‘জঙ্গিদের গাইবান্ধার চরে প্রশিক্ষণ দেন রায়হান’

রায়হান কবির- ছবি ডিএমপির ফেসবুক ফেজ থেকে নেওয়া।

রাজধানীর কল্যাণপুরে নিহত রায়হান কবীর জঙ্গিদের প্রশিক্ষক ছিলেন। তিনি গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গি নিবরাসদের গাইবান্ধার চলে প্রশিক্ষণ দেন। রায়হান কবির ওরফে তারেক নামের এই তরুণ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ঢাকা অঞ্চলের সমন্বয়েকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

পুলিশের ভাষ্য, রায়হান রংপুরের পীরগাছার শাহজাহান কবিরের ছেলে। তিনি আশুলিয়ায় পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ছুরিকাঘাতে কনস্টেবল হত্যার ঘটনাতেও জড়িত ছিলেন।

রায়হান কবির- ছবি ডিএমপির ফেসবুক ফেজ থেকে নেওয়া।
রায়হান কবির- ছবি ডিএমপির ফেসবুক ফেজ থেকে নেওয়া।

মঙ্গলবার ভোরে যৌথবাহিনীর ১ ঘন্টা  অভিযানে কল্যাণপুরে নিহত হয় ৯ জঙ্গি। গতকাল পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকে ৭ জনের পরিচয় মিলেছে বলে জানানো হয়। আজ আরেক জনকে শনাক্ত করার কথা জানানো হয়।

তারা হলেন- দিনাজপুরের আব্দুল্লাহ (২৩), পটুয়াখালীর আবু হাকিম নাইম (২৪), ঢাকার ধানমণ্ডির তাজ-উল-হক রাশিক (২৫), ঢাকার গুলশানের আকিফুজ্জামান খান (২৪), ঢাকার বসুন্ধরার সেজাদ রউফ অর্ক (২৪), সাতক্ষীরার মতিউর রহমান (২৪) এবং নোয়াখালীর জোবায়ের হোসেন (২২)।

ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল বলেন, কল্যাণপুর অভিযানে নিহত জঙ্গি আকিফুজ্জামান (পিতা সাইফুজ্জামান) পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর মোনায়েম খানের নাতি। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

অর্ক এবং রাশিকও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আর রায়হান, আব্দুল্লাহ ও নাঈম পড়াশোনা করেছেন মাদ্রাসায়।

“রায়হান কবিরের ছদ্মনাম তারেক। সে আশুলিয়ার বারুইপাড়ায় পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত ছিল এবং পুলিশের খাতায় তার নাম লেখা ছিল তারেক বলে। তাকে পুলিশ খুঁজছিল।”

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুলের দাবি এ বছরের প্রথম দিকে জেএমবির কয়েকজন সংগঠক পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ার পর সংগঠনটির ঢাকা অঞ্চলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন রায়হান ওরফে তারেক।