সরাসরি জামদানি তৈরি দেখুন জাদুঘরে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সরাসরি জামদানি তৈরি দেখুন জাদুঘরে

খট খট খটর খটর। তাঁতের হাতল টানছে তাঁতি। খট খট শব্দের সঙ্গে কুণ্ডলি থেকে আসছে সুতা। বুননের উপর তাঁতি ফুটিয়ে তুলছেন আপন নকশা। বুনন চলছে আর নতুন জামদানি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। এটি কোনো তাঁতিপল্লীর দৃশ্য নয়। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের নিচতলায় প্রবেশ করতেই এমন জামদানি শাড়ির বুনন চোখে পড়বে। আপনি চাইলে সরাসরি দেখতে পারবেন দেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি বুনন শৈলী। সেই সঙ্গে কিনতে পারবেন আপনার পছন্দের শাড়িটিও।

জাতীয় জাদুঘরে খট খট আওয়াজে জামদানি শাড়ি বুনন করেই চলেছেন দুই কারিগর। ছবি অর্থসূচক প্রতিবেদক মাইদুল ইসলাম।

জাতীয় জাদুঘরে খট খট আওয়াজে জামদানি শাড়ি বুনন করেই চলেছেন দুই কারিগর। ছবি অর্থসূচক প্রতিবেদক মাইদুল ইসলাম।

১৬ আগস্ট থেকে জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সবার জন্যই উন্মুক্ত এই প্রদর্শনী।

প্রদর্শনীতে বসানো তাঁতে বোনা হচ্ছে জামদানি। সবুজ মিয়া ও এনামুল হক নামের দুজন কারিগর মিলে সেখানে জামদানি তৈরি করছেন। নারায়ণগঞ্জের জামদানি কারিগর এনামুল হক বলেন, অনেকে জামদানির কাজ কীভাবে হয়- সেটি দেখেনি। এখানে ক্রেতারা নিজ চোখে সেটা দেখতে পারছেন। কতটা নিপুণহাতে কারিগররা একটি শাড়ি তৈরি করেন- তা জানতে পারছেন।

জাতীয় জাদুঘরে খট খট আওয়াজে জামদানি শাড়ি বুনন করেই চলেছেন দুই কারিগর। ছবি অর্থসূচক প্রতিবেদক মাইদুল ইসলাম।

জাতীয় জাদুঘরে খট খট আওয়াজে জামদানি শাড়ি বুনন করেই চলেছেন দুই কারিগর। ছবি অর্থসূচক প্রতিবেদক মাইদুল ইসলাম।

জামদানি দাম বেশি পড়ে কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলে, ক্রেতারা সব সময় এই প্রশ্নটি তুলে। আসলে জামদানি সম্পূর্ণ নিজ হাতে তৈরি করতে হয়। এখানে কোনো যন্ত্রের কোনো কাজ নেই সেজন্য সময় বেশি লাগে। একটি ৪-৫ হাজার টাকার শাড়ি তৈরি করতে দু্জন কারিগরের এক সপ্তাহ, ১২-১৫ হাজার টাকার শাড়ি তৈরি করতে ১৫ দিন এবং ২০-২৫ হাজার টাকার শাড়ি তৈরিতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। একটি জামদানি শাড়ি তৈরি করতে যে পরিশ্রম, মেধা ও সময়ের দরকার হয়- তাতেই এর দাম কিছুটা বেশি হয়ে যায়।

এনামুল হক বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে জামদানি বুনছি। প্রথম দিকে অনেক কষ্ট হয়েছিল, বেচাবিক্রি ছিল না। অভাব অনটনের মধ্যে এই পেশা ছাড়িনি। এখন অনেকটা স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তবে আজকাল অনেক তাঁতি পেশা বদল করছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে পারলে জামদানি তৈরি আরও বাড়ানো যাবে। আর এজন্য সরকারি বেসরকারি সহযোগিতা দরকার।

জামদানি বুনন দেখতে জাদুঘরে ভিড় জমিয়েছেন দর্শকরা। ছবি অর্থসূচক।

জামদানি বুনন দেখতে জাদুঘরে ভিড় জমিয়েছেন দর্শকরা। ছবি অর্থসূচক।

প্রদর্শনীতে বসানো তাঁতে জামদানি শাড়ি বুনছেন দুই তাঁতি। এদের একজন সুজন। তিনি বলেন, শাড়ি বুনতে অনেক পরিশ্রম হয়। কিন্তু সেই তুলনায় মজুরি অনেক কম। এই কাজ করে সংসার চলা এখন বড় দায়।

প্রদর্শনী ঘুরতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রেহেনা আক্তার বলেন, জামদানির প্রতি আমার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। আমার এক কলিগের কাছ থেকে এই প্রদর্শনীর কথা জানতে পেরে চলে এলাম। এখানে এসে নিজ চোখে দেখলাম- কারিগর কীভাবে নিপুত হাতে জামদানি শাড়ি তৈরি করছেন। একটি শাড়ি কেনার ইচ্ছাও আছে।

প্রদর্শনীতে জামদানি শাড়ি ও থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে। নকশার মধ্যে আছে আঙুরলতা পাড়, সন্দেশ ফুল, তেরছা নকশা, করলা পাড়, আদার ফানা, কলকা, মদন, তেরছা করাত, শাপলা।

অর্থসূচক/এমআই/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ