৬০ কোটি রুপির কেলেঙ্কারিতে জাকির নায়েক
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

৬০ কোটি রুপির কেলেঙ্কারিতে জাকির নায়েক

বিতর্কিত ধর্মপ্রচারক ও টেলিভিশন-বক্তা জাকির নায়েককে নিয়ে বিতর্ক বেড়েই চলেছে। এবার তার নাম জড়িয়েছে ৬০ কোটি রুপির অর্থ কেলেঙ্কারিতে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি টাকা। খবর ইকনোমিক টাইমস ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের

গত তিন বছরে মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশ থেকে ওই অর্থ এসেছে বলে জানিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। তাদের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, জাকিরের একজন দূর সম্পর্কীয় আত্মীয়ের নামে টাকাগুলো পাঠানো হয়। পরে ওই আত্মীয় জাকির নায়েকের স্ত্রী ফারহাত নায়েক, ছেলে ফারিক নায়েক, মেয়ে রুশদা নায়েক এবং তার (জাকির নায়েক) অন্য দুই ঘনিষ্ট আত্মীয়ের ব্যাংক একাউন্টে পুরো টাকা স্থানান্তর করেন।

মুম্বাই পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, এই অর্থ জাকির নায়েক পরিচালিত ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (আইআরএফ) জন্য পাঠানো হয়নি। তেমনটি হলে তা সরাসরি আইআরএফের ব্যাংক একাউন্টেই পাঠানো হতো।

অন্যদিকে জাকির নায়েকের ব্যাংক একাউন্টে না পাঠিয়ে তার আত্মীয়ের একাউন্টে টাকা পাঠানো, সেখান থেকে স্ত্রী-সন্তানদের একাউন্টে স্থানান্তরের বিষয়টি সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কী উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে বিশাল এই অর্থ পাঠানো হয়, সেটি এখন খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবে পুলিশ।

গত মাসে ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জাকির নায়েককে নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। হামলাকারী জঙ্গিদের মধ্যে অন্তত দুজন তার বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকতে পারেন বলে অভিযোগ।

গুলশান হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়। এর মধ্যে অভিযোগ উঠে, তার এক ঘনিষ্ট সহচর কেরালা থেকে বেশ কিছু তরুণ-তরুণীকে আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পাঠিয়েছেন।

মুম্বাই পুলিশ জাকির নায়েকের মালিকানাধীন চারটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছে।বাস্তবে এসব কোম্পানির কার্যক্রম না থাকলেও কোটি কোটি রুপি লেনদেন হয়েছে

তখন থেকে মুম্বাইয়ে ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ দেশটিতে জাকির নায়েকের পিস টিভির অবৈধ সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটিতে কয়েক বছর আগে থেকেই পিস টিভির সম্প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু কেবল অপারেটররা চোরাইভাবে সেটির প্রচার করতো।

মুম্বাই পুলিশ জাকির নায়েকের মালিকানাধীন চারটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছে। কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- লংলাস্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, রাইট প্রোপার্টি সলিউশনস লিমিটেড ও হারমনি মিডিয়া। এগুলোর মধ্যে প্রথম দুটি হচ্ছে রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ কোম্পানি, অন্যটি ডিজিটাল প্রকাশনা ও সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান।

চতুর্থ কোম্পানিটি পারফিউম প্রস্তুতকারক বলে জানিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। তবে কোম্পানিটির নাম জানা যায়নি।

পুলিশের দাবি, চারটি প্রতিষ্ঠানই কাগুজে কোম্পানি। বাস্তবে এদের কোনো কার্যক্রম না থাকলেও কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

রাইট প্রোপার্টি সলিউশনস ২০০৮ সালে নিবন্ধিত হয়। এর প্রধান উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডার হচ্ছেন জাকির নায়েক, তার স্ত্রী ফারহাত নায়েক এবং জাকির নায়েকের পিতা আব্দুল করিম মোহাম্মদ নায়েক।

আরশাদ ওয়াহেদনা নামের একজনের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১০ কোটি ৮০ লাখ রুপি। আর জাকির নায়েকের বোন নাইলা নওশাদ নুরানির কাছ থেকে এসেছে ৪ কোটি রুপি।

লংলাস্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেডে তাদের সঙ্গে উদ্যোক্তা হিসেবে আছেন আমির আব্দুল মান্নান ঘাজদার নামে একজন। তিনি জাকির নায়েকের ইসলামিক রাসার্চ ফাউন্ডেশনেরও পরিচালক।

কোম্পানিটি দুটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনো আয় দেখায়নি। বরং লংলাস্ট কনস্ট্রাকশন বিপুল পরিমাণ ঋণ দেখিয়েছে। এই কোনো ব্যাংক বা আনুষ্ঠানিক উৎস (Formal Channel) থেকে আসেনি। ২০১৫ সালের মার্চ মাস শেষে প্রতিষ্ঠানটির ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৮০ লাখ রুপি। এর মধ্যে আরশাদ ওয়াহেদনা নামের একজনের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১০ কোটি ৮০ লাখ রুপি। আর জাকির নায়েকের বোন নাইলা নওশাদ নুরানির কাছ থেকে এসেছে ৪ কোটি রুপি।

হারমনি মিডিয়া প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে। জাকির নায়েক এবং তার স্ত্রী এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। সঙ্গে ছিলেন আমির আব্দুল মান্নান ঘাজদার। জাকির ও তার স্ত্রী ২০১৩ সালে কোম্পানিটির পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ কোম্পানি ২০১৫ সালে ১০ কোটি রুপি আয় করেছে।

তিনটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ থেকেই জাকির নায়েক ও তার স্ত্রী পদত্যাগ করেন। আবার তাদের পদত্যাগের কিছুদিনের মধ্যে জাকির নায়েকের বোন নাইলা নওশাদ নুরানিকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, কোম্পানি চারটি নিবন্ধনের সময় সাকিনাকা ও আন্ধেরি এলাকার ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রেজিস্টার্ড অফিসের ঠিকানায় কিছুই পাওয়া যায়নি। কোম্পানিগুলো সেখান থেকে পরিচালিত হচ্ছে না। সম্ভবত এগুলো শুধুই কাগুজে কোম্পানি। এদের কোনো কার্যক্রম নেই।

কার্যক্রমহীন এসব কোম্পানি কেন গঠন করা হয়েছে, কার্যক্রম না থাকলেও এগুলোর বিপরীতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন কেনো হয়েছে তা খতিয়ে দেখবে মুম্বাই পুলিশ।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ