মীর কাসেমের ফাঁসির পর চট্টগ্রামে আনন্দ মিছিল
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

মীর কাসেমের ফাঁসির পর চট্টগ্রামে আনন্দ মিছিল

মানবতাবিরোধী অপরাধী মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের পরই আনন্দ মিছিল করেছে চট্টগ্রামবাসী। মুক্তিযোদ্ধা, তাদের সন্তানেরা এবং স্থানীয় জনসাধারণ এ আনন্দ মিছিলে অংশ নেন।

মীর কাসেমের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমাদানের জোর দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামবাসী। এছাড়া ডালিম হোটেলকে মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর করার কথাও বলেছেন তারা।

গতকাল শনিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ মীর কাসেমকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সংগঠন চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলে সামনে আনন্দ মিছিল করে।

একাত্তরে দেশ স্বাধীনের ২২ দিন আগে চট্টগ্রাম শহরের বাকলিয়া এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ ইলিয়াসকে পুরাতন টেলিগ্রাফ অফিস রোডের ডালিম হোটেলে নিয়ে গিয়েছিল মীর কাসেমের বাহিনিীর সদস্যরা।

মীর কাসেমের ফাঁসির পর তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার টনের বোঝা নেমে গেছে। জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। আমরা যারা ডালিম হোটেলে নির্যাতিত হয়েছি; আমাদের এবং নির্যাতিতদের স্বজনদের মনের দুঃখ মিটেছে। মীর কাসেমের ফাঁসি হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আজ শান্তিতে পরিণত হল।

একাত্তরের ৩০ নভেম্বর চান্দগাঁওয়ের বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরামসহ তার পরিবারের ৬ সদস্যকে নিয়ে গিয়েছিল মীর কাসেম আলী ও পাক সেনারা। মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরাম জানান, ডালিম হোটেলের দোতলার একটি কক্ষে চোখ বাঁধা অবস্থায় আমাকে আটকে রেখে প্রতিদিনই শারীরিক নির্যাতন চালাত। নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড মীর কাসেমের নির্দেশেই হতো। আমরা খুশি হব, যদি ডালিম হোটেলকে মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর করা হয়।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের হাজারী লেইনের বাসিন্দা মৃদুল দে। ওই এলাকার বাসিন্দা টুনটু সেন ও রঞ্জিত দাশকে অপহরণের পর নির্মমভাবে খুনের ঘটনায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তিনি। একাত্তরের ঘাতক মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকরের প্রতিক্রিয়ায় মৃদুল দে বলেন, যারা আঘাতপ্রাপ্ত, নির্যাতিত এবং মারা গেছে তাদের এবং তাদের স্বজনদের জন্য আজ শুভদিন। তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে আজ।

একাত্তরে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ছয়জনকে হত্যার দায়ে চট্টগ্রামের আল-বদর কমান্ডার মীর কাসেমকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কিশোর মুক্তিযোদ্ধার জসিমের মামাত বোন ৭৫ বছর বয়সী হাসিনা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, আমার কোনো আপন ভাই নেই। যুদ্ধের সময় ডালিম হোটেলে ফুফাতো ভাই জসিমকে নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে, তখন থেকেই খুনির বিচার চেয়েছি। মীর কাসেমের ফাঁসির পর বুক থেকে বিশাল পাথর নেমে গেল।

মুক্তিযুদ্ধকালে চট্টগ্রামের আলবদর বাহিনীর প্রধান মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরে অত্যন্ত খুশি শহীদ জায়া বেগম মুশতারি শফি। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এই রাজাকারের উপযুক্ত শাস্তি হওয়ায় আমি অত্যন্ত খুশি। এ নরঘাতক মুক্তিযুদ্ধের সময় হাজার হাজার মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর-শামস বাহিনী গঠন করে মীর কাসেম আলী যে অত্যাচার চালিয়েছে এর কোন ক্ষমা নেই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী অর্থসূচককে জানান, মীর কাসেমের ফাঁসি হওয়ায় আমিও সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। তার ফাঁসির রায় কার্যকর দেখতে পেরে চট্টগ্রামবাসী হিসেবে আমি গর্বিত।

মীর কাসেম আলীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের কাজে লাগানোর দাবি জানা তিনি।

মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের আগেই চট্টগ্রামে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ