এক্সন মোবিলের আয় কমেছে ৫৯%
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

এক্সন মোবিলের আয় কমেছে ৫৯%

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ তেল কোম্পানির আয় ৫৯ শতাংশ কমে গেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানির লাভ হয়েছে মাত্র ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার। এই লাভের অংক পরিমাণ আপাতদৃষ্টিতে অনেক বড় মনে হলেও এই আয় এক্সন মোবিলের জন্য মোটেই মানানসই নয়। ১৯৯৯ সালের পর থেকে গত ১৭ বছরে এক্সনের এটাই সর্বনিম্নতম আয়। এক্সনের আয়ে ভাটা পড়ায় ওয়াল স্ট্রিটে বেশ ধাক্কা লেগেছে। গত প্রথম প্রান্তিকেও এক্সন মোবিলের আয় বেশ কম হয়। তখনও সেটা ছিল ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন আয়।

সিএনএনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়, দ্বিতীয় প্রান্তিকের কম আয়ের খবর প্রকাশিত হলে গত শুক্রবার এক্সনের শেয়ার দর ৩ শতাংশ কমে যায়।

এক্সনের আয় দিন দিন কমছে

এক্সনের আয় দিন দিন কমছে। ছবি: সিএনএন

বাজার মূল্যের দিক থেকে খুব দ্রুতই এক্সন মোবিলকে ছাড়িয়ে যাবে আমাজন এবং ফেসবুক। এক্সনের বাজার মূলধন কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৩৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে আমাজন এবং ফেসবুকের বাজার মূলধন যথাক্রমে ৩৬০ বিলিয়ন ডলার এবং ৩৫৭ বিলিয়ন ডলার।

শুধু এক্সন মোবিলই নয় অন্যান্য বড় বড় তেল কোম্পানির আয় আশঙ্কাজনকহারে কমেছে। শেভরনের অবস্থা এক্সনের চেয়েও খারাপ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেভরনের লোকসান হয়েছে ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরপর তিন প্রান্তিকে লোকসানের মুখে পড়েছে আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই তেল কোম্পানি।

বড় বড় তেল কোম্পানিগুলোর লোকসানের ধারাবহিকতায় পুরো জ্বালানি সেক্টরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসে। ফেব্রুয়ারি মাসে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি দাঁড়ায় মাত্র ২৬ মার্কিন ডলার। তবে মে মাসে দাম বেড়ে হয় ব্যারেল প্রতি ৫০ মার্কিন ডলার। এই মুহূর্তে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও কমার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখন অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৪০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।

শেভরনের শীর্ষ কর্মকর্তা জন ওয়াটসন বলেছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দরপতনের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে লোকসান গুণতে হয়েছে। এক্সনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেক্স টিলারসন বলেছেন, এই সাম্প্রতিক লোকসান আসলে জ্বালানি শিল্পের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রতিফলন।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে এক্সনের মূলধন ব্যয় ‘ক্যাপেক্স’ ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। এর মানে হল, এক্সন বেশকিছু ব্যয়বহুল তেল-অনুসন্ধান এবং উত্তোলন কাজের খরচে ভারসাম্য এনেছে। গত প্রান্তিকে তেল-অনুসন্ধান এবং কূপ-খননের কাজ থেকে এক্সনের আয় ৮২ শতাংশ কমে যায়। ফলে আমেরিকায় কোম্পানির লোকসান হয় ৫১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এছাড়াও শুক্রবার পুঁজিবাজারে লোকসানের মুখে পড়েছে ওয়ারেন বাফেটের তেল কোম্পানি ফিলিপস-৬৬।

১৯৯৮ সালে মোবিল করপোরেশন এবং এক্সন একীভূত হওয়ার আগে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন যমুনা অয়েল কোম্পানির সাথে চুক্তির মাধ্যমে দেশীয় বাজারে প্রবেশ করে। আজম জে চৌধুরির ইস্ট কোস্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির যৌথ বিনিয়োগে মোবিল যমুনা লুব্রিকেন্টস লিমিটেড বা এমেজেএলবিডি নামে আত্মপ্রকাশ করে।

এমজেএলবিডি ২০১১ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত হয়। ৩০ জুন ২০১৬ তে প্রকাশিত তথ্যে কোম্পানির বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ১ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে এখন সরকারি কোনো বিনিয়োগ নেই। ২০১৪ সালে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে।

অর্থসূচক/রাশিদ

এই বিভাগের আরো সংবাদ