চতুর্থ দিনে নৌ ধর্মঘট: বন্দরে বাড়ছে জাহাজ ও কন্টেইনার জট
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চতুর্থ দিনে নৌ ধর্মঘট: বন্দরে বাড়ছে জাহাজ ও কন্টেইনার জট

চলতি বছরের শুরু থেকে নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। জানুয়ারি ও মার্চ মাসে দুই দফায় প্রায় ১৬ দিন ধর্মঘট করেছিল নৌ শ্রমিক ও মালিক পক্ষ। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতের কারণেও বেশ কিছুদিন পণ্য খালাস ও অন্যান্য কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল। এছাড়া বন্দরের অভ্যন্তরীণ আনুষাঙ্গিক সমস্যা তো আছেই।

প্রায় সব সমস্যা কাটিয়ে বন্দর যখন নিজস্ব রূপ ফিরে পেতে শুরু করেছে, তখন আবারও নতুন করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে নৌ শ্রমিকদের কয়েকটি সংগঠন। নৌ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও নৌপথের নাব্যতা বাড়ানোসহ ১৫ দফা দাবিতে ডাকা তৃতীয় দফা ধর্মঘটের চতুর্থ দিন আজ।

এর আগে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি প্রথম দফায় ধর্মঘট করেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় এবং গত ২২ আগস্ট তৃতীয় দফায় ধর্মঘট শুরু করে নৌ শ্রমিকরা।

আর এতে দেশের প্রধান বন্দর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম বার বার ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আমদানি-রপ্তানির ব্যাঘাত ঘটায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস।

Ctg portচলমান তৃতীয় দফার নৌ ধর্মঘটে আজ চতুর্থ দিনের মতো চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে পণ্য খালাস বন্দ রয়েছে। বন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা গেছে, ধর্মঘটের কারণে বহিঃনোঙরে লাইটারেজ জাহাজ চালানোও বন্ধ রেখেছেন নৌ শ্রমিকরা। এতে পণ্য খালাস করতে না পেরে আটকে আছে ৩৫ টি মাদার ভেসেলে (বড় জাহাজ) আমদানিকৃত সোয়া ৬ লাখ টন গম, ডাল, চিনিসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য এবং সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পাথর। আরও ৬ থেকে ৭টি ভোগ্যপণ্যবাহী জাহাজ কিছুদিনের মধ্যে বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে।

এদিকে ধর্মঘটের কারণে কর্ণফুলী নদীতে অলসভাবে পড়ে আছে ১৫৪টি লাইটারেজ জাহাজ। দেশব্যাপী নৌযান ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরের পাশাপাশি সারাদেশে নৌ পরিবহন খাতে পণ্য পরিবহন মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের দেওয়া তথ্য মতে, নৌযান শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে দেশের বিভিন্ন বন্দরের বহিঃনোঙরে মোট ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৮৪ টন পণ্য আটকে আছে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন ঘাটে অবস্থানরত ৬১১টি লাইটার জাহাজে ৭ লাখ ২২ হাজার ৫৪৫ টন ক্লিংকার, কয়লা, পাথর এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য রয়েছে। এছাড়া সেইলিংয়ের জন্য অপেক্ষমাণ ৯৫টি জাহাজে ১ লাখ ৩০ হাজার ৩০০ টন এবং লোডিংয়ের জন্য অপেক্ষমাণ ১১৬টি জাহাজে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮০ টন আমদানি পণ্য রয়েছে।

ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশীদ বলেন, শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে মাদার ভেসেল ও লাইটার জাহাজ মিলে শুধু চট্টগ্রামে দৈনিক প্রায় ৫ কোটি টাকার বাড়তি মাশুল গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। আমদানিকারকদের আর্থিক ক্ষতি এবং স্থানীয় বাজারে পণ্য সংকটের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এছাড়া বন্দরে চাপ বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ব্যবসায়ীরা জানান, নৌযান শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে বহিঃনোঙরে জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস করতে না পারায় প্রতিদিন জাহাজ ভাড়া বাবদ ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়তি মাশুল দিতে হচ্ছে। এছাড়া সময়মতো কাঁচামাল উৎপাদনমুখী কারখানায় পৌঁছাতে না পারায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, পাঁচ মাস আগে নৌ শ্রমিক ও মালিকরা ধর্মঘট করলো। তাদের ধর্মঘট আবারও শুরু হয়েছে। গতবার ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছিল। কোরবানির ঈদ আসার আগে আবারও ধর্মঘট করায় নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। ধর্মঘটে আমাদের ব্যয় বাড়ে, এমন চলত থাকলে ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, ধর্মঘট দেশের অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব ধর্মঘটে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং কাঁচামালের অভাবে উৎপাদনও ব্যাহত হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে ধর্মঘট প্রত্যাহারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) জাফর আলম জানান, বছরের শুরু থেকেই নৌযান শ্রমিক ও মালিকদের বিভিন্ন কারণে ধর্মঘট লেগেই আছে। গতবারের ধর্মঘটে বন্দরে জাহাজ ও কন্টেইনার জটের কারণে আমাদের বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল। সম্প্রতি বন্দরে জট কমাতে সক্ষম হয়েছি। এর মধ্যে আবার ধর্মঘট শুরু; বন্দরে আবার জট দেখা দিতে পারে। দেশের অর্থনীতির জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা।

প্রসঙ্গত, সর্বনিম্ন বেতন ১০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবিতে গত সোমবার মধ্যরাত থেকে সারাদেশের নৌযান শ্রমিকেরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করে। বিভিন্ন শিল্প কারখানার কাঁচামালবাহী জাহাজগুলোর পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে বন্দরের বহিঃনোঙরে আবারও জাহাজজট এবং ইয়ার্ডে কন্টেইনার জটের আশঙ্কাও করছেন তারা।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ