সার কারখানায় গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » চট্টগ্রাম ও বন্দর

সার কারখানায় গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি

চট্টগ্রামের আনোয়ারার ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট প্লান্টের (ডিএপি) নামের সার কারখানার ট্যাংক ছিদ্র হয়ে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ও জেলা প্রশাসন ।

গতকাল মঙ্গলবার দুর্ঘটনাকবলিত ডিএপি প্ল্যান্ট পরিদর্শন শেষে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ইকবাল ও জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ইকবাল জানান, বিসিআইসির পরিচালককে (কারিগরি এবং প্রকৌশল) প্রধান করে প্রকৃত কারিগরি ত্রুটি নির্ণয়ের লক্ষ্যে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ ও বিসিআইসির সাবেক প্রকৌশলীদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট দেওয়ার জন্য কমিটিকে বলা হয়েছে।

ওই ট্যাংক ও ডিএপি-১ প্লান্টের প্রস্তুতকারকদের সঙ্গেও যোগাযাগ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তীতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে জন্য সার্বিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্বের অবহেলার কারণে এই ঘটনা ঘটলে এর জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রসাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো. ইকবাল বলেন, সার কারখানা হচ্ছে অনেক প্রসেসের সমাহার। ইউটিলিটি সার্ভিস আছে। প্রসেস আছে। সার উৎপাদন অনেক জটিল ব্যবস্থা। এই কারখানায় সর্বাধুনিক ডিসিএস সিস্টেমে ডাটা নেওয়া হয়। ঝুঁকি ও জনস্বাস্থ্যের জন্যে হুমকি আছে কি না- তা আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করি।

গত সোমবার রাতে ট্যাংক ছিদ্র হওয়ার পরপরই সার কারখানার আশপাশের পুকুর ও ঘোনার পানিতে অ্যামোনিয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিষক্রিয়ায় অনেক মাছ, জলজ প্রাণি মারা গেছে। দুর্ঘটনার পর মরা মাছ ভেসে ওঠা এবং ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এজন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তারা।

এদিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুর্ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুর রশিদকে আহ্বায়ক এবং আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গৌতম বাড়ৈ ও কর্ণফুলী থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা শেষে ৭ কর্মদিবসের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেবে। এই ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রভাব বর্তমানে নেই। কারও দায়িত্ব অবহেলা আছে কি না কিংবা কেউ দোষী কি না- তার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ করবে তদন্ত কমিটি।

নাশকতার উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটেছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি নাশকতা কি না- সে ব্যাপারে কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই। গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারার ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট প্লান্টের (ডিএপি) নামের সার কারখানার ট্যাংক ছিদ্র হয়ে আমনিয়াম গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে গ্যাসের তীব্রতায় অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রায় ৫২ জন। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চারটি ওয়ার্ডে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ২৫ জন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গতকাল মঙ্গলবারই হাসপাতাল ছেড়েছেন।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ