বালি প্যাকেজ গৃহীত, স্বল্পোন্নত দেশের বাণিজ্য বাড়বে

Ministerial Conference 2013অনেক নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত বালি প্যাকেজ ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নবম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। বালি প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে বিশ্ব বাণিজ্য অনেক গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডব্লিউটিও’র মহাপরিচালক রবার্তো আজেভেদো।

এ প্যাকেজের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) বাণিজ্য বাড়বে, তারা বিশ্ব বাণিজ্য থেকে অনেক বেশী লাভবান হতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
খাদ্য নিরাপত্তাসহ বেশ কিছু ইস্যুতে উন্নত বিশ্ব ও ভারতসহ প্রভাবশালী উদীয়মান অর্থনীতির বিরোধের কারণে অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল এবারের সম্মেলনের ভাগ্য।

শেষ পর্যন্ত কোনো ঐকমত্য ও ঘোষণা ছাড়াই এ সম্মেলন শেষ হবে এমন আশংকা করছিলেন সবাই। যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে বালি সম্মেলনকে ফলপ্রসূ করতে আয়োজক দেশ ইন্দোনেশিয়া ব্যাকুল হয়ে উঠে। খোদ দেশটির প্রেসিডেন্ট সুসিলো বাবাঙ্গ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে ফোন করে অবস্থান নমনীয় করার অনুরোধ জানান।
এদিকে মঙ্গলবার শুরু হওয়া চারদিনের সম্মেলন শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রবল মতবিরোধিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আবার সম্মেলনের আয়োজক ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশ প্রাণপ্ণ চেষ্টা চালাতে থাকে যে কোনো মূল্যে বালি প্যাকেজ অনুমোদন করিয়ে নিতে। শুক্রবার রাতভর দরকষাকষির পর শনিবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১২ টায় সদস্য দেশগুলো ঐকমত্যে আসতে সক্ষম হয়।
বেলা ১ টায় সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে নবম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের চেয়ারম্যান ও ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রী গীতা বীরজোয়ান ও ডব্লিউটিও’র মহাপরিচালক রবার্তো আজাভেদো সম্মেলনকে সফল বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রবার্তো আজাভেদো এবারের সম্মেলনকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এবারের মতো সর্বসম্মতিতে সব ইস্যু অনুমোদনের ঘটনা আর কোনো সম্মেলনে হয় নি।

বালি প্যাকেজে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য বেশ কিছু সুখবর রয়েছে। সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো এলডিসির জন্য কোটা ও শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

বালি সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, যেসব উন্নত দেশ এখনও এলডিসিগুলোকে ৯৭ ভাগ পর্যন্ত পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়নি তারা সংস্থার পরবর্তী মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের আগেই তা ন্যূনতম ৯৭ ভাগে উন্নীত করবে; যাতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বাজার সম্প্রসারিত হয়।
সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোও স্বল্পোন্নত দেশের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পক্ষে তাদের অবস্থানের কথা জানায়। খসড়া ঘোষণাপত্র অনুসারে, যেসব উন্নয়নশীল দেশ এলডিসিকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে তারা ধীরে ধীরে এ সুবিধার আওতা বাড়াবে তথা আরও বেশি সংখ্যক পণ্যে তারা এ সুবিধা দেবে। অন্যদিকে যেসব উন্নয়নশীল দেশ এখনো এলডিসিগুলোকে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দেওয়া শুরু করেনি, তারা তা শুরু করবে।
এছাড়া উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো রুলস অব অরিজিন বা শিল্প পণ্যের কাঁচামালের উৎস সম্পর্কিত শর্তাবলীও শিথিল করবে। দেশগুলো নিজ নিজ বাস্তবতার আলোকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ডব্লিউটিও মহাপরিচালক এক প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বলেন, বালি প্যাকেজের মাধ্যমে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোই বেশি লাভবান হবে। এদের রপ্তানি বাজার বড় হবে।

সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, এ সম্মেলন বাংলাদেশর জন্য খুবই সফল। বাংলাদেশ যা চেয়েছে তার সবই পেয়েছে।

তবে বাংলাদেশের উন্নয়ন সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক ইক্যুইটি বিডির সমন্বয়ক ও ডব্লিউটিও’র বিশ্লেষক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সম্মেলনের সাফল্যকে অতিশয়োক্তি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো স্বল্পোন্নত দেশের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও এগুলোর বাস্তবায়নে কোনো গ্যারান্টি ক্লজ নেই। তাই কেউ প্রতিশ্রুতি না রাখলে ডব্লিউটিও বা অন্য কারো কিছু করার থাকবে না।
তবে খাদ্য নিরাপত্তার ইস্যুটিকে তিনি বড় ধরনের অর্জন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, এই প্রথম ডব্লিউটিও’র কোনে সম্মেলনে কৃষি ও খাদ্য পণ্যকে নিছক পণ্য হিসেবে দেখা হয় নি। এটিকে মৌলিক অধিকারের নিরিখে দেথা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দরিদ্র দেশ যদি কৃষি খাতে ও খাদ্যে ভর্তুকী বাড়ায় তাতে কেউ আপত্তি করতে পারবে না।