বিকল্প থাকলেও কয়লাভিত্তিক জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বিকল্প থাকলেও কয়লাভিত্তিক জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

জার্মানি, ফ্রান্স, সৌদি আরব, ভারতের মতো দেশগুলো যখন কয়লাভিত্তিক জ্বালানি ছেড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, তখন এ জ্বালানির অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অতিরিক্ত তেল, গ্যাস ও কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।

বুধবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্রেনডিস ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাজিদ কামাল এসব কথা বলেন।

‘অদম্য এক বিপ্লব: শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানী-ভবিষ্যতের দিকে ধাবমান সারা বিশ্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশা

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশা

ড. সাজেদ কামাল বলেন, জার্মানি ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর ১০০ ভাগ নির্ভরতার ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরব ও ফ্রান্স একই ধরনের আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। ভারতও ২০২২ সালের মধ্যে ১ লাখ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, যেসব দেশ কয়লাভিত্তিক জ্বালানি নির্ভর ছিল তারাও আজ ওই পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। অথচ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা অফুরন্ত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ অতিরিক্ত তেল, গ্যাস ও কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।

১ ঘন্টার সূর্যের আলো থেকে প্রাপ্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে গোটা পৃথিবীর ১ বছরের জ্বালানি চাহিদা মেটানো সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা স্থায়ীভাবে মেটানোর জন্য সৌরশক্তিকে ব্যবহার করার জন্য এখনই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের বাজেট বরাদ্দসহ দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা করতে হবে।

ড. সাজেদ কামাল বলেন, সৌরশক্তি একটি জনবান্ধব, পরিবেশবান্ধব ও অর্থনীতিবান্ধব প্রযুক্তি। বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহার করে শুধু তার নিজস্ব জ্বালানি সংকট নিরসন নয় বরং সারা বিশ্বের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

বাপার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, কিছু মুনাফালোভী গোষ্ঠী ও ব্যক্তির কারণে বিরাট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। অথচ আমাদের প্রকৃতি, পানি ও মাটিকে ধবংস করে কয়লাভিত্তিক জ্বালানিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে এবং পরিবেশ ধবংসকারী বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, কিছু দেশি-বিদেশি গোষ্ঠীর মুনাফা লাভের জন্য রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের চক্রান্ত হচ্ছে, যা খুবই হতাশাজনক। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের যে প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল সুন্দরবন, তা ধবংস হবে।

অধ্যাপক বদরুল ইমাম, সৌরশক্তিকে জনপ্রিয় ও কার্যকর করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

এসময় আরও বক্তব্য দেন লেখক-বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ, অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল প্রমুখ।

অর্থসূচক/এমআই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ