গুলশানে রাজউকের উচ্ছেদে চাকরি হারাবে ১ লাখ শ্রমিক
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

গুলশানে রাজউকের উচ্ছেদে চাকরি হারাবে ১ লাখ শ্রমিক

কূটনৈতিক জোনখ্যাত গুলশান-বনানী-বারিধারায় অবস্থিত রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল ও গেষ্ট হাউজ উচ্ছেদ  শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ১ লাখ শ্রমিক তাদের কর্মসংস্থান হারাবে বলে জানিয়েছে হোটেল-রেস্তোঁরা মালিকরা।gulshan1gulshan1

ফেডারেশন অব হোটেল গেস্টহাউজ আ্যন্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএইচজিআর ওএ) তথ্যমতে, অভিজাত এলাকার আবাসিক হোটেল, গেষ্টহাউজ ও রেস্টুরেন্টগুলোতে প্রায় ১ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। যাদের উপর ১০ লাখ মানুষ নির্ভরশীল।

আরও প্রায় সমসংখ্যক মানুষ ভেন্ডার, আউটসোর্সট সাপ্লায়ার ও সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে প্রতক্ষ্য  ও পরোক্ষভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল। কাজেই চলমান উচ্ছেদ অভিযানের ফলে এ বিশাল সংখ্যক পেশা, শ্রমজীবী মানুষ এবং তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তা ও বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে বলে আশংকা করছে সংগঠনটি।

এফএইচজিআরওএ জানায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকার হোটেল-রেস্তোঁরাগুলোতে প্রতিরাতে প্রায় ৩ হাজার বিদেশি অবস্থান করে। এগুলো থেকে সরকার শত শত কোটি টাকা পেয়ে থাকেন। ক্রমবর্ধমান আর্থ-সামাজিক প্রয়োজনে অভিজাত এলাকাগুলোতে প্রায় ৫ শতাধিক হোটেল-রেস্তোঁরা গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমাণ প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা।

এফএইচজিআরওএ এর উপদেষ্টা এমএইচ রহমান অর্থসূচককে বলেন, ২০১৬ সালকে সরকার  ‘পর্যটন বছর’ ঘোষণা করেছেন। এ বছরে অতিরিক্ত এক লাখ বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এমন সময় অভিজাত এলাকার হোটেল-রেস্তোরা উচ্ছেদের ঘোষণা নীতির পরিপন্থি।

তিনি বলেন, আমাদের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ক্রেতারা অভিজাত এলাকার হোটেল-রেস্তোরাগুলো পছন্দ করে। বর্তমান উচ্ছেদ কর্মসূচিতে তারা এদেশ ভ্রমণে নিরুসাহিৎ হবেন। তাই শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখে এই উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করা উচিত।

হোটেল-রেস্তোরার নিরাপত্তা সম্পর্কে তিনি জানান, গুলশান,বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টি আবাসিক হোটেলের অনেকগুলোতেই সিকিউরিটি আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও সিসি টিভি স্থাপনসহ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হোটেল মালিকরা অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান লাগেজ স্কানার স্থাপন ও সার্বক্ষণিক আর্মড পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করেছে।

কথা হয় গ্যালাক্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ ইউসুফ ওয়ালীদের সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে বলেন, অভিজাত এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের ফলে আমাদের শ্রমিক-কর্মচারীরা বেকার হয়ে পড়বে। প্রায় ৫০ বছর ধরে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান তো আর হুট করে উচ্ছেদ করা যায় না। তিল তিল করে এসব প্রতিষ্ঠান এখন বড় হয়েছে। উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত রাজউক আরও আগে নেয়নি কেন?

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ( সিপিডি) এর গবেষক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন মনে করেন, এই উচ্ছেদ অভিযানে পর্যটন সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ।

তিনি বলেন, উচ্ছেদের জন্য আগামী ২০১৭ এবং ২০১৮ সালকে বেছে নেওয়া যেতে পরে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সকলকে নিয়ে একটি কমিটি করা প্রয়োজন।

রাজউকের তালিকা অনুযায়ী, গুলশান-বনানী-বারিধারায় অবৈধভাবে ৩৪২টি রেস্টুরেন্ট, ৬২টি আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস এবং ১৬টি বার রয়েছে। এর মধ্যে শুধু গুলশানে রেস্টুরেন্ট আছে ১৯৩টি, আবাসিক হোটেল এবং গেস্ট হাউস ৩৩টি, বার ১৩টি। বনানীতে রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ১৩৯টি, আবাসিক হোটেল এবং গেস্ট হাউস ২১টি এবং ২টি বার।  বারিধারা এলাকায় ১০টি রেস্টুরেন্ট, ৮টি আবাসিক হোটেল এবং গেস্ট হাউস ও ১টি বার রয়েছে।

অর্থসূচক/মেহেদী

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ