বিএসইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পিএফআই সিকিউরিটিজ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বিএসইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পিএফআই সিকিউরিটিজ

পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছে পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড। শেয়ার কারসাজির দায়ে করা জরিমানা প্রতিষ্ঠানটির আপিলের প্রেক্ষিতে কমিয়ে দেড় কোটি টাকা থেকে ৭৫ লাখ টাকা করা হলেও তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি তারা। জরিমানার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটি হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।

রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জরিমানার সিদ্ধান্ত ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধের নির্দেশনাকে কেনো আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না অর্থমন্ত্রণালয়, বিএসইসির চেয়ারম্যান, কমিশনার, পরিচালক ও উপ-পরিচালকদের কারণ দর্শাতে বলেছে। গত ২ আগস্ট আদালতের নির্দেশনার কপি হাতে পেয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করে বিএসইসি। ওই জরিমানার বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করেছে পিএফআই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, পিএফআই সিকিউরিটিজের পক্ষ থেকে গত মাসে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। ওই আবেদন হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের যৌথ বেঞ্চে শুনানি হয়ছে। শুনানি শেষে ২৫ জুলাই ৩ মাসের জন্য বিএসইসির করা জরিমানা স্থগিত করে দেয়।

২০১৪ সালের ১৫ জুলাই দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন চালু হয়। কিন্তু শুরুতেই অস্বাভাবিক লেনদেন সন্দেহে ওই বছরের ২ আগস্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। তদন্তের মধ্যেও বাড়তে থাকে শেয়ারের দর। এক পর্যায়ে ১১ আগস্ট থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৪৪ কার্যদিবস লেনদেন স্থগিত রাখে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। তদন্ত প্রতিবেদনে কারসাজির চিত্র উঠে আসে। জরিমানা করা হয় ৯ প্রতিষ্ঠান এবং ৮ ব্যক্তিকে। কারসাজির ঘটনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয় পিএফআই সিকিউরিটজকে।

বিএসইসির তথ্য অনুসারে, পিএফআই সিকিউরিটিজ শাহজিবাজারের শেয়ার কিনতে গিয়ে সম্মিলত গ্রাহক হিসাবের অর্থ ব্যবহার, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন পক্ষকে শাহজিবাজারের শেয়ার কেনায় যুক্ত করা এবং সীমার অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ সুবিধা দেওয়া। এর মাধ্যমে আইনের তিনটি ধারা লংঘন করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিএসইসি প্রতিষ্ঠানটিকে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করে।

পিএফআই সিকিউরিটিজ ওই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করলে বিএসইসি তা কমিয়ে ৭৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে। বিধি অনুসারে পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার এ অর্থ পরিশোধ করা। কিন্তু পিএফআই সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে না পেরে এটিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পিএফআই সিকিউরিটিজে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, বিএসইসির দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আদালতে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত আবার বাতিল করেছি।

তবে রিট প্রত্যাহারের বিষয়ে বিএসইসি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিয়ন্ত্রক সংস্থার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেন, পিএফআই সিকিউরিটিজ আমাদেরকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিল তারা রিটটি প্রত্যাহার করে নেবে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো ডকুমেন্টস হাতে পাইনি।

অর্থসূচক/গিয়াস

এই বিভাগের আরো সংবাদ