অভ্যুত্থানে ব্যর্থ হয়ে জঙ্গিবাদে সরকার পতনের চেষ্টা!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

অভ্যুত্থানে ব্যর্থ হয়ে জঙ্গিবাদে সরকার পতনের চেষ্টা!

গুলশান ও শোলাকিয়া হামলাসহ সাম্প্রতিক জঙ্গি কর্মকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে দুই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। তাদেরকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ঘোষণা করা হয়েছে মোটা অঙ্কের পুরস্কার। এদের একজন সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক। অন্যজন কানাডা প্রবাসী তামিম চৌধুরী।

সম্প্রতি তামিম চৌধুরী সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হলেও সাধারণের কাছে মেজর জিয়ার নামটি বেশ অপরিচিত।পুলিশের ঘোষণার পর তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল দেখা যাচ্ছে।

গুলশান হত্যাকাণ্ডের হোতা এই জিয়া একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার অন্যতম কারিগর। ২০১১ সালের শেষভাগে মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ সেনাবাহিনীর মধ্যম সারির কয়েকজন কর্মকর্তা তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অভ্যুত্থানের নীলনকশা প্রণয়নের চেষ্টা করেন। তবে অভ্যুত্থানের আগেই তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যায়। সেনা গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি টের পেয়ে গেলে সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয়। এদের মধ্যে মেজর জিয়া কোনো এক কৌশলে গ্রেফতার এড়িয়ে পালিয়ে যান। তাকে তখনই সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়।

২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেনাসদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কিছু সদস্য দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত এবং সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিল।এতে সেনাবাহিনীর মধ্যম পর্যায়ের১৫/১৬ জন কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন।

ওই ঘটনার পর সেনাবাহিনী ৬টি তদন্ত আদালত গঠন করে। তবে ওই আদালতে দোষীদের কী শাস্তি দেওয়া হয় তা জানা যায়নি। মেজর জিয়াউল হকের (বরখাস্ত) কোনো শাস্তি হয়েছিল কীনা তা-ও জানা যায় নি।

ওই সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মেজর জিয়া জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরিরের সঙ্গে যুক্ত।

২০১৩ সালে সরকার ওই অভ্যুত্থানের প্রধান দুই হোতা ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদ ও মেজর জিয়াকে ধরতে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারপোলের সহায়তা চায়। তবে এখন পর্যন্ত এদেরকে ধরা যায়নি।

অবশ্য গুলশান হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পর এ ঘটনার পেছনে মেজর জিয়ার হাত থাকতে পারে মর্মে পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। তখন তাকে অপর জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সেনাবাহিনীর চাকরি হারানোর পর মেজর জিয়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করে বলে এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের প্রধান মনিরুল ইসলাম।সংগঠনটির একটি অংশ আনসার আল ইসলাম নামে পরিচিত। এই অংশটি অতি আগ্রাসী বলে জানা গেছে।

মেজর জিয়া গোপনে দুই শতাধিক তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে ছেড়েছেন বলে পুলিশের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্র সংবাদ প্রকাশ করে। এই তরুণরাই সারা দেশে ব্লগার, সংখ্যালঘু ও কথিত নাস্তিকদের হত্যার মিশন চালিয়েছে।

এদের অন্যতম উদ্দেশ্য দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরি করে সরকারকে নাজুক অবস্থায় ফেলা। তাতে জনরোষ তৈরি হলে অথবা বিদেশী শক্তির চাপে সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেবে-এমনটি আশা করে থাকতে পারে তারা। অভ্যুত্থানে ব্যর্থ হয়ে এভাবে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মেজর জিয়া (বরখাস্ত)। এমনটি সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ