বন্দরে প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিকদের কর্মবিরতি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » চট্টগ্রাম ও বন্দর

বন্দরে প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিকদের কর্মবিরতি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ৭ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দরে কর্মবিরতি শুরু করেছেন প্রাইম মুভার টেইলার মালিক শ্রমিকেরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এই কর্মসূচির কারণে আজ সোমবার সকাল থেকে বন্দরের ১০ হাজার ৯৯৭টি প্রাইম মুভার টেইলার বন্ধ রয়েছে।

প্রাইম মুভার টেইলার মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মো. হুমায়ুন কবির জানান, প্রাইম মুভার টেইলরের পক্ষ থেকে ৫০০ টাকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে কর দিতাম। কিন্তু বর্তমানে আমাদের কাছ ১০ হাজার টাকা করে কর আদায় করছে সিটি কর্পোরেশন। বিষয়টি নিয়ে বারবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এর সমাধান হয়নি।

Prime Moverতিনি জানান, বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছি। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ ছাড়া আর কেউ আমাদের বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে আসেনি। তাই আমরা পণ্য পরিবহন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ১১ হাজার প্রাইম মুভার টেইলার রয়েছে। এর মধ্যে ৭ দফা দাবিতে ১০ হাজার ৯৯৭টি প্রাইম মুভার টেইলার বন্ধ রয়েছে।

প্রাইম মুভার টেইলার মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব বলেন, ১৬টি অফডকের নিজস্ব পাঁচ শতাধিক প্রাইম মুভার টেইলার আছে। তবে ওই সব গাড়ির চালক ও সহযোগীরা আমাদের পরিষদভুক্ত হওয়ায় তারাও কর্মবিরতির আওতায় এসেছেন।

তিনি জানান, প্রাইম মুভারের সামনের অংশ রেজিস্ট্রেশন করতে প্রতি বছর ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু পণ্য পরিবহনের সময় পেছনের অংশের অনুমোদন নেই বলে সমস্যা সৃষ্টি করে বিআরটিএ।

৭ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্রাইম মুভার টেইলর অপারেটরদের হেভি লাইসেন্স প্রদান, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, বন্দর এলাকায় টার্মিনাল নির্মাণ ঘোষণার বাস্তবায়ন ইত্যাদি।

প্রসঙ্গত, জাহাজ থেকে ২০ ফুট বা ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার, শিল্পকারখানার বড় যন্ত্রপাতি, বিলেট, স্টিল কয়েলসহ শিল্পের ভারী কাঁচামাল জাহাজ বা ইয়ার্ড থেকে সরাসরি কারখানা বা অফডকে নিয়ে যেতে হলে প্রাইম মুভার টেইলার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরের ইয়ার্ডে একটি কন্টেইনার খুললে ওই পণ্যগুলো নিতে কমপক্ষে ২-৩টি ট্রাকের প্রয়োজন পড়ে। এর পরিবর্তে একটি প্রাইম মুভার টেইলারের সাহায্যে বড় কন্টেইনার বন্দর থেকে বাইরে নেওয়া যায়।

দ্রুত কর্মবিরতি প্রত্যাহার না করলে বন্দরে কন্টেইনার আনা-নেওয়া ব্যাহত হওয়ায় কন্টেইনার ও জাহাজ-জটের পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিসহ উৎপাদন ও সরবরাহ খাতে অচলাবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ