চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং বেড়েছে ১৭%
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং বেড়েছে ১৭%

২০১৫-১৬ অর্থবছরে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের রেকর্ড করেছে দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩৯ টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে। যা আগের সব রেকর্ড ভঙ করেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে গ্রোথ হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম. খালেক ইকবাল সম্প্রতি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর ৬ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৬৫ মেট্রিক টন এবং ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬২ টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করেছিল। এর বিপরীতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭ কোটি ১১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৭ মেট্রিক টন এবং ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৩৯ টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং হয়। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরের বড় অর্জন এটি।

এডমিরাল এম. খালেক ইকবাল জানান, তৈরি পোশাক রপ্তানির ৯৮ শতাংশই চট্টগ্রামা বন্দর দিয়ে করা হয়। ইপিবির তথ্য মতে, তৈরি পোশাক খাতের পণ্য রপ্তানিতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ২ হাজার ৫৪৯ কোটি মার্কিন ডলার। সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে আয় হয়েছে ২ হাজার ৮০৯ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ২ শতাংশ। চট্টগ্রাম বন্দরও এই সাফল্যের অংশীদার।

Ctg portতিনি বলেন, দেশে আরও ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নিমার্ণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ফেনী, মিরসরাই ও আনোয়ারায় ৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলই চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে। ফলে এ ৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণ কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম বন্দরের উপর চাপ আরও বাড়বে। বিষয়টি বিবেচনায় মিরসরাই-সীতাকুণ্ডের মাঝামাঝি এলাকায় নতুন বন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, নতুন বন্দর নির্মাণের জন্য যে এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে সেখানে ড্রেজিংয়ের সাহায্যে নদীর গভীরতা বাড়াতে হবে। নতুন বন্দর নির্মাণ হলে ফেনী ও মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুবিধা হবে। সরকারের গৃহীত ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অর্থনৈতিক করিডোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ বন্দর তৈরি করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের নানা সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে ঘূর্ণিঝড় রেয়ানু, জাহাগ মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘট, ঈদের ছুটি ইত্যাদি সময়ে বন্দরে কিছুটা জটের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সময়োচিত পদক্ষেপ এবং কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে তা সহনীয় পর্যায়ে এসেছে।

এম. খালেক ইকবাল বলেন, বন্দরের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। আগামী ১০ বছরে এখানে যে পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি হবে তা এ বন্দর দিয়ে হ্যান্ডেলিং সম্ভব হবে না। তাই বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বে-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট পেলেই ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে।

তিনি জানান, বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জার্মানির হাম্বুর্ক প্রতিষ্ঠানকে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ১৭ আগস্ট এ বিষয়ে চুক্তি হবে।  সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ৮ থেকে ৯ মাস সময় লাগবে। জরিপের  পর জার্মানির হাম্বুর্ক প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিবেদন জমা দিলে বর্ষার পরই বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

বন্দরের উন্নয়নে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বন্দর চেয়ারম্যান জানান, নতুন যন্ত্রপাতির কেনার জন্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৭ নম্বর খালের পাশে ১০ একর জায়গায় কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হচ্ছে। নিউমুরিং এলাকায় ৩৪ একর জায়গায় ওভার ফ্লো ইয়ার্ড নির্মাণ, কর্ণফুলী ও পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ, বন্দরের নিরাপত্তার জন্য ৮০০ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বন্দরে ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য সিটিএমএস পদ্ধতি আরও কার্যকর করা হবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রসঙ্গে জিরো টলারেন্সে আছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের কোনো কাজে দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের পর দোষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণে বন্দরের অর্থায়ন প্রসঙ্গে এম. খালেক ইকবাল বলেন, এ প্রকল্পের অর্থায়নে বন্দরকে প্রস্তাব দিয়ে সিডিএ। তবে এখনই ওই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে না বন্দর। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলা হয়েছে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে বন্দরে ২৮ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করা হবে। তাই এখন বন্দরের বাইরে কোনো অর্থ ব্যয়ের সুযোগ নেই।

জনবল সংকট এবং বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, গত ৪ বছরে প্রায় ১৬০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখনও ৩ হাজার লোকবলের ঘাটতি আছে বন্দরে। নিয়োগ প্রক্রিয়া আবারও শুরু হবে। বন্দরের কার্যপ্রক্রিয়া সহজ করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের জন্য নেদারল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (এডমিন) জাফর আলম বলেন, ২০০৬ সালে প্রতিটি কন্টেইনার গড়ে ২৬ দিন বন্দরে অবস্থান করতো। বর্তমানে তা ৬-৭ দিনে নেমে এসেছে।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ