রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলার কারণেই সার কারখানায় গ্যাস বিস্ফোরণ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলার কারণেই সার কারখানায় গ্যাস বিস্ফোরণ

ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলার কারণেই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানায় গ্যাস ট্যাংক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

গতকাল রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।

Gas Blast

আনোয়ারায় ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানায় গ্যাস ট্যাংক বিস্ফোরণ। ফাইল ছবি

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, কারখানাটির ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর তা মোকাবেলায় কারখানার কর্মীদের প্রস্তুতির অভাব ছিল। এজন্য কেউ দ্রুত প্রতিরোধ করতে পারেননি।

তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে এভাবে গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে তার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দ্রুত পানি ছিটাতে হয়। কিন্তু সেসময় কারখানাটির পানি ছিটানোর সিস্টেমটি কাজ করেনি। এজন্য গ্যাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, এছাড়া বাতাসের গতিবেগ পশ্চিমমুখী হওয়ায় গ্যাস নদীর দিকে চলে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। একইসঙ্গে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব কারখানার শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে আরও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই দুর্ঘটনা মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিসের ৩০ জন সুদক্ষ কর্মী কাজ করেছেন। তারা সবাই সিঙ্গাপুর থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের কর্মীরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে মোকাবেলা করেছে। যথেষ্ট দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করেছে তারা। তবে দুঃখের বিষয় হলো, ওই কারখানায় দুর্ঘটনা মোকাবেলা টিমের সদস্য ও কর্মীরা গ্যাস থেকে রেহাই পেতে আগেই ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়েছিল।

জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। এতে কারখানার যথেষ্ট ত্রুটি পাওয়া গেছে। দায়িত্বহীনতার পরিচয় না দিলে এমন ঘটনা ঘটতো না। আমরা স্থানীয়দের বক্তব্য সংগ্রহ করেছি। সবার সঙ্গে কথা বলে, এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করেছি। তবে বিসিআইসির টেকনিক্যাল দলের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ৭ কর্মদিবসের মধ্যে আমাদেরটা প্রকাশ করবো।

প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাতে ডিএপি-১ প্লান্টের ৫০০ টন ধারণক্ষমতার একটি অ্যামোনিয়া রিজার্ভ ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়ে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অ্যামোনিয়া গ্যাস ট্যাংক বিস্ফোরণে কারখানার ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- প্লান্ট-১-এর ট্যাংকটিতে তিন বছর আগে ত্রুটি ধরা পড়ার পরও তা সংস্কার করা হয়নি। তাই ৫০০ টন অ্যামোনিয়া গ্যাসের চাপ ধরে রাখতে না পারায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কারখানাটির বর্জ্য পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও তা ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ছিল। কারখানাটির নিয়মিত বর্জ্য আশপাশের নালা ও খালে গিয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর একই সঙ্গে অনেক বর্জ্য নিঃসরণ হওয়ায় তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নিঃসরিত অ্যামোনিয়া গ্যাসে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃত্যু হয়েছে। কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুব্যবস্থা থাকলে এ ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।

ঝুঁকি এড়াতে নির্দিষ্ট সময় পর পর কেমিক্যাল কারখানায় ওভারহোলিং করতে হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১০ বছরেও ওভারহোলিং হয়নি ডিএপি সার কারখানার। ওভারহোলিং না হওয়ায় কারখানার ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতিও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

২০০৬ সালে চায়না কমপ্লান্ট নামের চীনা প্রতিষ্ঠান ডিএপি প্লান্টটি নির্মাণ করেছিল। গতকাল চায়না কমপ্লান্টের ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের চীনা প্রতিনিধি দল কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে দুর্ঘটনাকবলিত বিস্ফোরিত অ্যামোনিয়া ট্যাংক ও ডিএপি প্লান্ট পরিদর্শন করে।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ