মসলার দাম আরও বাড়ার আগেই মনিটরিংয়ের দাবি
শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মসলার দাম আরও বাড়ার আগেই মনিটরিংয়ের দাবি

আমিদানি কম হওয়ার কারণে মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকট একটি অজুহাত মাত্র। মূলত কোরবানি ঈদের আগমন উপলক্ষ্যেই মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এই পরিস্থিতিতে মসলা জাতীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আগেই বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং প্রয়োজন বলে মনে করছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। তারা জানান, এখন মনিটরিং জোরদার করলে মসলা জাতীয় পণ্যের দাম আর বাড়বে না। বরং অসাধু উপায়ে বাড়ানো দাম আবার কমে যাবে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশ থেকে মসলা জাতীয় পণ্যের রপ্তানি অনেক বেড়েছে। একইসঙ্গে সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে প্রশাসন। আর এতেই মরিচ, হলুদসহ মসলাজাতীয় প্রায় সব পণ্যের দামই বাড়ছে।

Spice Products

মসলা জাতীয় পণ্য।

বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আলী অর্থসূচককে বলেন, গত এক বছর ধরে প্রায় সব ধরনের মসলা জাতীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। গত রমজানসহ বিভিন্ন সময়ে শুধু পেয়াঁজ ও রসুনের দাম বেড়েছিল। বাজার মনিটরিংয়ের পর তা আবার সাধ্যের মধ্যে নেমে আসে। কিন্তু আসন্ন কোরবানি ঈদের কারণে মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন আমদানিকারকরা।

চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ মসলার বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাইকারি বাজারে মানভেদে মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০-১৮২ টাকায়। গত বছর এমন সময়ে এর দাম ছিল ৮০-১১০ টাকা। বর্তমানে ভালো মানের ভারতীয় মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৮২ টাকায়; যা গত কোরবানির ঈদের আগে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

মরিচের পাশাপাশি বছরের ব্যবধানে হলুদের দামও কেজিতে ১০-২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি হলুদ ১২৩-১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও গত কোরবানিতে বিক্রি হয়েছিল ৯৮-১২০ টাকা দরে। ভারতীয় হলুদের দামও বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জ বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি পেয়াঁজ ১৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চায়না রসুন ১৪২ টাকা এবং দেশি রসুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৭৮০-৮২৫ টাকা দরে; যা গত কোরবানি ঈদে ৬৭০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। গত বছর ২৮৫-৩০৫ টাকার মধ্যে জিরা বিক্রি হলেও এখন তা ৩১৫-৩৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলা জাতীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আগে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজার মনিটরিংয়ের মত প্রকাশ করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স ইসমাইল ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী মো. সেকান্দার অর্থসূচককে বলেন, রমজানের ঈদের পর আন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম কিছুটা কমেছে। এস পণ্যের দাম আরও কমতে পারে- এমন আশায় আমদানি কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে বাজারে মসলা জাতীয় পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিক থাকলেও দাম বাড়ছে।

খাতুনগঞ্জের মসলা জাতীয় পণ্যের ব্যবসায়ী মঞ্জুর মোরশেদ তালুকদার জানান, আসন্ন কোরবানের ঈদে মরিচ, হলুদ, জিরা ও এলাচের চাহিদা বাড়বে। তাই এখন এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

রেয়াজউদ্দনি বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, আমদানিকারকরা কম আমদানির অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। ফলে কম দামে বিক্রি করতে পারছেন না খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাই খুচরা ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে পণ্য কেনার আগেই প্রশাসনের বাজার মনিটরিং শুরু করা উচিত।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস.এম. নাজের হোসাইন জানান, রমজানে প্রশাসনের বাজার মনিটরিং ছিল। তাই ভোগ্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে ছিল। এখন বাজার মনিটরিং করলে কোরবানির ঈদে প্রয়োজনীয় মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়বে না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান জানান রমজানের মতো কোরবানির ঈদের আগেও মনিটরিং শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর বিষয়ে আমরা অনুসন্ধান করছি।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ