আরেকটি বার আয়রে সখা...
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » বিবিধ

আরেকটি বার আয়রে সখা…

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে বের হয়েছেন শিমুল, প্রায় পনেরো –ষোলো বছর আগে। চাকরি করছেন একটি বেসরকারী ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে। বিয়ে করেছেন তারই এক সহপাঠিনীকে, দুটি সন্তানও আছে। চল্লিশোর্ধ শরীরে ভারী ভারী ভাবের সাথে মাথার চুলও হাল্কা হয়ে এসেছে। তবুও মাঝে মাঝে টিএসসির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মনটা কেমন যেনো হাহাকার করে। সেই একই চায়ের দোকান, সেই একই মানুষ চা বিক্রি করছে। ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করলে চিনতে পারে না। অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। অথচ বন্ধুদের কে কোন চা খায়,কার কতটুকু-দুধ চিনি সব এই মামারই মুখস্থ ছিলো। কখনো কখনো রাতে উদাস হয়ে স্ত্রীর সাথে পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করেন। সেই সব দিনগুলো!

মনটা আনমনে গুনগুনিয়ে ওঠে, পুরনো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায় …aakashdekhi_1384022886_8-GirlsBangladesh

আজ আগস্টের প্রথম রোববার, বিশ্ব বন্ধু দিবস। খাতা কলমে বন্ধুত্ব দিবস উদযাপন ১শ বছরও পুরো করেনি। মাত্র ৮০ বছরের এই প্রথার উৎপত্তি ঘটে ১৯৩৫ সালের দিকে। আমেরিকান সরকার এক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ালে পরদিন সেই ঘটনার প্রতিবাদে তার বন্ধু জীবন ত্যাগ করেন। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম রোববার। আর সেই থেকেই বন্ধুর অবদান আর আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালে আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর প্রথম বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস ৩০ জুলাই করার জন্য প্রস্তাবিত হয়ে ছিল ১৯৫৮ সালে। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ বিশ্বময় বন্ধু আলাদা অবস্থানে নিজেদের নিয়ে যায়। ২০১১ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ৩০ জুলাইকে Official International Friendship Day হিসেবে ঘোষণা দিলেও আগস্টের প্রথম রোববারই বন্ধুত্ব দিবস উদযাপন করা হয়।

১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ বিখ্যাত কার্টুন চরিত্র উইনি দ্যা পুহকে বন্ধুত্বের বিশ্বদূত হিসেবে নির্বাচিত করে। বন্ধুত্বের প্রতীক হলুদ রঙ, সেই হলুদ রং হলো আনন্দের প্রতীক। বন্ধুত্বের প্রতীক হলুদ গোলাপ, আর হলুদ গোলাপ মানে  প্রতিশ্রুতিও বটে।

হলুদ গোলাপের মতোই ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড ধারণাটি। এই ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ডের ধারণাটিও এসেছে আমেরিকা থেকেই। আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে অনেক আগে থেকেই বন্ধুত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ব্যান্ড দেয়ার এই রীতি চালু আছে। তারা তাদের বন্ধুদের জন্য ব্যান্ড তৈরি করে। আর যাকে ব্যান্ড দেওয়া হয়, সে কখনোই ব্যান্ডটি খোলে না। আবার কাজেই বন্ধুত্বের মাঝে যেন আনন্দের পাশাপাশি থাকে প্রতিশ্রুতিও সেই কথাটিই যেন মনে করিয়ে দেয় এই বন্ধু দিবস।

বন্ধুত্ব মিশে আছে সাহিত্য, গান চলচ্চিত্র সহ সব জায়গায়। তাই বন্ধু দিবসে ‘বন্ধু’দের জন্য কিছু সেরা গানের কথা ও চলচ্চিত্রের নাম দেওয়া হলো।

গান

 পুরনো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায়-সাগর সেন

বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও- হেমন্ত মুখোপাধ্যয়

‘একটাই কথা আছে বাংলাতে’ – বাপ্পি লাহিড়ী ও মুন্না আজিজ (জাফর ইকবাল ও ফারুক অভিনীত ‘বন্ধু আমার’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়েছে।)

‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’- মান্না দে

‘চাইছি তোমার বন্ধুতা’ -কবীর সুমন

‘থমকে আছে’ –  কবীর সুমন

‘হঠাৎ রাস্তায় অফিস পাড়ায়’ –  কবীর সুমন

‘একটা বন্ধু হতে পারবে কি আমার ‘- অঞ্জন দত্ত

‘বাড়লে বয়েস মানুষ চেনা যায়কি’ – মহীনের ঘোড়াগুলি

‘বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো ’ –চন্দ্রবিন্দু

‘ভালো লাগে স্বপ্নের মায়াজাল বুনতে’- পরশপাথর

‘ও বন্ধু তোকে মিস্‌ করছি ভীষণ’ – পার্থ (সোলস)

‘দেখা হবে বন্ধু, কারণে বা অকারণে’ – পার্থ (সোলস)

‘তবে বন্ধু নৌকা ভেড়াও’- জেমস্ ও ফিলিংস্

‘তুমি আমার পাশে বন্ধু হে, বসিয়া থাকো’- কনক ও কার্তিক

‘মেয়ে, তুমি এখনো আমায় বন্ধু ভাবো কি?’- তপু

‘একটা গোপন কথা ছিলো বলবার বন্ধু’- তপু

‘বন্ধু তোমার চোখের তারায় চিন্তা খেলা করে’-কৃষ্ণকলি ইসলাম

‘এক হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর খোঁজে সকাল’- সায়ান

‘চিকিতিতা, মন ভেঙ্গো না’ -ফাহমিদা নবী ও সামিনা চৌধুরী

‘ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোরেঙ্গে’-মান্না দে ও কিশোর কুমার

( ‘শোলে’ সিনেমায় ব্যবহৃত হয়েছে গানটি)

‘যানে নেহি দেঙ্গে তুঝে’-  সনু নিগম

(‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমায় ব্যবহৃত হয়েছে গানটি)

‘ইউ কেন কাউন্ট অন মি’- ব্রুনো মার্সের

(আমেরিকান সঙ্গীতশিল্পী ও গীতিকার)

‘শো মি দ্য মিনিং অব বিইং লোনলি’- ব্যাকস্ট্রিট বয়েজ

(আমেরিকান ব্যান্ড।১৯৯৯ সালে প্রকাশিত মিলেনিয়াম এ্যালবামের গান এটি । )
চলচ্চিত্র

১.রাম রহিম জনঃ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভাবাদর্শে নির্মিত বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র এটি। সত্য সাহার পরিচালনায় সিনেমাটিতে হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান তিন চরিত্রে অভিনয় করেন ইমন সাহা, রাজ্জাক ও তারেক হাসান। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি।

২. দ্য বয় দ্য স্ট্রিপড পায়জামাসঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দুইটি ছোট্ট ছেলের বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে অদ্ভুতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এতে। আইরিশ লেখক John Boyne লিখিত ‘The Boy in the Striped Pyjamas’ অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি পরিচালনা করেন মার্ক হারম্যান। মুক্তি পায় ২০০৮ সালে।

৩. বাকাসঃ কুর্দিশ পরিচালক কারজান কাদের এর এই চলচ্চিত্রিটি ২০০৯  সালে মুক্তি পায়। এতিম দুই ভাই বন্ধুর মতো বড় হতে থাকে। সিনেমা হলে একদিন চুরি করে  ‘সুপারম্যান’ ছবিটির কিছু অন্ধ দেখে তারা স্বপ্ন দেখে আমেরিকা গিয়ে সুপার ম্যানের সাথে থাকবে।

৪. থ্রি ইডিয়টসঃ হিন্দি চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই সিনেমাটিতে বন্ধুত্বের পাশাপাশি পুঁথিগত শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরা হয় সুনিপুণভাবে। রাজকুমার হিরানির পরিচালনায় এই সিনেমাতে তিন বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেন আমির খান, আর মাধাভান এবং শারমান যোশি। ২০০৯ সালে এটি মুক্তি পায়।

৫..আই এম কালামঃ মিসাইলম্যান খ্যাত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের জীবনানুপ্রেরণায় নির্মিত সিনেমাটিতে অসম পরিবেশে বেড়ে ওঠা দুটি শিশুর নির্মল বন্ধুত্ব দেখানো হয়েছে। এতে রাজার শিশুপুত্র রণবিজয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে রুটির দোকানের ছোট্ট কর্মচারি শিশুটির; যে টিভিতে রাষ্ট্রপতি কালামের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেই নিজের নাম দেয় কালাম। ছোট্ট কালাম চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করে হার্শ মায়ার জিতে নেয় সেরা শিশুশিল্পীর পুরস্কার। মাধব পান্ডে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১১ সালে।

৬. আমার বন্ধু রাশেদঃ সরকারি অনুদানে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটি মুহাম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেন মোরশেদুল ইসলাম। প্রধান চরিত্রে অভিনয়ে করেন চৌধুরী জাওয়াতা আফনান। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, ইনামুল হক, হুমায়রা হিমু, ওয়াহিদা মল্লিকা জলি, আরমান পারভেজ মুরাদ। চলচ্চিত্রটি ২০১১ সালে মুক্তি পায়

কাঙাল মিঠুন

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ