মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়ার সময় বেড়েছে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়ার সময় বেড়েছে

জাপানের অর্থায়নে বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রকল্প মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত নয়; এর সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি জানান, গত ২৪ জুলাই মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্রের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দরপত্রে যারা অংশ নিচ্ছে- তাদের মতে, এই সময়ে দরপত্র আহ্বান করাটা নিরাপদ নয়। তাই আপাতত মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে।

power

ছবি সংগৃহীত

জাপানের একটি সংবাদমাধ্যমে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত প্রসঙ্গে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের সূত্র ধরে মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, দরপত্র স্থগিতের বিষয়ে জাপানের উন্নয়ন সাহায্য সংস্থা জাইকার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।

নসরুল হামিদ বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়ার বিষয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত ও জাইকার বাংলাদেশ প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দরপত্রে অংশ নিতে যারা আগ্রহী, তাদের সঙ্গে আলোচনার পর দরপত্র প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য জানা যাবে।

২০১৫ সালের আগস্টে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট ‘অত্যাধুনিক’ ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ৩৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি কয়লা ওঠা-নামানোর জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গেই একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের বিষয়টিও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে ২৯ হাজার কোটি টাকা দেবে জাপানের উন্নয়ন সাহায্য সংস্থা জাইকা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়ায় জাপানের তোশিবা কর্পোরেশন ও মিতসুবিসি হিতাচি পাওয়ার সিস্টেম লিমিটেড নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

গতকাল শুক্রবার জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলশানে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার কারণে দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নিহত বিদেশিদের মধ্যে ৭ জন জাপানের নাগরিক ছিল। ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজ করছিলেন তারা।

বিদ্যুৎ সংকটে থাকা বাংলাদেশে বর্তমানে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে গ্যাস থেকে; কয়লা থেকে আসে ৩ শতাংশেরও কম। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগুচ্ছে সরকার; এর অর্ধেকই কয়লা থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

প্রকল্পের সার সংক্ষেপে বলা হয়েছে, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ‘আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি’ ব্যবহার করা হবে, যাতে কেন্দ্রের কর্মদক্ষতা হবে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ। বাংলাদেশের বর্তমানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর গড় কর্মদক্ষতা ৩৪ শতাংশের বেশি নয়।

অর্থসূচক/বিএন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ