কাশ্মিরে 'জন্ম নিচ্ছে' আরও বুরহান ওয়ানি!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

কাশ্মিরে ‘জন্ম নিচ্ছে’ আরও বুরহান ওয়ানি!

শুধু একজন বুরহান ওয়ানিকে মেরে বিচ্ছিন্নতাবাদের হুমকি সামাল দেওয়া তো দূরের কথা উল্টো কাশ্মিরি যুবকদের স্বাধীনতার ক্ষুধা যেন আরও বেড়ে গেছে। এখন ওয়ানির মতো মুক্তিকামী কাশ্মিরিদের অস্ত্র তুলে নিতেও হাত কাঁপবে না বলে মনে হচ্ছে।
zakir

বুধবারই জাকির নামে আরেক কাশ্মিরি যুবক ওয়ানির মতো বেশভূষা আর আগ্নেয়াস্ত্র সহ নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে ওই ভিডিও এখন কাশ্মিরের যুবকদের প্রতিচ্ছবি। যুবকের নাম জাকির রশিদ ভাট ওরফে মুসা। আট মিনিটের ওই ভিডিওটি এখন পাওয়া যাচ্ছে ফেসবুকে। পোস্টের পরপরই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি।

কাশ্মিরের ইংরেজি সংবাদপত্র রাইজিং কাশ্মিরের অনলাইন সংস্করণে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে।

জাকির ওই ভিডিওতে বর্ণনা করেন কীভাবে ভারতীয় বাহিনী কাশ্মিরে বিভাজন তৈরি করছে। জাকির বলেন, ‘ভারতীয় সংস্থাগুলো কাশ্মিরি জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে।’

নতুন হিজবুল কমান্ডার জাকির তার ভিডিওবার্তায় চলমান আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ায় জনগণকে ধন্যবাদ জানান।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ৩টি কালাশনিকভ রাইফেল, ১টি ওয়্যারলেস সেট, ছুরি এবং কয়েকটি বইসহ একটি সেল্ফের সামনে বসে কথা বলছেন জাকির। জাকিরের গায়ে যোদ্ধাদের পোশাক।

জাকির ওই ভিডিওবার্তায় কাশ্মিরি যুবকদের পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, পুলিশে চাকরি দেওয়ার নাম করে সরকার কাশ্মিরি যুবকদের ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। তারা চায় কাশ্মিরিরা যেন নিজেদের মধ্যেই মারামারিতে লিপ্ত হয়। যুবকদের ওই ষড়যন্ত্রের কবল থেকে দূরে থাকা উচিৎ। নইলে বিপ্লব ব্যর্থ হয়ে যাবে।

২২ বছর বয়সী জাকির হিজবুল মুজাহিদিন সংগঠনে যুক্ত হওয়ার আগে ভারতের চন্দিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছেন। ২০১৩ সালে দলে যোগ দেওয়ার পর তাকেই বুরহান ওয়ানির উত্তরসূরি মনে করা হচ্ছে। জানা গেছে, জাকির শিক্ষিত পরিবারের সন্তান। তার পরিবারের লোকজন কেউ ডাক্তার বা কেউ এমবিবিএস পড়ছেন।

জাকির ওই ভিডিওতে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মিডিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বুরহান ওয়ানির হাতে শুধু একটি রাইফেল ছিল। অথচ তাকে মারতে কয়েক হাজার ভারতীয় সেনা অভিযানে অংশ নেয়।

জাকির ওই অভিযানকে কাপুরুষতা উল্লেখ করে বলেন, ভারতীয় যেসব মিডিয়া সেনাদের ওইসব অভিযানকে সাহসী বলে বাহবা দেয় তাদের উচিৎ লজ্জায় আত্মহত্যা করা।

খবরে বলা হয়, গত ৮ জুলাই বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর থেকে কাশ্মিরজুড়ে চলা আন্দোলনে ৬৬ জন নিহত এবং ৫-৬ হাজার আহত হয়েছেন। মঙ্গলবারও সেনাদের গুলিতে মারা গেছেন আরও ৫ কাশ্মিরি। তাছাড়া পেলেট বন্দুকের গুলির আঘাতে চোখ হারিয়ে অন্ধ হয়ে গেছেন কয়েকশত প্রতিবাদকারী।

অর্থসূচক/রাশিদ

এই বিভাগের আরো সংবাদ