ভারতীয় বিমানে মাতাল পাইলট, ভ্রমণ ঝুঁকি বাড়ছে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

ভারতীয় বিমানে মাতাল পাইলট, ভ্রমণ ঝুঁকি বাড়ছে

ভারতীয় বিমান কোম্পানিগুলোর ফ্লাইটে পাইলটদের মাতাল হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। ফলে খুবই বিপজ্জনকভাবে বিমান চালানোর ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে। তাছাড়া ২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ভারতের বিমান পরিবহনের নিরাপত্তা রেটিং কমিয়ে দিয়েছে।

drunk pilotমঙ্গলবার ব্লুমবার্গের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়, বিমান চলাচলে দেশটি বিশ্বের সম্ভাবনাময় বাজার হওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছেনা। প্রায় সময় পাইলটরা মদ খেয়ে ককপিটে মাতলামি করছেন। তাছাড়া খুব পাশ ঘেঁষে বিমান চালানোর অভিযোগও উঠছে। যেকোন সময় সংঘর্ষ ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, চলতি বছর পাইলটদের মাতলামি এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিমান চালানো বিষয়ক ২৮০টি ঘটনা ঘটেছে। অথচ গতবছর পুরো ১২ মাসে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ২৭৫টি। এভাবে চলতে থাকলে ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ ৪০০টির মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, গত ৩ বছরের মধ্যে এবারই নিরাপত্তা বিষয়টি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। তাই সংস্থাটি গত কয়েক মাস ধরে বিপজ্জনকভাবে ঘেষাঘেষি করে বিমান চালানো, বুড়ো এবং মাদকাসক্ত স্টাফ ও পাইলটদের মাতলামি ঠেকাতে উঠেপড়ে লেগেছে।

সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে সংস্থাটি ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান কোম্পানি এয়ার ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং জেট এয়ারওয়েজ ইন্ডিয়া লিমিটেডকে জরিমানা করেছে। কারণ এই দুটি কোম্পানির বিমানে পাইলটদের মাতাল অবস্থায় পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় সংস্থাটি কোম্পানি দুটির বিরুদ্ধে মামলাও করেছে। আগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংস্থাটি পুলিশের দারস্থ হয়নি। তবে মাতলামির ঘটনা বাড়াবাড়ি রকম বেড়ে যাওয়ায় পুলিশের দারস্থ হতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি।

ব্লুমবার্গের খবরে বলা হয়, ভারতে বিমানে যাতায়াতের হার গতবছর ২০ শতাংশ বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, চীনের চেয়ে প্রবৃদ্ধির এই হার প্রায় দ্বিগুণ।

মাতাল পাইলট

চলতি বছর পাইলটদের মাতলামি এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিমান চালানো বিষয়ক ২৮০টি ঘটনা ঘটেছে। অথচ গতবছর পুরো ১২ মাসে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ২৭৫টি।

চলতি বছর পাইলটদের মাতলামি এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিমান চালানো বিষয়ক ২৮০টি ঘটনা ঘটেছে। অথচ গতবছর পুরো ১২ মাসে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ২৭৫টি।

চলতি মাসেই এয়ার ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং জেট এয়ারওয়েজ ইন্ডিয়া লিমিটেডের দুটি ফ্লাইটের পাইলটদের ফ্লাইট শেষে মাতাল অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই বিমান দুটি বন্দরে অবতরণ করে।

পাইলট ছাড়াও এয়ার ইন্ডিয়ার আরেক স্টাফকে পুলিশি তদন্তের আওতায় আনতে নিদের্শ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ওই স্টাফকেও মাতাল অবস্থায় পাওয়া গেছে।

আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে ওই ৩ জন ১ বছরের জেল খাটতে পারেন অথবা ৫ লাখ রুপি জরিমানা করা হবে অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন। তাদের লাইসেন্স ৪ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে।

জেট এয়ারওয়েজ এক ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্দেশিত নিরাপত্তা মান রক্ষার্থে ব্যর্থ হলে আমরা জিরো টলারেন্স দেখাই। গত ৩ আগস্ট ওই পাইলটকে মদ খাওয়ার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে এয়ার ইন্ডিয়ার মুখপাত্র জিপি রাও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।

জানা গেছে, জেট এয়ারওয়েজের পাইলটদের মাতলামির ঘটনা চলতি বছরে ঘটেছে ৫৫টি। অথচ ২০১৫ সালে এমন ঘটনা ছিল ৭৮টি। অন্যদিকে এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটদের মাতলামির সংখ্যা ২০১৫ সালে ছিল ৬২টি এবং চলতি বছরের ৬ মাসে ঘটেছে ২৬টি। তাছাড়া বাজারের শীর্ষে থাকা ইন্ডিগো এবার ২৫ টি ঘটনা ঘটিয়েছে। গতবছর যা ছিল ৫১টি।

ভারতের বিমান চলাচলে নিরাপত্তা রেটিং যখন কমে যাচ্ছে তখন ইন্দোনেশিয়ার এয়ার-সেফটি রেটিং বেড়ে গেছে। অথচ ইন্দোনেশিয়ার বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে বিশ্বের সবচেয়ে অনিরাপদ বলে মনে করা হতো। সোমবার ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তা রেটিং বেড়ে গেছে। দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিম্নমানের পরিচালনা পদ্ধতির জন্য ২০০৭ সালে নিম্ন নিরাপত্তা সূচক ক্যাটাগরি-২ রেটিংয়ে নেমে যায় ইন্দোনেশিয়া।

অর্থসূচক/রাশিদ    

এই বিভাগের আরো সংবাদ