'মোবাইল ব্যাংকিং নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক-বিটিআরসির নিয়ন্ত্রণ দরকার'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘মোবাইল ব্যাংকিং নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক-বিটিআরসির নিয়ন্ত্রণ দরকার’

মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম নিরাপদ এবং কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসির (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) যৌথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা দরকার বলে মনে করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক এবং মোবাইল অপারেটররা যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সেবা দিলে মোবাইল ব্যাংকিংসহ ডিজিটাল অর্থনৈতিক কার্যক্রম থেকে আরও বেশি সুফল আসবে।’

মঙ্গলবার স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

tarana‘বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: ডিজিটাল আর্থিক কার্যক্রমে সুযোগ, সঙ্কট এবং ভবিষ্যতে করণীয়’ শীর্ষক টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক (টিআরএনবি) আয়োজিত এ গোলটেবিল  দুটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এগুলো উপস্থাপন করেন পুলিশের বিশেষ অপরাধ তদন্ত বিভাগের ডিআইজি (কমান্ড্যান্ট, ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) শাহ আলম এবং টিআরএনবি-এর সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ।

টিআরএনবি সভাপতি রাশেদ মেহেদীর সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় আরও অংশ নেন মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের প্রধান নির্বাহী ও মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবীর, বিকাশের উপদেষ্টা অসীম দাশগুপ্ত ও চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শেখ মনিরুল ইসলাম, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসাইন, বিটিআরসির পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক প্রজ্ঞা পারমিতা সাহা, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের হেড অব ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন আবুল কাশেম খান, বাংলালিংকের পরিচালক (এমএফএস) আসিফ আহমেদ, রবির হেড অব ডিজিটাল সার্ভিস মনজুর রহমান, আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা প্রাইসওয়াটারহাউজ কুপারস-বাংলাদেশের প্রধান মামুনুর রশীদ, পিআই স্ট্যাটেজিক কনসালটেশন-বাংলাদেশের পিয়াল ইসলাম, মাইক্রোসেভের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার জাকিরুল ইসলাম, গ্রামীণফোনের সিনিয়র স্পেশালিস্ট রাশিদা সুলতানা এবং মহিন্দ্র কমভিভা বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড রিয়াদ হাসনাইন।

পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় অধিকাংশ আদান-প্রদান প্রকৃত লেনদেনকারীর অ্যাকাউন্ট ছাড়া হওয়ার কারণে এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী অর্থায়নের ঝুঁকি বাড়ছে। পুলিশের প্রতিবেদনে এ ধরনের লেনদেনের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং-এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের ধরা যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়।

টিআরএনবি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সফল বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের নীতিমালায় ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে ব্যাংক ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের যৌথ অংশীদারিত্বের সুযোগ থাকলে দেশে এ খাতে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। এতে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা সাধারণ মানুষকে আরও বেশি আর্থিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সন্দেহ নেই বিকাশ দেশের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু একইসঙ্গে বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে মোবাইল অপারেটরদেরও এই খাতে সেবা প্রদানের সুযোগ থাকা উচিত।’

একইসঙ্গে মোবাইলে আর্থিক লেনদেন নিরাপদ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসি-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক কার্যক্রম বিকশিত করার বড় সম্ভাবনা  রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য নতুন উদ্ভাবন ও উদার নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ