কোরবানি পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণের বিপক্ষে ব্যবসায়ীরা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কোরবানি পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণের বিপক্ষে ব্যবসায়ীরা

আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণে আগ্রহী নন দেশের চামড়া ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কমা, বিশ্ববাজারে ইউরোর দরপতনসহ বিভিন্ন কারণে সংকটকাল অতিক্রম করছে চামড়া শিল্প। তাই চামড়ার দাম নির্ধারণ হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত বছর কোরবানি ঈদের আগে চামড়া ব্যবসায়ীদের গড়িমসির পরও কোরবানি পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণে কঠোর অবস্থানে ছিল সরকার। ফলে ট্যানারি মালিক এবং চামড়ার আড়ৎদার সংগঠনগুলো কোরবানির আগে চামড়ার দাম নির্ধারণে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টারস এসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ), বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন (বিটিএ) ও বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনে বৈঠকে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে চামড়ার দাম প্রতি ক্ষেত্রে ৩০-৪০ শতাংশ কমাতে হয়েছিল ব্যবসায়ীদের।  কোরবানি হওয়া গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়া ঢাকায় ৪৫-৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে ৪০-৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে মহিষের চামড়া ৩৫ টাকা, খাসির চামড়া ২০-২৫ টাকা এবং ছাগলের চামড়ার দাম ১৫-২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার চামড়ার দাম নির্ধারণ করতে হলে এর দাম আরও কমে যাবে বলে আশংকা করছেন ব্যবসায়ীরা।

কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের চতুর্থ দিনেও ব্যস্ত সময় কাটাছে পোস্তার আড়গুলোতে। ছবি: মহুব্বর রহমান

চামড়া আড়তে ব্যস্ততা। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ বলেন, আমরা কখনোই চামড়ার দাম নির্ধারণের পক্ষে নই। তবে এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঈদুল আযহার আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কমা, বিশ্ববাজারে ইউরোর দরপতন, অবিক্রিত পুরনো চামড়া ট্যানারিতে মজুদ, ট্যানারি স্থানান্তরে সরকারি চাপ এবং সর্বোপরি গুলশান হামলায় বিদেশি ক্রেতা কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে। ফলে এই মুহূর্তে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া ঠিক হবে না। বাজারকে তার গতিতে চলতে দেওয়া উচিৎ।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ অর্থসূচককে বলেন, সম্প্রতি রপ্তানি অনেক কমে গেছে। ক্রেতারাও বেশি দাম দিতে চাচ্ছেন না। তাই এবার বাধ্য হয়েই  কম দামে চামড়া কিনতে হবে। এ অবস্থায় দাম নির্ধারণ করলে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৯ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার; যা বর্তমান সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শতকরা ১৬ দশমিক ৯১ শতাংশ কম।

সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দার পাশাপাশি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর বিদেশি ক্রেতা আসার পরিমাণ কমেছে। জাপানি ক্রেতারাদের এদেশে আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। যদিও এখন আবার আসতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টারস এসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবু তাহের বলেন, চামড়ার বর্তমান বাজার ভালো না। তাই চামড়ার দাম নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। আপাতত বাজারকে স্বাভাবিক গতিতেই চলতে দেওয়া উচিৎ।

অন্যদিকে, চামড়ার দাম নির্ধারণ না হলে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, চামড়ার দাম নির্ধারণ না করলে কোন দামে চামড়া কেনা হবে- তা নিয়ে মাঠ পর্যায়ের চামড়া সংগ্রহকারীরা দ্বিধায় থাকবেন। তাছাড়া কোরবানির ঈদের সময় অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়ার গুণগত মান ও গ্রেড সম্পর্কে ধারণা ছাড়াই চামড়া কিনেন। ফলে চামড়ার দাম নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

অর্থসূচক/মেহেদী/মিঠুন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ