লিন্ডের সঙ্গে মার্জারে যেতে পারে প্রাক্সায়ার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

লিন্ডের সঙ্গে মার্জারে যেতে পারে প্রাক্সায়ার

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুই গ্যাস ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান জার্মানির লিন্ডে এজি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্সায়ার ইনকরপোরেশন একীভূত (Merge) হতে পারে। মার্জার তথা একীভূতকরণ বিষয়ে কোম্পানি দুটি আলোচনা শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স, নিউইয়ক টাইমস ও নাসদাকের

খবরে বলা হয়, মার্জারের বিষয়ে কোম্পানি দুটি গোপনে বেশ কিছুদিন আগে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করে। সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উভয় কোম্পানি পৃথক বিবৃতি দিয়ে মার্জারের আলোচনা শুরুর বিষয়টি স্বীকার করে নেয়।

Praxair_Linde

লিন্ডে এজি ও প্রাক্সায়ার ইনকরপোরেশনের লোগো

বিবৃতিতে লিন্ডে বলে, একীভূতকরণ বিষয়ে প্রাক্সায়ারের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতি হয়নি বা চুক্তি সই করার মতো অবস্থায়ও পৌঁছায়নি।

 প্রাক্সায়ারও প্রায় একই কথা বলে তার দেওয়া বিবৃতিতে। প্রাক্সায়ারের বিবৃতিতে আলোচনায় অনিশ্চয়তার আভাসও দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, আলোচনা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আলোচনা যে সফল হবেই সে নিশ্চয়তা নেই।

উল্লেখ, লিন্ডে মূলত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গ্যাস উৎপাদন হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে পরিচিত। শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত অসুস্থতায় লিন্ডের উৎপাদিত অক্সিজেন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। তবে কোম্পানিটি হাইড্রোজেনসহ অন্যান্য গ্যাসও উৎপাদন করে থাকে, যা বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে প্রাক্সায়ার হচ্ছে শিল্প সংক্রান্ত গ্যাসের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক। এ কোম্পানি হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেনসহ শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাস উৎপাদনে বেশি মনোযোগী।

এশিয়া ও ইউরোপে লিন্ডের ব্যাপক আধিপত্য রয়েছে। অন্যদিকে প্রাক্সায়ার নেতৃত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ল্যাটিন আমেরিকার বাজারে।

একীভূত হলে লিন্ডে ও প্রাক্সায়ার ৬০ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে রূপান্তরিত হবে। গ্যাস ব্যবসায় তখন এটিই হবে এক নম্বর কোম্পানি। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা সফল হবে কি-না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

দুই বছর আগেও কোম্পানি দুটি মার্জার বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিল। কিন্তু প্রাক্সায়ারের মুনাফায় বড় পতন হলে লিন্ডে পিছিয়ে যায়। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ফের আলোচনার টেবিলে ফিরেছে দুই কোম্পানি।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়া, বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলে শিল্পোৎপাদন ধীর গতি হয়ে পড়াসহ নানা কারণে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাসের চাহিদা কমে গেছে। অন্যদিকে গ্যাসের বাজারের অন্যতম শীর্ষ দুই কোম্পানি ফ্রান্সের এয়ার লিকুইড এবং যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার গ্যাস একীভূত হওয়ার কাছাকাছি চলে এসেছে। একীভূত হলে এদের ব্যবসার ব্যয় অনেক কমে আসবে। তখন এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকা বেশ দুরুহ হবে। এমন বাস্তবতায় লিন্ডে ও প্রাক্সায়ার এবার মার্জার ইস্যুতে বেশ মরিয়া।

এই বিভাগের আরো সংবাদ