জুলাইয়ে রেমিট্যান্স কমে গেছে ২৭.৬৪%
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

জুলাইয়ে রেমিট্যান্স কমে গেছে ২৭.৬৪%

হঠাৎ করেই বড় পতন হয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স তথা প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে গেছে। আর গত মাস জুনের তুলনায় কমেছে ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিট্যান্স সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এ প্রতিবেদনটি অবশ্য প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও বাড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ৫৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার। যা ১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে এর পরিমাণ ছিল ১৩৮ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ ডলার। সেই হিসাবে রেমিট্যান্স কমেছে ২৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বা ৩৮ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

গত জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৬ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ ডলার। সেই হিসাবে রেমিট্যান্স কমেছে ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ বা ৪৬ কোটি ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

জুলাই মাসে আসা রেমিট্যান্স গত ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এরচেয়ে কম ৯০ কোটি ৮৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে।

ঈদের আগে প্রবাসীরা বাড়তি রেমিট্যান্স পাঠায় বলে, পরের মাসে কিছুটা কমে যায়

বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ পরবর্তী মাস হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাদের মতে, ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরই প্রবাসীরা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশে বাড়তি অর্থ পাঠায়। সারা বছর তারা টুকটাক যে সঞ্চয় করে, ঈদের আগে তার প্রায় পুরোটাই বাড়ি পাঠিয়ে দেয় প্রিয়জনদের ঈদকে আরও একটু আনন্দঘন করতে। কেউ কেউ ঈদকে সামনে রেখে ধার করেও দেশে টাকা পাঠায়, যা পরবর্তী মাসগুলোর বেতন-ভাতা থেকে তারা সমন্বয় করে। ফলে ঈদের পরের মাসে স্বাভাবিক সময়ের সমান টাকা পাঠাতে পারে না, ওই মাসে অন্য সময়ের চেয়ে কম টাকা পায়। ফলে ওই মাসে রেমিট্যান্স কমে যায়।

গত ৭ জুলাই দেশে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা জুন মাসে বাড়তি অর্থ পাঠিয়েছেন দেশে। এ কারণে জুনে তার আগের মাস তথা মে মাসের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। আগের মাসে অনেক বেশি রেমিট্যান্স আসায় টান পড়েছে জুলাই মাসের রেমিট্যান্সে।

এছাড়া ব্রেক্সিটের প্রভাবেও রেমিট্যান্সের কিছুটা কমে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) সিদ্ধান্তে ইউরো ও পাউন্ডের বড় দরপতন ঘটেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ৩১ কোটি ২৪ লাখ ১০ ডলার। বিশেষায়িত ৪টি ব্যাংকের মধ্যে ২ ব্যাংক কোনো রেমিটেন্স আনতে পারেনি। ব্যাংক ২টি হলো- বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।

বাকি ২ ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৯৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। ৩৯টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৬৭ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা।

প্রবাসীদের কাছ থেকে আসা ব্যাংক ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ২৫ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ১২ কোটি ২১ লাখ ডলার, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং চতুর্থ অবস্থানে থাকা জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৮ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য মতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট রেমিটেন্স এসেছিল ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এই বিভাগের আরো সংবাদ