মাদিবার শেষ শ্রদ্ধা ১৫ ডিসেম্বর
শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

মাদিবার শেষ শ্রদ্ধা ১৫ ডিসেম্বর

nelson-mandela১৫ ডিসেম্বর রোববার মানবতার মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা লেনসন ম্যান্ডেলাকে ওরফে মাদিবাকে তার জন্মস্থান ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুনু গ্রামে সমাহিত করা হবে। তার আগে প্রিটোরিয়ার ইউনিয়ন ভবনের সামনে তিন দিনের জন্য রাখা হবে এই মহারথীর দেহ। সে পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

আফ্রিকার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশিনে দেয়া ভাষণে এসব কথা জানিয়েছেন জ্যাকব জুমা। ইতোমধ্যেই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এই বিশ্বনেতার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তার পত্নী হিলারী মতো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেতারা। জুমা জানান, রোববার দিন ম্যান্ডেলার শেষকৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দেশটির সর্বোস্তরের মানুষকে যোগ দেয়ার জন্য আহ্বান করা হয়েছে।

আর মঙ্গলবার ২০১০ বিশ্বকাপ ফুটবলের অয়োজক জোহানেসবার্গের সকার সিটি স্টেডিয়ামে ম্যান্ডেলা প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে ভোগে মারা গিয়েছেন নেলসন রোলিহলালা ম্যান্ডেলা। শুক্রবার ভোর রাতে সেই খবর জানাজানি হতেই ৯৫ বছর বয়সী রাষ্ট্রনায়কের বাড়ির সামনে অসংখ্য মানুষের ঢল নামে। সকলের মুখে একটাই কথা “আমরা অনাথ হলাম।” নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুসংবাদ দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাও বলেন, এ দেশের মানুষ তাদের পিতাকে হারাল।

১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম। বাবা নাম রেখেছিলেন রোলিহ্লাহ্লা ডালিভুঙ্গা ম্যান্ডেলা। স্কুলের এক শিক্ষক তার ইংরেজি নাম রাখলেন নেলসন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার আপামর মানুষের কাছে তিনি পরিচিতি পেলেন ‘মাদিবা’ নামে। তরুণ বয়সে নেলসন ম্যান্ডেলা চলে আসেন জোহানেসবার্গে, সেখানে তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের যুব শাখার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে। আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা অলিভার টাম্বোর সঙ্গে মিলে তিনি তার অফিস খোলেন জোহানেসবার্গে।

১৯৬০ সালে শার্পভিলে কৃষ্ণাঙ্গ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে ৬৯ জন নিহত হলে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। এএনসি সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করলে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নেলসন ম্যান্ডেলাকে গ্রেফতার করা হয়, বিচারে তার যাবজ্জীবন সাজা হয়।

শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৭ বছর কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পান ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান ১৯৯৩ সালে। ১৯৯৪ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন নেলসন ম্যান্ডেলা। বর্ণবাদবিরোধীদের একাট্টা করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সে পথ মাড়াননি তিনি। দীর্ঘ কারাভোগ-নির্যাতন সহ্য করা সত্ত্বেও প্রতিহিংসার ছিটেফোটাও প্রকাশ পায়নি কখনো তার কোনো কাজে, বরং কালোদের পাশাপাশি সাদা মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করেছেন নির্বিবাদে নিরন্তর। ২০০৪ সালে রাজনীতি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যাওয়ার পর থেকে ম্যান্ডেলা জনসমক্ষেই আসতেন না বলা চলে। সর্বশেষ তিনি জনসমক্ষে বের হয়েছিলেন ২০১০ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের সময়টাতে। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ ও পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে তিনি প্রিটোরিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। পক্ষকাল চিকিৎসা শেষে জোহানেসবার্গের বাসায় ফেরেন। নিয়মিত চিকিৎসা চলতে থাকে সেখানে। চলতি বছরের মার্চে আবার নিউমোনিয়া নিয়ে ১০ দিন কাটান হাসপাতালে। এভাবে বাড়ী-হাসপাতাল দৌড়াদৌড়িতেই কেটে গেছে তার শেষ দিনগুলো। তার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব কেবল একজন মহান নেতাকে হারায়নি, হারিয়েছে বর্ণবাদ বিরোধী ইতিহাসের মহান এক যুগকেও।

এই বিভাগের আরো সংবাদ