূচককে জানান, আমদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই হাজার শ্রমিককে গত মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস একইসঙ্গে পরিশোধের প্রক্রিয়া আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই নিজস্ব নিয়ম মেনে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সিনিয়র যুগ্ম সচিব মো. আলতাফ উদ্দিন বলেন, বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত কোনো কারখানায় অসন্তোষের ঝুঁকি নেই। আমাদের সবগুলো কারখানায় ইতোমধ্যেই গত মাসের বেতন পরিশোধ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কোরবানি ঈদের আগে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য সমিতির পক্ষ থেকে মালিক পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম অর্থসূচককে বলেন, অনেক প্রতিষ্টানের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। ৮-১০ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করবে তারা। মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের কারণে প্রায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ