সন্তানকে প্রতিদিন বলুন, ভালোবাসি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সন্তানকে প্রতিদিন বলুন, ভালোবাসি

মা-বাবা কত কিছুই না করেন, সন্তানের সুখের জন্য। নিজের জীবনের সব সখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের মুখের হাসি অটুট রাখতে চান প্রতিটি বাবা। সন্তানের জন্য রাতকে দিন, দিনকে রাত করতেও পিছপা হন না জন্মদাতা। আর মায়ের তুলনা তো শুধু মা-ই। জন্মের পর থেকে সন্তানের প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখতে চান গর্ভধারিনী। সন্তানের জন্য নিজের জীবনও ত্যাগ করতে দ্বিধাবোধ করেন না মা।srk-abram-embed

কিন্তু মা-বাবার সব কষ্ট বিফলে যায়, যখন তাদের সন্তান আর তাদের থাকে না। সম্প্রতি জঙ্গিবাদ নামে দেশে এক অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে। এ অরাজকতা থেকে দেশকে এবং সন্তানকে রক্ষা করতে সন্তানকে প্রতিদিন অন্তত একবার বলুন, ভালোবাসি। আপনার ভালোবাসাই আপনার সন্তানের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মুখে না বললেও, প্রত্যেক মা-বাবা তাদের সন্তানকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। কিন্তু আমাদের সেই ভালোবাসা অনুধাবন করার ক্ষমতা শিশু মনে থাকে না। তাদের প্রতি আপনার ভালোবাসার পরিমাণ বুঝিয়ে দিতে অনেক কার্যকর ভূমিকা পালন করবে আপনার মুখ থেকে শোনা ‘ভালোবাসি’ শব্দটি।

সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করে রাত-দিন পরিশ্রম করেন বাবা-মা। অনেকেই মনে করেন, অর্থ আর প্রাচুর্যের মধ্যে সুখ খোঁজে নেবে তাদের সন্তানেরা। অর্থ এবং প্রাচুর্য গড়তে মা-বাবা এতো বেশি ব্যস্ত থাকেন যে, সন্তানকে দেওয়ার মতো সময়ই তাদের কাছে থাকে না। আর এতেই বিপথে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ।

আসলে সম্পদ, অর্থ-বিত্ত, সুনাম এবং প্রাচুর্য আমাদের কিংবা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সুখ দিতে পারে না। পরবর্তী প্রজন্মের সঠিক পথে পরিচালিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সন্তানকে দেওয়া সঙ্গ। তাই সন্তানের প্রিয় সঙ্গী হোন আপনি। এতে আপনার সন্তানের অন্য কোনো বিষয়ে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

নতুন যেকোনো বিষয়ে জানতে আগ্রহী থাকে শিশু মন। তাদের সেই আগ্রহকে জাগিয়ে রাখতে সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে চেষ্টা করুন। যদি তাৎক্ষণিক ভাবে তার প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা না থাকে, তবে তার কাছ থেকে সময় চেয়ে নিন। প্রয়োজনে গুগল বা অন্য যেকোনো বিশ্বস্ত সূত্রের সাহায্য নিন। যে বিষয়ে শিশুর জানার আগ্রহী যত বেশি, সে বিষয়ে তাকে আরও বেশি জানতে সুযোগ করে দিন। তাকে উৎসাহ দিন। এতে শিশুর সৃজনশীলতা প্রকাশ পাবে। একইসঙ্গে শিশুর প্রতিভার বিকাশে সাহায্য করুন; কোনো ইতিবাচক কাজে শিশুকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন না।

সন্তানের পেশা বাছাইয়ে নিজের পছন্দ চাপিয়ে না দিয়ে তার পছন্দের বিষয়কে গুরুত্ব দিন। জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে তাকে সহায়তা করুন। কোনো ভুল পাওয়া গেলে তা শুধরে দিন। প্রয়োজনে গুণিজনকে উদাহরণ দিয়ে কোন পথে গেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে- তা বুঝিয়ে দিন। তবে লক্ষ্য থেকে সরে যেতে বাধ্য করবেন না। এর ফলাফল নেতিবাচক হতে পারে।

শিশুদের সব পছন্দ খারাপ হয় এমন চিন্তা মাথা থেকে দূর করুন। নিজের পছন্দ চাপিয়ে না দিয়ে সন্তানের পছন্দ যাছাই করুন। ভালো-খারাপ দুটি দিকই সন্তানের সামনে উপস্থাপন করুন। আর যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিন, কোনটার কেমন ফল পাওয়া যাবে। এতে সন্তান নিজেই খারাপ থেকে দূরে সরে যাবে। জোর পূর্বক কিছু চাপিয়ে দিলে মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সন্তানের প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখা মা-বাবার কর্তব্য। তবে অতিরিক্ত নজরদারি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নজরদারির ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। কোনো বিষয়ে সন্দেহ তলে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা যেতে পারে।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ