বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা-প্রীতি বাড়ছেই
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা-প্রীতি বাড়ছেই

বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সবচেয়ে সোচ্চার বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো। অথচ নিজ নিজ দেশে পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের জন্য ক্ষতিকর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এশিয়ার সরকারগুলো বেশ আগ্রহী।

ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণী এক সম্পাদকীয়তে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, কিছুদিন আগেও এশিয়ার দেশগুলো বায়ুশক্তি, সৌরশক্তি এবং পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু এখন এসব বাদ দিয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনে নিজেদের নীতি থেকে সরে এসেছে।

প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা। ছবি সংগৃহীত

প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা। ছবি সংগৃহীত

খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এশিয় অঞ্চলের দেশগুলোতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি আরও কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কথা রয়েছে। তাছাড়া বেসরকারি উদ্যোগেও করা হচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সবচেয়ে এগিয়ে আছে চীন। ২০১৪ সালে দেশটিতে কয়লার চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ভারতেও কয়লা-প্রীতি বাড়ছেই। অথচ দেশটিতে সৌরশক্তির সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে অনেক বেশি খরচ পড়ছে। চীন, ভারতের পাশাপাশি জাপানও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা দিন দিন বাড়িয়ে চলছে।

আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলন সংস্থা গ্রিনপিস জানিয়েছে, গত ৭ বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে একটি করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ৪০০ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যু উৎপাদন করবে চীন। এর ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে যাবে চীন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে ২০২২ সালের মধ্যে চাহিদার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করছে।

জাপানের কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলো এতটাই ব্যয়বহুল যে এগুলো চালিয়ে নিতে গেলে অতিরিক্ত ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার গচ্চা যাবে। অথচ পারমাণবিক ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তিভিত্তিক প্রকল্প চালালে এত খরচ গুণতে হবে না।

শুধু অতিরিক্ত ব্যয় নয়, কয়লাভিত্তিক প্রকল্প মানে বাতাসে আরও বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড মেশানো। চীন ও ভারতে বায়ুদূষণের ফলে প্রায় লাখখানেক মানুষ মারা গেছে। এসব ক্ষতি ধর্তব্যে আনছে না দেশগুলো। অথচ চীনে বায়ুশক্তি চালিত উইন্ডমিলে উৎপাদিত ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎই অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে।

মূলত চীনের সরকার কয়লা-খনিগুলোতে শ্রমিকের চাকরি রক্ষা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার জন্য কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলো চালু রেখেছে। ভারত এবং জাপানেও একই অবস্থা।

বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্যান্য ছোট ছোট দেশগুলোও চীন-ভারত-জাপানকে অনুসরণ করছে। সরকারগুলোর কাছে এখন পরিবেশের চেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত নীতির সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এসব কয়লাভিত্তিক প্রকল্প। দেশগুলো এই দ্বিমুখী নীতি থেকে ফিরে আসবে কি তা-ই এখন দেখার বিষয়।

অর্থসূচক/রাশিদ

এই বিভাগের আরো সংবাদ