মাঝারি ব্যায়ামে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে ৩১%
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মাঝারি ব্যায়ামে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে ৩১%

সু-স্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। যেকোনো ধরনের শারীরিক ব্যায়াম হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে রক্ষা করে। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও ব্যায়ামের সুফল পাওয়া যায়। ভারী ব্যায়াম তাদের কাছে দুঃসাধ্য হলেও মাঝারি ব্যায়াম করেই হার্ট অ্যাটাকসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন তারা।

সম্প্রতি ইতালির রোমে ইউরোপিয়ান সোসাইটি আব কার্ডিওলোজি কংগ্রেসের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেকোনো বয়সে মাঝারি ধরনের ব্যায়াম করা হলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৩১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য বিশেষ উপকারী এটি। গবেষণার পর ব্যায়ামের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক ঝুঁকির সম্পর্কে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন গবেষকরা।Jogging

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চলা এই গবেষণায় ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সের প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন গবেষণা দলের সদস্যরা। হালকা, মাঝারি এবং ভারী এই তিন ধাপের শরীর চর্চার ওপর গবেষণা পরিচালনা করেন তারা। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, মাঝারি ধরনের ব্যায়ামে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৩১ শতাংশ এবং ভারি বা অতিমাত্রার শারীরিক ব্যায়ামে বড় ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

হালকা ব্যায়াম: হালকা শরীর চর্চার মধ্যে বই পড়া, টিভি দেখা এবং ঘরের টুকিটাকি কাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মাঝারি ব্যায়াম: মাঝারি ব্যায়ামের মধ্যে হাঁটা, বাইসাইকেল চালানো, মাছ ধরা, বাগান পরিচর্যা করা, শিকার করাসহ প্রতি সপ্তহে শরীর চর্চার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন চার ঘণ্টা সময় দিতে বলেছেন গবেষকরা।

ভারী ব্যায়াম: ভারী ব্যায়ামের মধ্যে বিনোদনমূলক ব্যায়াম যেমন- দৌড়ানো, স্কিং, জিমন্যাস্টিক, সাঁতার, বল খেলাসহ যেকোনো ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াকে বুঝিয়েছেন। যা এক সপ্তাহে কমপক্ষে তিন ঘণ্টা করতে হবে।

গবেষণায় বলা হয়, মাঝারি ব্যায়াম করার ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৩১ শতাংশ পর্যন্ত কমে। অন্যদিকে ভারী ব্যায়াম করা হলে তীব্র হৃদরোগের ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এছাড়া হৃদরোগে মৃত্যু ঝুঁকির ক্ষেত্রে মাঝারি ব্যায়ামে ৫৪ শতাংশ এবং ভারী ব্যায়ামে ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে।

গবেষকদের একজন ফিনল্যন্ডের উলু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিতা অ্যান্টিকেইনেন বলেন, শরীর চর্চা মানুষের জীবনে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। একইসঙ্গে হার্টের বিভিন্ন রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। নিয়মিত শরীর চর্চার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে থাকে।

তিনি বলেন, শারিরিক ভাবে সুস্থ কিন্তু হৃদরোগের কারণে স্ট্রোক কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে এমন বয়স্কদের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে।

অধ্যাপক রিতা অ্যান্টিকেইনেন জানান, অবসর সময়ে শরীর চর্চার মাত্রা কর্মক্ষমতার জন্য খুবই ফলপ্রসু। হৃদরোগ ছাড়াও উচ্চমাত্রার কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর চর্চা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে মাঝারি ধরনের শরীর চর্চা অব্যাহত রাখা উচিৎ।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ